বিএসএমএমইউতে দুই লাখে কিডনি প্রতিস্থাপন

ঢাকা, রবিবার, ১৮ আগস্ট ২০১৯ | ২ ভাদ্র ১৪২৬

বিএসএমএমইউতে দুই লাখে কিডনি প্রতিস্থাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক ১:৩৮ অপরাহ্ণ, মে ০৫, ২০১৯

print
বিএসএমএমইউতে দুই লাখে কিডনি প্রতিস্থাপন

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) কিডনি প্রতিস্থাপনে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা থেকে ২ লাখ টাকার মতো ব্যয় হয়। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন পর্যন্ত ৫৩৯ জন রোগীর কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। কিডনি প্রতিস্থাপনকৃত রোগীদের ৯৫ শতাংশ কমপক্ষে ১ বছর, ৮২ শতাংশ কমপক্ষে ৫ বছর এবং ৭৮ শতাংশ কমপক্ষে ১০ বছর পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন বা বেঁচে রয়েছেন। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সঙ্গে এটা সামঞ্জস্যপূর্ণ।

গতকাল শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইপনা অডিটোরিয়ামে ‘রেনাল ট্রান্সপ্ল্যান্টেশনস অ্যান্ড রিকনস্ট্রাকটিভ স্টেট অব ২০১৯’ শীর্ষক সেমিনারে বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুর রহমান দুলাল এ তথ্য জানান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া। সভাপতিত্ব করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ কে এম খুরশিদুল আলম।

সেমিনারে আরও জানানো হয়, কিডনি দাতাদের মধ্যে মহিলাদের সংখ্যা ৬০ শতাংশ ও পুরুষদের সংখ্যা ৪০ শতাংশ। দাতাদের বেশির ভাগের বয়স ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে (৩৩.৮ শতাংশ)। উপস্থাপিত প্রবন্ধ বলা হয়, ১৯৯৯ সাল থেকে ২০১৯ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানে ১৭৬০ জন রোগীর কিডনি প্রতিস্থাপন হয়েছে। এর মধ্যে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত হয়েছে ৪০ জন রোগীর।

এছাড়া কিডনি প্রতিস্থাপন হয়েছে ২০০৮ সালে ১১৬, ২০০৯ সালে ১৪২, ২০১০ সালে ১৫৭, ২০১১ সালে ১১৪, ২০১৩ সালে ১৪৫, ২০১৪ সালে ১৩৮, ২০১৬ সালে ১২২, ২০১৭ সালে ১৪৫ এবং ২০১৮ সালে ১৩০ জন রোগী উল্লেখযোগ্য। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানে এ পর্যন্ত ১৮০৩ জন রোগীর কিডনি প্রতিস্থাপন হয়েছে।

এর মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে কিডনি প্রতিস্থাপন হয়েছে ৫৩৯ জন রোগীর, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজিতে ৫২৯ জন রোগীর, কিডনি ফাউন্ডেশনে ৪৬২ জন রোগীর ও বারডেমে ১১৫ জন রোগী উল্লেখযোগ্য। অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুর রহমান দুলাল জানান, বর্তমানে সংক্রামক ব্যাধি ছাড়াও ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ কিডনি অকার্যকারিতার অন্যতম কারণ। কিডনি সুস্থ রাখতে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। ভেজাল খাবার অবশ্যই প্রতিরোধ করতে হবে। ব্যথানাশক ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া খাওয়া যাবে না। যে কোনো সংক্রমণ হলে বা শরীরে ইনফেকশন শুরু হলে শুরুতেই চিকিৎসা নেওয়াসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএসএমএমইউ উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেছেন, রোবটিক সার্জারি এখন সময়েরই দাবি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউরোলজি বিভাগে রোবটিক সার্জারি চালুর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তা করা হবে। রোবটিক সার্জারি এবং জন্মগত ত্রুটিসহ বিভিন্ন জটিল সমস্যায় আক্রান্ত যৌনাঙ্গের চিকিৎসা বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ভারতের ককিলাবেন দিরুবাই আম্বানি হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ইউরোলজিস্ট ডা. সঞ্জয় পাণ্ডে সঞ্চালনা করেন বিএসএমএমইউয়ের সহকারী অধ্যাপক ডা. কার্তিক চন্দ্র ঘোষ।