বিশ পেরিয়ে একুশে

ঢাকা, শনিবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২১ | ৩ মাঘ ১৪২৭

বিশ পেরিয়ে একুশে

তানভীর আহম্মেদ, যোবায়ের ইবনে আলী ও মহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ ২:৪৫ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ০৩, ২০২১

print
বিশ পেরিয়ে একুশে

দেখতে দেখতে ২০ পেরিয়ে এখন একুশে। শিক্ষার্থীশূন্য ক্যাম্পাস একটি বছর কালের গহ্বরে হারিয়ে গেল। তবে নতুন বছরে দীপ্ত আলোয় অন্ধকার মুছে যাবে, সে প্রত্যাশা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের। অনলাইনে পড়াশোনা-ক্লাস-পরীক্ষা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা ছিল বছর জুড়েই। বিদায়ী বছর অনেক কিছুই শিখিয়েছে। পুরনো বছরের প্রাপ্তি এবং নতুন বছরের প্রত্যাশা নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভাবনা তুলে ধরেছেন তানভীর আহম্মেদ, যোবায়ের ইবনে আলী ও মহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ। 

কৃষক এবং শ্রমজীবীদের প্রতি নজর দিন
আজাহার ইসলাম : শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া
রেমিট্যান্স এবং পোশাকশিল্প যথেষ্ট সহায়তা করেছিল বলেই অর্থনৈতিক অবস্থার ওপরে তেমন একটা প্রভাব ফেলতে পারেনি করোনা। কিন্তু বিপত্তিটা বাঁধে ফসল বিক্রির সময়। দিন শেষে দেখা যায় তারা দ্রব্যমূল্যের ন্যায্য মূল্য পায় না। যাদের আমরা এদেশের প্রাণ বলে থাকি। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের যথাযোগ্য মর্যাদা না পাওয়ায় জীবন ধারণ কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই ২১-এ চাওয়া আমাদের এই কৃষি প্রধান দেশে কৃষকের দুর্দশা দূরীকরণে সরকার অগ্রণী ভূমিকা রাখবে।

পুরনো থেকে শিক্ষা নিয়ে এগোতে হবে
রিদুয়ান ইসলাম : শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
বছরটিতে প্রাপ্তির চেয়ে হারানোর বেদনাই ছিল বেশি। হারানোর দিকটা বলতে গেলে প্রথমেই আসবে ক্যাম্পাসে থেকে বিচ্ছিন্ন প্রায় একটি বছর। আর প্রাপ্তির দিকটা বলতে গেলে প্রথমেই আসবে মা বাবাকে বড় হওয়ার পর সবচেয়ে বেশি কাছে পাওয়া, বিরক্তিকর অনলাইন ক্লাস, মহামারী করোনাভাইরাস, বিষাদময় কিছু দিনসহ এমন কঠিন ও বিভীষিকাময় পরিস্থিতি পাড়ি দেওয়ার অভিজ্ঞতা। নতুন বছরে বিগত দিনের এই শিক্ষাগুলো বাস্তবায়নে সচেষ্ট হতে হবে।

বিচারব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রিতা অবসান হোক
আ.র.ফারুকী : শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
আমরা জানি না অনাগত ভবিষ্যতে আমাদের জন্য কী অপেক্ষা করছে। তবে আশা তো আমরা করতেই পারি। গত বছর, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ছিল চোখে পড়ার মতো। পদ্মা সেতু, বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কসহ নানাবিধ অবকাঠামোগত উন্নয়ন। রেমিট্যান্স বৃদ্ধি, রিজার্ভ বৃদ্ধিসহ আমাদের মাথাপিছু জিডিপি ও আয় দুটোই বেড়েছে। বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থার যে দীর্ঘসূত্রিতা সেটার অবসান এখনো ঘটেনি। শিক্ষাঙ্গনকে রাজনীতিমুক্ত নয় বরং শিক্ষাঙ্গনে সুস্থ রাজনীতির ধারা গড়ে তুলতে হবে।

