করোনাকালে অনলাইনে পাঠদান যৌক্তিক ও ফলপ্রসূ

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৯ মার্চ ২০২১ | ২৪ ফাল্গুন ১৪২৭

সাক্ষাৎকার

করোনাকালে অনলাইনে পাঠদান যৌক্তিক ও ফলপ্রসূ

ওয়ালিয়ার রহমান ৪:৫৭ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৩, ২০২০

print
করোনাকালে অনলাইনে পাঠদান যৌক্তিক ও ফলপ্রসূ

বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখনো বন্ধ। তবে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পোষাতে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী অনলাইনে পাঠদান কার্যক্রম চলছে। অনলাইন ক্লাসের যৌক্তিকতা, সীমাবদ্ধতা ও করণীয় সম্পর্কে কথা বলেছেন একেএম রহমত উল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. হাবিবুর রহমান ভূঞাঁ। তিনি বলেন, অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমের সীমাবদ্ধতা থাকলেও করোনাকালে এই পদ্ধতি যৌক্তিক ও ফলপ্রসূ। এর মাধ্যমে ডিজিটাল শিক্ষা কার্যক্রমে দেশ একধাপ এগিয়ে যাবে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন- ওয়ালিয়ার রহমান

করোনাকালে অনলাইন ক্লাসের বাস্তবতা এবং চ্যালেঞ্জগুলো কী?
হাবিবুর রহমান ভূঞাঁ : উন্নত দেশসমূহের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দিকে তাকালে দেখা যায় তাদের একাডেমিক পড়াশোনার বড় একটি অংশ অনলাইননির্ভর। তারা সেটাতে আগে থেকেই অভ্যস্ত। কিন্তু আমাদের দেশের বিষয়টা ভিন্ন। আমাদের একাডেমিক বিষয়গুলো নতুন করে অনলাইনের আওতায় নিয়ে আসা একটু কঠিন তবে অসম্ভব নয়। আমি মনে করি করোনা মহামারীর এই বৈশ্বিক সংকটে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমের বিকল্প কিছু নেই। এই পদ্ধতি যৌক্তিক ও ফলপ্রসূ । তবে এতে বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতাও রয়েছে। প্রথমত আমাদের শিক্ষার্থীদের বেশিরভাগই গ্রামে বসবাস করে। সেখানে পর্যাপ্ত নেটওয়ার্ক সুবিধা না থাকায় তাদের এই প্লাটফর্মে নিয়ে আসা কঠিন। অনেক ক্ষেত্রে নেটওয়ার্ক সমস্যা না হলেও, অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল হওয়ায় অনেকের উপযুক্ত ডিভাইস নেই। অনেকের জন্য দ্রুতগতি সম্পন্ন ইন্টারনেট সুবিধা না পাওয়া একটি বড় সমস্যা।

করোনাকালে আপনার প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সম্পর্কে কিছু বলেন।
হাবিবুর রহমান ভূঞাঁ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শিতায় নির্মিত ডিজিটাল বাংলাদেশ। তথ্য প্রযুক্তির বিভিন্ন ডিভাইস কাজে লাগিয়ে অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো অনলাইন ক্লাস পরিচালনা করছি। আমাদের কলেজের বেশিরভাগ শিক্ষকই কম্পিউটার ট্রেইন্ড। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দফতর আয়োজিত প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল অ্যাক্টিভিটির সঙ্গে সম্পর্ক এবং মাল্টিমিডিয়া ক্লাস গ্রহণের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তারা বিভিন্নভাবে অনলাইন ক্লাস পরিচালনা করতে শুরু করে মার্চ মাস থেকেই। কিন্তু প্রথমাবস্থায় বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতে কিছুটা বিলম্ব হয়। ধীরে ধীরে সমস্যা কেটে যায়।

একেএম রহমত উল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির সদস্যগণ বিশেষ করে কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা একেএম রহমত উল্লাহ এমপি মহোদয়ের আন্তরিকতা ও কঠোর নির্দেশনায় কলেজের অনলাইন শিক্ষাকার্যক্রম সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কিভাবে অনলাইন পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করছেন?
হাবিবুর রহমান ভূঞাঁ : সরকার প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে সামর্থ্য অনুযায়ী অনলাইন পাঠদান চালিয়ে যেতে নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রতি বিষয়ে সপ্তাহে কয়টি ক্লাস কোন পদ্ধতিতে হচ্ছে তা নিয়মিত সরকারকে জানাতে নির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা প্রথমদিকে ক্লাস রেকর্ড করে তার রেকর্ড ভিডিও কলেজের ফেসবুক পেজে পোস্ট করছি। তাছাড়া ফেসবুক লাইভ ক্লাস হচ্ছে। রেকর্ডকৃত ক্লাস ইউটিউবে পোস্ট করা হয়। বর্তমানে জুম ও গুগল মিট অ্যাপের মাধ্যমে অনলাইন ক্লাস নেওয়া হচ্ছে।

