নবীনদের অপেক্ষায় শাবিপ্রবি

ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

নবীনদের অপেক্ষায় শাবিপ্রবি

রুমান হাফি ২:২৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ০৭, ২০১৮

print
নবীনদের অপেক্ষায় শাবিপ্রবি

এরই মধ্যে ভর্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। আবার অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা এখনো শুরু হয়নি। উচ্চ মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়ে সব শিক্ষার্থী চায় নিজের পছন্দ কিংবা সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনা করতে। এর মধ্যে শিক্ষার্থীদের অন্যতম পছন্দের তালিকায় থাকে বাংলাদেশের তথা দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

১৯৮৬ সালের ২৫ আগস্ট প্রতিষ্ঠিত হয় দেশের প্রথম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিদ্যালয় শাবিপ্রবি। হাঁটি হাঁটি পা পা করে ২৭টি বছর অতিক্রম করল। ১৯৯১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি মাত্র তিনটি বিভাগ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় তার অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শুরু করে, বর্তমানে ৬টি অনুষদের অধীনে তার রয়েছে ২৮টি বিভাগ। ২৭ বছরে অসংখ্য ও অগণিত অর্জন আছে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের, যা কেবল দেশব্যাপী নয় সুনাম কুড়িয়েছে আন্তর্জাতিক পরিসরেও।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী তাসনিমা ফেরদৌস বলছিলেন, ‘উচ্চ শিক্ষায় সবারই ইচ্ছা থাকে ভালো কোনো প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া। এ ক্ষেত্রে শাবিপ্রবি অনেকের কাছেই পছন্দের তালিকায় শীর্ষে। এর অন্যতম কারণ, ক্যাম্পাসের পরিবেশ আর সর্বোচ্চ মানের পড়ালেখার বিষয়টা তো আছেই। তবে অন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এখানে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন অনেকটাই ভিন্ন হয়। বলতে গেলে একটু বেশি ক্রিটিকাল। এক্ষেত্রে চোখ-কান খোলা রেখে পরীক্ষা দিতে হবে। নিজের লালিত স্বপ্নের বাস্তবায়নে হাজার হাজার পরীক্ষার্থীকে পেছনে ফেলে মেধা তালিকায় স্থান করে নিতে হবে।’

ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী শাহ লোকমান চৌধুরী জানান, এইচএসসি তে রেজাল্ট আশানুরূপ না হওয়াতে অনেকেই মন খারাপ করে বসে থাকেন। এটা ভুল। অনেক ভালো অ্যাকাডেমিক রেজাল্ট থাকা সত্ত্বেও চান্স হয় না। এ ক্ষেত্রে ভর্তি পরীক্ষায় নিজের সেরাটা দেওয়াই হচ্ছে আসল কাজ। আমাদের ক্যাম্পাসে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় সিট সংখ্যা কম। বিশেষ করে মানবিক বিভাগে। তবে আশার দিক হচ্ছে, এখানে প্রতিবছরের রেজাল্টের তুলনামূলক বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে খুব কম মার্কস পেয়েই বেশির ভাগের চান্স হয়। এ জন্য পরীক্ষায় খুব সচেতনভাবে উত্তর দেওয়ার বিকল্প নেই।

নয়নাভিরাম সৌন্দর্য আর টিলাবেষ্টিত অরণ্যে ঘেরা বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অনন্য এক ক্যাম্পাস। প্রধান ফটক দিয়ে ভেতরে ঢুকতেই দীর্ঘ এক কিলোমিটার রাস্তার দু’পাশে সারি সারি মেহগনি, কড়ই, জারুল ও নারিকেল গাছের সারির দুপাশে লেক বাড়িয়ে দিয়েছে এর আবেগ। রাস্তার মাঝ বরাবর নাগেশ্বর গাছ লাগিয়ে তৈরি করা হয়েছে ডিভাইডার।

এছাড়া নবনির্মিত ড. ওয়াজেদ মিয়া আইআইসিটি ভবন, বঙ্গবন্ধু চত্বর, চেতনা একাত্তর ও দৃষ্টিনন্দন সুউচ্চ শহীদ মিনার শেষ প্রলাপ দিয়েছে এর সৌন্দর্যে। শাহজালালের স্মৃতিবিজড়িত ৩৬০ আউলিয়ার পূন্যভূমি চায়ের দেশ সিলেট। শান্তিপ্রিয় মানুষ আর শান্তির শহর তোমাদের অপেক্ষায়...।