তারুণ্যের বিজয় ভাবনা

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৯ মার্চ ২০২১ | ২৪ ফাল্গুন ১৪২৭

তারুণ্যের বিজয় ভাবনা

মামুন সোহাগ ৪:৪৮ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৩, ২০২০

print
তারুণ্যের বিজয় ভাবনা

ডিসেম্বর, অহংকার আর গৌরবের মাস; আমাদের বিজয়ের মাস। ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরেই সূচনা হয় বাঙালির নবজীবনের। ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে পরাভূত হয় পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী। আমরা পেয়েছি লাল সবুজের পতাকা। স্বাধীন বাংলাদেশ। বিজয়ের মাসে কী ভাবছেন তরুণরা? তাদের ভাবনা নিয়ে লিখেছেন- মামুন সোহাগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের মো. শাহ্ নেওয়াজ বলেন, ডিসেম্বর হচ্ছে অহংকার, স্বাধীনতার পর থেকে এই পর্যন্ত দেশের নানা অর্জন থাকলেও ১৯৭১ সালে যে উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে এই দেশের মানুষ স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল, আজ বিজয়ের ৪৯ বছর পরও সেই উদ্দেশ্য সম্পুর্ণভাবে পূরণ হয়নি। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, দুর্নীতিসহ নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে কাক্সিক্ষত উন্নয়ন এখনো দেখতে পাইনি, অর্জন করতে পারেনি স্বাধীনতার মূল উদ্দেশ্য। আমাদের বিজয় সেদিনই সফল হবে; যেদিন মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে কাজে লাগিয়ে সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে এগিয়ে যাবে দেশ, সেদিন থাকবে না কোনো দুর্নীতি, থাকবে না কোনো অনাহারী, থাকবে না মৌলিক অধিকারে কোনো বাধা, থাকবে না অশিক্ষিত মানুষ। পৃথিবীর মানচিত্রে লাল-সবুজের বাংলাদেশ হবে নবজাগরণে উদ্দীপ্ত বাংলাদেশ।

রাজধানীর তিতুমীর কলেজ শিক্ষার্থী নাজিয়া বিনতে বলেন, এ বছর আমরা পুরো পৃথিবী করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করছি। যার ফলে সেই পরিসরে বিজয় দিবস কিংবা বিজয়ের মাস সেভাবে পালিত হবে না। বাংলাদেশের ইতিহাসে লড়াই কিংবা চ্যালেঞ্জ এর অভাব নেই এবারও করোনাভাইরাস প্রতিরোধে বিশাল বড় একটি চ্যালেঞ্জ এর মুখোমুখি আমরা। তবে আমরা তরুণ সমাজ এই সময়ে বিজয় দিবস উপলক্ষে নানান উদ্যোগ নিতে পারি যাতে বিজয়ের মাসের গুরুত্ব যেকোনো অবস্থানে পালিত করে পুরো পৃথিবীর সামনে তুলে ধরতে পারি।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক মো. সাঈদ মাহাদী সেকেন্দার বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাস এক সংগ্রামের ইতিহাস। রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে আমাদের অর্জিত বিজয় নিশ্চয়ই গৌরবের। ডিসেম্বর আসলেই বিজয় কেতন বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের মনে নবরুপে উড়তে থাকে।

মুক্তিযুদ্ধের মূল দর্শন ছিল অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও অর্থনৈতিক সাম্যের দেশ গড়া।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত বাংলা কলেজ শিক্ষার্থী তানিয়া মুক্তি বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ। ১৯৭১-এ ৩০ লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে ছিনিয়ে আনা এই দেশ এই বিজয়। বিজয় মানে হলো এমন একটি দেশ, যেখানে থাকবে না কোনো বৈষম্য এবং থাকবে মতপ্রকাশের পূর্ণ স্বাধীনতা। এখন সময় সকল অক্ষমতা জয় করে, দেশ ও দেশের মানুষকে সামনে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রেরণা তৈরির।

লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজ শিক্ষার্থী জুনাইদ আল হাবিব বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময়কার তরুণদের চেতনার সঙ্গে আজকের তরুণদের একটা মিল খুঁজে পাওয়া যায়। আজকের তরুণরা হয়তো মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে পারেনি। কিন্তু প্রতিনিয়ত মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে এ তরুণরা লালন করছে। বিজয়ের এ মাসে একজন তরুণ হিসেবে প্রত্যাশা করি, দেশটা যেন বেকারত্বের গ্লানি থেকে মুক্তি পায়। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী তিতলি দাস বলেন, দেশের অগ্রযাত্রায় তরুণদের ভূমিকা বরাবরই ব্যাপক প্রাধান্য পেয়েছে।

অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে, নিপীড়িতকে বিচার পাইয়ে দিতে, এমনকি নিজেদের অধিকারকে বাস্তবায়নে রূপ দান করতে তরুণরা সর্বদাই হয়ে উঠেছে বজ্রকণ্ঠী।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী আসিফ আহমেদ বলেন, স্বাধীনতা মানে শুধু একটি রাষ্ট্র বা একটি সরকার ব্যবস্থা নয় বরং দেশকে পৃথিবীর বুকে সমৃদ্ধির সুবর্ণ শিখরে আরোহণ করা। যেখানে তরুণদের ভূমিকা ও কৃতিত্ব অনস্বীকার্য। সজীব ও তরুণ মস্তিষ্কের লক্ষ্য পূরণে প্রয়োজন শুধু সুন্দর প্লাটফর্ম ও সুস্থ মস্তিষ্কের বসবাসযোগ্য সমাজচিন্তা নতুবা ইন্টারনেটের অপব্যবহার এবং ফেসবুক ও মোবাইল আসক্তে বিলীন হয়ে যাবে তারুণ্যশক্তি, মেধাশূন্য হয়ে পড়বে সমাজ ও সভ্যতা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ শিক্ষার্থী শারমিন আক্তার বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে বর্তমান তরুণ সমাজের নানাবিধ চিন্তা রয়েছে।

তবে একজন তরুণ সমাজের প্রতিনিধি হয়ে আমার মনে হচ্ছে আমরা আজ কেবল নিজেকে নিয়ে, নিজের উন্নতি, নিজের ক্যারিয়ার এসবের ভাবনাতেই মগ্ন। আমাদের অধিকাংশের চিন্তা আজ যেন সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে। বর্তমান করোনা পরিস্থিতি আমাদের জন্য কোনো এক যুদ্ধ অপেক্ষা কম নয়। কঠিন পরিস্থিতির ভয়াবহতা নিয়ে সকলকে সচেতন করতে পারে, চাইলেই নিজেদের চিন্তাভাবনাকে কাজে লাগিয়ে ঘরে বসে দেশ ও দেশের মানুষ এর জন্য নানাবিধ উন্নয়ন কাজ করতে পারে।