বাবার জন্য ভালোবাসা

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

গল্প

বাবার জন্য ভালোবাসা

গোলাম মোর্তুজা ১:৩৮ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১২, ২০১৯

print
বাবার জন্য ভালোবাসা

মোটা কাচের চশমাটা যুতসই করে লেগে থাকে স্বপ্নিলের চোখের সাথে। স্বপ্নিল দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে। সে সময়েই একদিন বাবা শফি পেটের দায়ে সৌদি আরবে পাড়ি দেন। মধ্যাহ্নের সূর্যটা ছিল অবাধ্য, কোনোভাবেই থামিয়ে রাখা গেল না। স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে দেখে, বাবা নেই! দু’তিন দিন মন খারাপ করে থাকলেও অবশেষে কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে উঠল স্বপ্নিল।

প্রতিদিন ও বন্ধু নাদুসের সঙ্গে কলাপাতা দিয়ে ঘর বানিয়ে খেলাধুলা করে। খেলতে খেলতে একদিন নাদুস বলে, ‘তোর বাবা নাই, আমার বাবা আছে। কী মজা কী মজা।’ সেদিন স্বপ্নিল মায়ের কাছে দৌড়ে গিয়ে বলল, ‘মা, বাবা কবে আসবে?’ এ কথা বলতেই শুকনো নদীর মতো হয়ে গেল জেরিন। নিজেকে সামলে নিয়ে ছেলেকে বললেন, কিছু দিনের মধ্যেই আসবে।’

তারপর কত দিন চলে গেছে রাতের আঁধারে। মাস চলে গেছে বছরের গহীনে। অতঃপর দু’বছর পর খবর এলো আসছেন শফি। একদিন রাতের অন্ধকার ছিঁড়ে এলেন বাড়িতে। বাবা-ছেলের মিলে সবাই তাজ্জব, এক অমায়িক বন্ধনে আবদ্ধ। স্কুলও ছুটি। বাবার আনা কাপড় পরে গ্রামময় টো টো করে ঘুরে আর বলে, এই দ্যাখ এটা আমার বাবা এনেছে।

শফির ছুটি একমাস। একদিন জেরিনকে বললেন, ‘একমাস ছুটি নিয়েছিলাম, তাতো শেষ।’ স্বপ্নিল দরজায় ঠেস দিয়ে দাঁড়িয়ে বাবার কথা শোনে। শামুকের মতো নিজেকে গুটিয়ে নেয়। ঘরে ঢুকে মায়ের পাশে চুপচাপ-নির্বাক থাকে। শফির যাবার দিনেও স্বপ্নিল বিছানা থেকে ওঠেনি। কেবলি বিড়বিড় করে কী যেন বলে। ছেলের অভিমানের পালা শেষ হবার নয়। ছেলেকে বুকে জড়িয়ে ধরে বললেন,‘বাবা, আমি তো আবার আসব। কিছুদিনের মধ্যেই আসব।’ বাবা শফির কথা শেষ হতে না হতে স্বপ্নিল হাউমাউ করে কেঁদে ফেলে। চোখ ডলতে ডলতে বলে, আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি বাবা। তুমি ছাড়া আমার সময় যায় না, ভালো লাগে না।’ জেরিনের বুকে সূঁচের মতো কী যেন বিঁধে। স্বপ্নিলকে বুকে তুলে নেয়। শফি হেঁটে চলে গন্তব্যের খোঁজে।