বাধা পেরিয়ে স্বপ্ন পূরণের পথে বিউটি

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল ২০২১ | ৬ বৈশাখ ১৪২৮

বাধা পেরিয়ে স্বপ্ন পূরণের পথে বিউটি

আশিক ইসলাম ৩:২৩ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২১

print
বাধা পেরিয়ে স্বপ্ন পূরণের পথে বিউটি

জীবনে নানা বাধা, ঘাত-প্রতিঘাত পেরুতে হয় সব মানুষকেই। কেউ অল্পতে হাল ছেড়ে দেন, থেমে যান। কেউ থামেন না। কোনো বাধাই দমিয়ে রাখতে পারে না তাদের। সব বাধা পেরিয়ে যারা সফল হন, তারাই অদম্য মেধাবী। আর এই সফলতার গল্পগুলো মানুষকে স্বপ্ন দেখায়, হয়ে ওঠে অনেকের অনুপ্রেরণা। তাদেরই একজন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী বাসিরাতুন জান্নাত বিউটি।

জন্ম থেকে দুটো হাত নেই তার। আছে শুধু দুটো পা। দুই হাত না থাকায় জন্মের পর দেখেছেন জীবনের কঠিন বাস্তবতা। তারপরও থেমে যাননি তিনি। ইচ্ছে ছিল ভালোভাবে লেখাপড়া করে মানুষের মতো মানুষ হবেন। তার ইস্পাত কঠিন মনোবল, অদম্য উৎসাহ, প্রবল ইচ্ছাশক্তি আর একনিষ্ঠতা, তার কাছে কোনো প্রতিবন্ধকতা বাধা হতে পারেনি। কেউ তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। পা দিয়ে লিখেই নিজের যোগ্যতায় জায়গা করে নিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। জয়পুরহাট জেলার ক্ষেতলাল উপজেলার শিবপুর গ্রামের বায়েজিদ ও রহিমা দম্পতির গরিব ঘরের মেধাবী বিউটি। তার বাবা একজন কৃষক, মা গৃহিণী। পরিবারের পাঁচ সদস্যদের মধ্যে বিউটি সবার ছোট। ছোটবেলা থেকেই লেখাপড়ার প্রতি প্রচন্ড আগ্রহী ছিলেন তিনি। হাত না থাকলেও দুই পায়ের জোরে (পা দিয়ে লিখে) পিএসসি, জেএসসি, এসএসসি পরীক্ষায় পেয়েছেন জিপিএ-৫। এইচএসসিতে পেয়েছেন ‘এ’ গ্রেড। এখন পড়ছেন দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে বিনোদপুরের মির্জাপুর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকেন বিউটি ও তার মা। করোনাভাইরাসের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় এখন বাড়িতে অবস্থা করছেন তারা। বিউটির মা রহিমা বেগম বলেন, আমার মেয়ের সমস্যা থাকার কারণে সবসময় মেয়ের সঙ্গেই থাকতে হয়। সকালে মেয়েকে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে যাই সঙ্গে করে আবার নিয়ে আসি। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় এখন বাসা ছেড়ে দিয়ে নিজ বাড়িতেই থাকছি। প্রথমে মেয়েকে নিয়ে অনেক চিন্তিত ছিলাম। এখন স্বপ্ন দেখছি, আমার মেয়ে একদিন জজ হবে।

ছোটবেলায় শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দেখলেও বিউটি এখন স্বপ্ন দেখেন আইনজীবী হওয়ার। তিনি বলেন, এসএসসি শেষ করার পর স্বপ্ন দেখতাম শিক্ষক হব। এখন যেহেতু আইন বিভাগে পড়ছি সে সুবাধে দেশের স্বনামধন্য একজন আইনজীবী হওয়ার ইচ্ছে তো রয়েছেই। ভবিষ্যতে কি করব বা কি হব এখনো সেভাবে ভাবিনি। এখন মনে হয় জজ হব। তবে এমন কিছু করব যার মাধ্যমে মানুষের সেবা করতে পারব।
বিউটি আরও বলেন, আমার এতদূর আসার পেছনে সবসময় পরিবার সাপোর্ট দিয়েছে। তারা যদি আমাকে সহযোগিতা না করত তাহলে আমি আজকে এই অবস্থানে আসতে পারতাম না। সেই ছোটবেলায় স্কুল জীবন থেকেই শিক্ষক, বন্ধুদের অনেক সাহায্য পেয়েছি। আমার পরিবার, প্রতিবেশী সবাই আমাকে অনেক সাপোর্ট করেছে। সবার ভালোবাসা ও সহযোগিতায় আজ আমি এতদূর আসতে পেরেছি।

তার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক হাসিবুল আলম প্রধান বলেন, সাংবাদিক ও বিভাগের শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে তার সম্পর্কে জেনেছি। করোনা মহামারীর কারণে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরাসরি তাকে দেখার সুযোগ হয়নি। সে আমাদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। হাজার প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও সে পিছিয়ে যায়নি। প্রতিবন্ধী হলেই যে কিছু করা যায় না, সে প্রথাকে সে ভেঙে দিয়েছে। আমাদের বিভাগে ভর্তি হয়েছে তার জন্য আমরা গর্বিত। বিভাগের পক্ষ থেকে তার জন্য অবশ্যই অনেক কিছু করার আছে। বিভাগের পক্ষ থেকে যতটুকু সহযোগিতা করা যায় সে চেষ্টা আমরা সব সময় করব।