করোনাকালে রেকর্ড পরিমাণ চেক হস্তান্তর

ঢাকা, রবিবার, ৭ মার্চ ২০২১ | ২২ ফাল্গুন ১৪২৭

শিক্ষক কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট

করোনাকালে রেকর্ড পরিমাণ চেক হস্তান্তর

সালেহা খাতুন ১২:৩৩ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২১

print
করোনাকালে রেকর্ড পরিমাণ চেক হস্তান্তর

বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট এ দেশের বেসরকারি পাঁচ লক্ষাধিক শিক্ষক কর্মচারীর সর্বশেষ আশ্রয়স্থল। এমন একদিন ছিল সারা জীবন শিক্ষকতা করেও শেষ জীবনে তারা শূন্য হাতে বাড়ি ফিরতেন। তারা তখন কোনো আর্থিক সুবিধা পেতেন না। স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা চাঁদা উঠিয়ে শিক্ষকদের বিদায় অনুষ্ঠানে তাদের প্রিয় শিক্ষকদের হাতে তুলে দিতেন ছাতা, জায়নামাজ, টুপি, তসবিহ, লাঠি প্রভৃতি। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে আজ শিক্ষকদের জীবনমানের পরিবর্তন হয়েছে। এখন আর তাদের শূন্য হাতে বাড়ি ফিরতে হয় না।

একজন বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীও এখন সরকারি অনুরূপ ১০০% বেতন ভাতা, ৫% ইনক্রিমেন্ট, ২০% বৈশাখী ভাতা এবং সরকারি অনুরূপ না হলেও সম্মানজনক পেনশন সুবিধা পাচ্ছেন। এদেশের ৯৮% শিক্ষা বেসরকারি ব্যবস্থায় পরিচালনা হয়ে থাকে। বেসরকারি শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা না হলে শিক্ষার মানও বাধাগ্রস্ত হবে।

শিক্ষকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৯০ সালের ১ জুলাই থেকে কল্যাণ ট্রাস্ট চালু করা হয়। কিন্তু ১৯৯১ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত কল্যাণ ট্রাস্ট বন্ধ করে রাখা হয়েছিল। ১৯৯৭ সালে আবার কল্যাণ ট্রাস্ট চালু করা হয়। সেই থেকে কল্যাণ ট্রাস্ট বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীদের সেবা প্রদান করে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রথম থেকেই আর্থিক সংকট মোকাবিলা করে যাচ্ছে। আর্থিক সংকটের প্রধান কারণ ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত কল্যাণ ট্রাস্টের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় দীর্ঘ ছয় বছর কল্যাণ ফান্ডে শিক্ষকদের প্রদত্ত চাঁদা জমা না হওয়া, পরবর্তীতে ২০০২ সালে শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে চাঁদা আদায় বন্ধ রাখা, ২০০৯ সালে বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন ৬২% এবং ২০১৫ সালে জাতীয় বেতন স্কেলে ১০০% বেতন বৃদ্ধি এবং কল্যাণ ট্রাস্ট আইন অনুযায়ী বর্ধিত বেতন স্কেলে কল্যাণ সুবিধা প্রদান করতে গিয়ে এই আর্থিক সংকট দেখা দেয়। উক্ত সংকট নিরসনে কল্যাণ ট্রাস্ট কর্তৃপক্ষ সরকারের কাছে এক হাজার কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দ চাইলেও বর্তমান সরকার কল্যাণ ট্রাস্টের জন্য ৩৬০ কোটি বিশেষ বরাদ্দ পায়।

এ ব্যাপারে কল্যাণ ট্রাস্টের সচিব ও স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মো. শাহজাহান আলম সাজু বলেন, বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীদের দুর্দশার কথা বিবেচনা করে শিক্ষাবান্ধব সফল রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা সরকার কল্যাণ ট্রাস্টের জন্য বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া এবং চাঁদার পরিমাণ বৃদ্ধির ফলে কল্যাণ ট্রাস্টের জমাকৃত প্রায় পঁয়ত্রিশ হাজার আবেদনের মধ্যে বিপুল সংখ্যক আবেদন নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়েছে কিন্তু এখনো অনেক আবেদন অনিষ্পন্ন রয়েছে। তিনি বলেন, ২% চাঁদা বৃদ্ধির ফলে এখন প্রতিমাসে কল্যাণ ট্রাস্টে যে পরিমাণ টাকা জমা হয় তা দিয়ে কল্যাণ সংকট অনেকটাই মিটে যাবে। এখন যদি এককালীন প্রায় ৭০০-৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয় তাহলে দুই থেকে তিন মাসের মধ্যেই শিক্ষক কর্মচারীদের কল্যাণ ট্রাস্টের আবেদন নিষ্পত্তি করা সম্ভব। সেই লক্ষ্য নিয়েই তারা এগিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান অধ্যক্ষ শাহজাহান আলম সাজু।

জাতির এই দুঃসময়ে ঐতিহাসিক মুজিব জন্মশত বার্ষিকীকে স্মরণীয় করে রাখতে ‘মুজিব বর্ষের প্রতিশ্রুতি-কল্যাণ সুবিধা দ্রুত নিষ্পত্তি’ স্লোগানকে ধারণ করে সর্বোচ্চ সেবা প্রদানের লক্ষ্যে ট্রাস্টি বোর্ডের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ছুটি ভোগ থেকে বিরত থেকে মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। সরকারি ছুটির দিনেও তারা অফিস করে যাচ্ছেন। গত ৪ মাসে ৫ হাজার ২৫ জন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক কর্মচারীকে ইএফটির মাধ্যমে ২২৫ কোটি টাকা কল্যাণ সুবিধা নিজ নিজ অ্যাকাউন্টে প্রদান করা হয়েছে।