রেমিট্যান্স খাতে নজরদারির ধারা অব্যাহত থাকুক
বায়েজিদ মাহমুদ : শিক্ষার্থী, সরকারি ব্রজমোহন কলেজ
২০২০ সালের মার্চের পর থেকে আমাদের দেশ করোনা মহামারির প্রকোপে উদ্বিগ্ন আর উৎকণ্ঠায় দুঃসহ সময় পার করেছে। অনলাইন ক্লাসসহ সরকারের নানা কার্যক্রমে আমরা কিছুটা হলেও ক্ষতি পোষাতে সক্ষম হয়েছি। আমরা জানি বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকা শক্তি হলো রেমিট্যান্স এবং পোশাক শিল্প। করোনা পরিস্থিতিতে পোশাক শিল্পে বেশ ভাটা পরে, যদিও সরকারের যথাযথ ব্যবস্থার কারণে আমরা সে সংকট অনেকটাই কাটিয়ে উঠেছি। শিক্ষা, অর্থনীতি, বিচারব্যবস্থাসহ সব দুর্বলতা নিরসনে সরকার কাজ করছে, এ ব্যাপারে আমরা আশাবাদী।

বাস্তবমুখী শিক্ষা অর্জন করতে হবে
অনন্য প্রতীক রাউত : শিক্ষার্থী, আইন বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
নতুনভাবে আবিষ্কার করার এক বছর ছিল ২০২০।
মহামারী আমাদের জীবনে নতুনত্বের সৃষ্টি করেছে, শিখিয়েছে মানবিকতা, পাশে দাঁড়ানোর নৈতিক শিক্ষা, তুলে ধরেছে জগতের নির্মম বাস্তবতাকে। বিশ^বিদ্যালয় জীবনে থাকার সুযোগ না হলেও ঘরে বসে অনলাইন ক্লাস শিখিয়েছে পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার মতো সক্ষমতাকে।
শত দূরাবস্থায় ২০ শিখিয়েছে মানিয়ে চলার মতো বাস্তবমুখী শিক্ষা, যা হবে ২১ এ দূর্বার গতিতে এগিয়ে চলার মূলমন্ত্র।

হতাশায় দিন কেটেছে সবার
সানজিদা মাহমুদ মিষ্টি : শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
জীবন নদীর শান্ত গতিপথ হঠাৎ যেন আটকে যায় করোনা নামক ভাইরাসের বাঁকে। বছর জুড়ে মানসিক হতাশায় দিন কেটেছে সবার। প্রবাহমান এই সময়ের দুনিয়ায় কালের বিস্তারে ২০২১ এ আবারও সবাই এক নতুন দিগন্তের পথে ডানা মেলবে। সকলের স্বপ্নগুলো নতুন বছরে নতুন করে জাগ্রত হবে। নতুন করে আবারো সবাই ভালোবাসার উষ্ণতা ছড়িয়ে দিবে সবার মনে। দূরত্বের গতিপথে দেখা দেবে ঘনঘটা। নতুন বছরে প্রিয়জনের মুখে হাসি ফুটুক এই প্রত্যাশা সবার।

প্রাপ্তির ঝুড়িটা একেবারে খালি নয়
রুকাইয়া মিজান মিমি : শিক্ষার্থী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
করোনাকালীন সময়ের বড় বাধা বন্দিকালীন দূরাবস্থার জন্য সৃষ্টি হওয়া মানসিক অস্থিরতা। দৃঢ় পারিবারিক বন্ধন গড়া, মানবিকতার মহিমা ও পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব এ সবই নতুন করে শিখিয়ে গেল বছরটি। রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তন সঙ্কটসহ নানামুখী চ্যালেঞ্জ পাড়ি দিয়ে পদ্মা সেতু দৃশ্যমান, করোনা ভ্যাকসিন উৎপাদন, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি, মানবসূচক উন্নয়ন ও বিভিন্ন প্রণোদনা বাস্তবায়নের দ্বারাই ২০২০ দুঃসময়কে জয় করতে শিখিয়ে গেছে। ২০২০ এর শেখা ও ২১-এর প্রত্যয় হোক-ডিজিটাল বাংলাদেশে স্বনির্ভরতায়, ভালোবাসায় এগিয়ে যাওয়ার প্রয়াস।