অনলাইন ক্লাস পরিচালনায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কোন সমস্যা হচ্ছে?
হাবিবুর রহমান ভূঞাঁ : একেএম রহমত উল্লাহ কলেজে বেশিরভাগ শিক্ষার্থী গরিব ও মধ্যবিত্ত। প্রতিষ্ঠাতা মহোদয় উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণি ও স্নাতক (পাস) কোর্সে বিনা বেতনে অধ্যয়নের সুব্যবস্থা করেছেন। অনার্স ও মাস্টার্সে নামমাত্র ভর্তি ও টিউশন ফি ধার্য করা আছে। শিক্ষার্থীদের বেশিরভাগেরই স্মার্ট ফোন ও ল্যাপটপ ব্যবহারে সক্ষমতা নেই। নেই প্রযুক্তিজ্ঞান। যাদের আছে তাদের ইন্টারনেট ব্যবহার ব্যয়বহুল হওয়ায় পিছিয়ে আছে। নেটওয়ার্ক নিয়েও সমস্যার অন্ত নাই। শিক্ষকগণ যাদের বাসায় ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক আছে তাদেরও নেট ব্যয় অতিরিক্ত। তাছাড়া শিক্ষকগণ করোনা ঝুঁকি নিয়ে কলেজে এসে অনলাইন ক্লাস নিতে আসতে হচ্ছে। বলতে গেলে শিক্ষক-শিক্ষার্থী উভয়কেই সমস্যার মধ্য দিয়ে শিক্ষাকার্যক্রম চালাতে হচ্ছে।

অনলাইন ক্লাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কেমন?
হাবিবুর রহমান ভূঞাঁ : ভার্চুয়াল ক্লাসে শিক্ষার্থী উপস্থিতি সন্তোষজনক নয়। আমরা উপস্থিতি বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছি।

অনেক শিক্ষার্থীই নানা সমস্যার কারণে ক্লাসে উপস্থিত থাকে না। তাদের জন্য আপনাদের কোনো ভূমিকা...
হাবিবুর রহমান ভূঞাঁ : আমাদের শিক্ষকবৃন্দকে নির্দেশনা দিয়েছি উপস্থিতি সন্তোষজনক হারে বৃদ্ধির জন্য অভিভাবকদের সঙ্গে মতবিনিময় করা। স্বাস্থ্য বিধিমালা মেনে অনলাইনে বিভিন্ন পরীক্ষা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি।

বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে আপনাদের কোনো কার্যক্রম...
হাবিবুর রহমান ভূঞাঁ : স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি।

মুজিব জন্মশত বার্ষিকীর শুরুর দিকে আমরা অনেক উদ্যোগ নিয়েছিলাম। লাইব্রেরিতে মুজিব কর্নার স্থাপন, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার ইতিহাস ভিত্তিক বই সংগ্রহ করেছি। বিভিন্ন সভা সেমিনার ওয়েবিনার এর ব্যবস্থা করছি। বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন, রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে নেওয়ার কাজ হাতে নিয়েছি। শিক্ষার্থীদের স্বাধীনতার সঠিক ইতিহাস জানানোর পাশাপাশি জাতির পিতার কর্মময় মহান জীবনের ওপর তথ্যাদি প্রদান করার জন্য উদ্যোগ নিয়েছি।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আপনার পরামর্শ...
হাবিবুর রহমান ভূঞাঁ : সময় ও স্রোত কারও জন্য অপেক্ষা করে না। তোমাদের বসে থাকার সুযোগ নেই। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বাসায় থেকে পড়াশোনা করতে থাকো এবং জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধি করার আপ্রাণ চেষ্টা করো। আল্লাহর রহমতে করোনা সংক্রমণ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসলেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হবে। তখন পরীক্ষা মোকাবিলা করতে হবে। সামর্থ্য অনুযায়ী অনলাইন ক্লাস ও পরীক্ষা চালিয়ে যেতে অনুরোধ করছি।