৪২ বছরে ইবি

ঢাকা, শনিবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২১ | ১০ মাঘ ১৪২৭

শুভ জন্মদিন

৪২ বছরে ইবি

আবু তালহা আকাশ ১২:২৯ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২২, ২০২০

print
৪২ বছরে ইবি

স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের প্রথম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। ২২ নভেম্বর এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪২তম জন্মদিন। বিগত ৪১ বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে গৌরবোজ্জ্ব¡ল ইতিহাস ও ঐতিহ্য। অন্যান্য বছরগুলোতে নানা উৎসব ও অনুষ্ঠান পালন করা হলেও করোনা মহামারীর কারণে এবারে নেই কোনো উৎসব-অনুষ্ঠান। বিশ্ববিদ্যালয় দিবসে ভিসি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ভাবনা তুলে ধরছেন- আবু তালহা আকাশ

প্রফেসর ড. রেবা মন্ডল
আইন বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।
প্রতিটি ইউনিভার্সিটি ইউনিভার্সাল নোশনের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ও তার ব্যতিক্রম নয়। মূলত বিশ্ববিদ্যালয় একটি সর্বজনীন জ্ঞান চর্চার মুক্ত স্থান। ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়’ নাম মানেই এর অর্থ এই নয় যে, এখানে শুধুমাত্র ইসলামিক জ্ঞান চর্চা করা হয়। এখানে সকল বিষয়ের মুক্ত চর্চা করা হয়। আমি দীর্ঘ ২১ বছর থেকে এখানে যেটা দেখছি এখানে শিক্ষার্থীদের মানসিকতা, মনুষ্যত্ব, চিন্তা, চেতনা, মনন, দর্শন, মানবীয় কর্তব্য, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্ব এগুলো জানাতে বোঝাতে এবং শেখাতে বিভিন্ন সেমিনার সিম্পোজিয়ামের আয়োজন করা হয়। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালন করে তার স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে প্রকৃত শিক্ষাই আমাদের শিক্ষার্থীদের দেওয়া হয়।

প্রফেসর ড. মো. আনোয়ার হোসেন
অধ্যাপক ও বিভাগীয় চেয়ারম্যান
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ।
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ৪১তম বছর পেরিয়ে ৪২তম বছরে পদার্পণ করছে। এ সুদীর্ঘ সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি যে উচ্চ মাত্রায় পৌঁছানোর কথা ছিল নানান সীমাবদ্ধতার কারণে সেখানে বর্তমান সময় অবধি এখনো যেতে পারেনি। বিষয়টি ভেবে কষ্ট পাই। তবে আশা জাগে এই ভেবে যে, এখানকার মেধাবী শিক্ষকগণ তাদের মেধা, মনন, দক্ষতা ও ন্যায়নিষ্ঠতা নিয়ে স্ব স্ব দায়িত্ব পালন করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইস্পিত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পূরণ সম্ভব হবে। এক্ষেত্রে আমাদের প্রধান দাবিদার ছাত্র-ছাত্রী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও আন্তরিক হতে হবে।

মো. আখতার হোসেন আজাদ
শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করার সুযোগ পেয়ে আমি গর্ববোধ করি। প্রতিষ্ঠার পর থেকে নানা চড়াই উৎরাই পেরিয়ে ৪২ বছরে পা দিয়েছে দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ এই বিদ্যাপীঠ। শিক্ষা, গবেষণা, সংস্কৃতি, খেলাধুলাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অবদান থাকলেও বেশ কিছু বিষয়ে অপ্রাপ্তির তৃৃষ্ণা রয়েছে। শত বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে শিক্ষা, গবেষণা ও বিভিন্ন গঠনমূলক কাজে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সফলতার মাত্রা ছাড়িয়ে যায় এই প্রত্যাশা করছি।

