প্রবীণদের স্বাস্থ্য ও করণীয়

ঢাকা, বুধবার, ২২ মে ২০১৯ | ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

প্রবীণদের স্বাস্থ্য ও করণীয়

প্রফেসর ডা. সামনুন এফ তাহা ১২:৩৭ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৪, ২০১৯

print
প্রবীণদের স্বাস্থ্য ও করণীয়

শৈশবের সোনালি সকাল শেষ করে তারুণ্য আর যৌবনের রোদেলা দুপুর পাড়ি দিয়ে, মাঝ বয়সের ব্যস্ত বিকালটাও যখন ও চলে যায়, তখনই জীবন সায়াহ্নের গোধূলিবেলা হয়ে আসে বার্ধক্য। এই সময়টা আসলে মানবজীবনের শেষ অধ্যায়। আমাদের সমাজে বয়স্কদের স্বাস্থ্য বা অন্যান্য সমস্যা নিয়ে আমরা আসলে তেমন কিছু ভাবি না। বয়স্করা তো আমাদের পরিবারের সৌন্দর্য। তাদের দিকে আমাদের গুরুত্ব দেওয়া উচিত। কারণ তারা পরিবারের শ্রদ্ধার পাত্র। তারা অসুস্থ থাকলে গোটা পরিবারেই অশান্তি নেমে আসে। এ জন্য প্রথম থেকেই তাদের স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতন থাকতে হয়। তা ছাড়া মানুষের বয়স যত বাড়ে মানুষ তত একাকী হয়ে পড়ে। এটা বয়স্কদের জন্য পীড়াদায়ক। সুতরাং যতটা সম্ভব তাদের সঙ্গ দেওয়া উচিত। বয়স্ক লোকের সাধারণত যেসব সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে সেগুলো হলো

উচ্চ রক্তচাপ
মধ্য বয়সের পর থেকে পুরুষ ও মহিলাদের উচ্চ রক্তচাপ হওয়ার সম্ভাবনা শুরু হয়। উচ্চ রক্তচাপের অনেক ক্ষেত্রেই লক্ষণ থাকে না। কিন্তু উচ্চ রক্তচাপের কারণে রোগীর হার্ট, কিডনি, রক্তজালিকা ও শরীরের অন্যান্য অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই সতর্ক থাকতে হবে। লবণযুক্ত খাবার, মিষ্টি, মাংশ, কোল্ডড্রিঙ্কস প্রভৃতি খাবার নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ছোট মাছ, মৌসুমি ফল, শাকসবজি খাওয়া একান্ত প্রয়োজন। ধূমপান ও মদ্যপান ছেড়ে দিতে হবে।

ডায়াবেটিস
রক্তে শর্করার পরিমাণ প্রয়োজনের তুলনায় বেশি থাকলে আমরা তাকে ডায়াবেটিস বা মধুমেয় বলে থাকি। ডায়াবেটিস হলেও অনেক সময় লক্ষণ দেখা যায় না। কিন্তু ডায়াবেটিস হলে শরীর ভেঙে যায়, নার্ভ দুর্বল হয়, চোখ, হার্ট, কিডনি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। পায়ে ঘা হলে, যদি ডায়াবেটিস থাকে, তাহলে আলসার হয়ে যায়। নিয়ন্ত্রিত সুষম আহার, নিয়মিত শরীর চর্চা এই রোগকে নিয়ন্ত্রিত করে।

অপুষ্টি
বয়স্কদের প্রায় সবারই অপুষ্টিজনিত অসুখ-বিসুখ দেখা যায়। যা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই লক্ষ করা হয় না। শরীরের ইমিউনিটি ও মাংসপেশি দুর্বল হয়ে পড়ে। বয়স্করা প্রায়ই খেতেও ভুলে যায়। ডিপ্রেশন, নিয়ন্ত্রিত খাদ্য ব্যবস্থা, উপার্জনহীনতা, অসামাজিকতা ইত্যাদি কারণে তাদের নানা ধরনের অসুখ-বিসুখ ও সমস্যা দেখা দেয়। ফলে এ ক্ষেত্রে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনতে হবে এবং একাকিত্বের সমস্যা দূর করতে হবে। তাহলে অনেকটা স্বাভাবিক অবস্থা বজায় রাখা সম্ভব হবে।

এছাড়াও বয়স্কদের আরও কিছু অসুখ যেমন ডিমেনসিয়া, পারকিনসন, কমনিদ্রা, লাং ইত্যাদির সমস্যার জন্য নিয়মিত ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

লেখক : প্রবীণরোগ বিষেশজ্ঞ, এমবিবিএস (ঢাকা), এমআরসিপি (ইউকে), ডিপ্লোমা ইন জেরিয়াট্রিক মেডিসিন (লন্ডন)