দারিদ্র্যমুক্ত হোক দেশ
তানজিলা আক্তার লিজা : ফার্মেসি বিভাগ, ডিআইইউ
২০২০ এর করোনার করাল গ্রাস দ্রুতই শেষ হয়ে যাক, এটাই বড় চাওয়া। সঙ্গে ২০২১ সাল হোক দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ। অন্যায়-অত্যাচার, ধর্ষণমুক্ত একটি সোনার বাংলাদেশ। খবরের পাতায় যেন পড়তে না হয় কোনো মেয়ে লাঞ্ছনার শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেছে। দেশবাসীর কাছে প্রার্থনা, করোনা থেকে নিজে বাঁচতে ও অন্যকে বাঁচাতে মাস্ক পড়ুন, নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। সকলের জীবন সুন্দর হোক, সার্থক হোক।

প্রাণের ক্যাম্পাস কোলাহলে মেতে উঠুক
শুভঙ্কর চন্দ্র দে : শিক্ষার্থী, গণ বিশ্ববিদ্যালয়
নতুন বছর মানেই নতুন স্বপ্ন, নতুন পথচলা, নতুন প্রত্যাশা। নতুন ভোর নিয়ে আসুক ২০২১ এই কামনা করি। মুছে যাক বিশ্বজুড়ে ব্যাধি। ফের হোক সুস্থতার কোলাহল। কালের গহ্বরে ঢুকে যাক মরণ ভাইরাস করোনা। পৃথিবীতে কমে আসুক অস্ত্রের ঝনঝনানি, নতুন করে হোক মনুষ্যত্ব বোধের সূচনা। সর্বোপরি পৃথিবীটা হয়ে উঠুক মানুষের স্বর্গরাজ্য। প্রাণের ক্যাম্পাস কোলাহলে মেতে উঠুক তার চিরচেনা মুখগুলো নিয়ে। বিগত বছরগুলোর ভুলগুলো থেকে প্রাপ্ত শিক্ষা কাজে লাগিয়ে তৈরি হোক নতুন অধ্যায়।

সকলের জন্য আশীর্বাদ হোক নতুন বছর
সাদিয়া আফরিন মৌরী : আইন বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।
নতুন বছর হোক সুস্থ, সুন্দরে ভরা পরিপূর্ণ পৃথিবী। সবুজ, নির্মল পরিবেশের এক অনন্য নিদর্শন ! গত বছরের সকল অপ্রাপ্তি, দুঃখ-কষ্ট, শোকের ছায়া যেন ২১ সালে স্পর্শ না করে। আর যেন শুনতে না হয় মারামারি, হানাহানি, নির্যাতন, অমানুষিকতা, ধর্ষণর কোনো খবর। সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্রগুলো পুনরায় সচল হয়ে যাক, ব্যস্ত শহর পুনরায় ছেয়ে যাক ব্যস্ততায়। ২০২১ সালটা যেন সকলের জন্য আশীর্বাদ বয়ে নিয়ে আসে।

নতুনভাবে শুরু হোক সবকিছু
হাবিবুর রহমান : শিক্ষার্থী, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
নতুন বছরে সবার একটাই চাওয়া, নতুনভাবে শুরু হবে সবকিছু। আমার ক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম নয়। এই চাওয়াটা যেন পাওয়াতে রূপান্তরিত হয়, এই কামনা করি। একজন বাংলাদেশি হিসেবে সুখী, স্বনির্ভর ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ দেখতে চাই। যেখানে দুর্নীতি, ধর্ষণ, অনিয়ম আর ক্ষমতার অপব্যবহার থাকবে না। করোনায় গৃহবন্দি একঘেয়েমি জীবন থেকে বের হয়ে এসে আবারও ক্যাম্পাসের সবুজ ঘাসে হাঁটতে চাই।

শুভ দিনবদলের সাক্ষী হোক নতুন বছর
খাদিজা খানম উর্মি : শিক্ষার্থী, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
করোনার কারণে গেল বছরের বার্তা মোটেও শুভ ছিল না আমাদের কাছে। তাই নতুন বছরের আগমনী বার্তা জগতে হাসি ফিরিয়ে আনুক, সর্বপ্রথম এটাই কাম্য। যৌন নির্যাতন, ধর্ম নিয়ে রেষারেষি আর দুর্নীতি মুছে যাক নতুন বছরের আলোয়। শুভ হোক নতুন বছরের আগমনী বার্তা।