মোস্তাফিজুর রহমান
শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।
বিশ্ববিদ্যালয়েরর ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আমাদের প্রাণের দাবি ইবিকে সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত, সম্পূর্ণ আবাসিক সুবিধা নিশ্চিত, জ্ঞান ও সাংস্কৃতিক চর্চার উর্বর ক্ষেত্র হিসাবে গড়ে তোলা। বিশেষ করে দুই শহরের বাইরে হওয়ায় ক্যাম্পাসের ছাত্র-ছাত্রীদের টিউশনিসহ নানা প্রয়োজনে তাদের প্রতিনিয়ত শহরে যেতে হয়। যার জন্য পরিবহন সমস্যাটা অনেক বড় একটা সমস্যা। কুষ্টিয়া থেকে ঝিনাইদহ শাটল ট্রেন চালুকরণ এবং ভাড়া গাড়ির পরিবর্তে পরিবহন পুলে স্বনির্ভরতা অর্জন যেন সময়ের দাবি। এছাড়াও সেশনজট মুক্ত করে শিক্ষাপদ্ধতির উন্নয়নে প্রশাসনের সুদূরপ্রসারী মানোন্নয়নেরও প্রয়োজন।

এস এ এইচ ওয়ালিউল্লাহ
শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।
প্রতিষ্ঠার গত ৪১ বছরে নানা প্রতিকূলতা পার করতে হয়েছে প্রতিষ্ঠানটিকে। প্রতিষ্ঠার এত দিনেও দূর হয়নি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসন সঙ্কট। এছাড়াও পরিবহন সমস্যা, যুগোপযোগী শিক্ষার অভাব, মাত্রাতিরিক্ত ভর্তি ফি বৃদ্ধি এবং শিক্ষকদের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিবাদ নির্দেশ করে এখনো প্রত্যাশার অনেক কিছুই অপূর্ণ। তবে বাধা ডিঙিয়ে প্রাণের বিশ্ববিদ্যালয়ের জয়গান প্রতিধ্বনিত হোক দিকদিগন্তে।

সুমনা শোভা
শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।
২২ নভেম্বর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। আমি মনে করি করোনা মহামারী এই পরিস্থিতি কাটিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ আরও শিক্ষাবান্ধব হয়ে উঠবে। একদিন সৌন্দর্যের পাশাপাশি শিক্ষার গুণগত মানের দিক দিয়েও সেরা হিসেবে বিবেচিত হবে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়টি। প্রতি বছর সেশনজট মুক্ত, শিক্ষাবান্ধব, সুন্দর পরিবেশে হাজার খানেক শিক্ষিতরা সুশিক্ষিত মানুষ হয়ে সুনাম বয়ে আনবে প্রাণের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের।

উপাচার্যের কথা

প্রফেসর ড. শেখ আব্দুস সালাম
উপাচার্য, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্মদিন এটা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবাবের সদস্য হিসেবে আমাদের সবারই একটি আনন্দের ব্যাপার। বিশেষ করে ছাত্র-শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী আমাদের সকলের ভিতর খুশি এবং আমেজের চেতনা তৈরি হয়। তবে আমেজের এই চেতনা অবশ্যই হতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, সৃজন ও বিতরণকে কেন্দ্র করে। এই চেতনাকে কেন্দ্র করেই যেন আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নতি সাধনের একটি সুখময় স্বপ্ন দেখি। যেন শিক্ষা সৃজন ও বিতরণের ক্ষেত্রে আমরা সকলে স্ব স্ব অবস্থান থেকে আন্তরিকতার সঙ্গে নিবিড়ভাবে সেই ভূমিকাই রাখতে পারি। করোনাকালীন সময়ে হয়তো আমাদের উদযাপন কম থাকবে কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্মদিন উপলক্ষে আনন্দময় অনুভূতির একটুও কমতি থাকবে না। জন্মদিন মানে তার বয়স এক বছর বৃদ্ধি পাওয়া, এই বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে যেন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় সমৃদ্ধ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয় এটাই আমাদের প্রত্যাশা ও কামনা।