দুঃসময়েও শিক্ষকদের পাশে থাকার চেষ্টা করছি

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২১ | ১৫ মাঘ ১৪২৭

দুঃসময়েও শিক্ষকদের পাশে থাকার চেষ্টা করছি

ওয়ালিয়ার রহমান ১২:৫৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০১, ২০২০

print
দুঃসময়েও শিক্ষকদের পাশে থাকার চেষ্টা করছি

অধ্যক্ষ মো. শাহজাহান আলম সাজু একজন শিক্ষক নেতা। স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক। তিনি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের সচিব হিসেবে চতুর্থ মেয়াদে দায়িত্ব পালন করছেন। বৈশ্বিক মহামারী করোনাকালেও এই শিক্ষক নেতা শিক্ষকদের পাশে থেকে কাজ করছেন। তিনি শিক্ষাব্যবস্থার গুণগত উন্নয়ন, শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা বৃদ্ধি, করোনাকালে কল্যাণ ট্রাস্টের কার্যক্রম, শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছেন। সাক্ষৎকার নিয়েছেন- ওয়ালিয়ার রহমান

বৈশ্বিক মহামারী করোনাকালীন কল্যাণ ট্রাস্টের কার্যক্রম নিয়ে কিছু বলুন-
অধ্যক্ষ শাহজাহান আলম সাজু : বৈশ্বিক মহামারী কোভিড-১৯ করোনার শুরুতে যখন সারা বিশ্ব চরমভাবে বিপর্যস্ত তখন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক কর্মচারীদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের কর্মকাণ্ড চালু ছিল। প্রথম দিকে আমরা কর্মকর্তা কর্মচারীদের গ্রুপ করে করে দায়িত্ব বণ্টন করে দিয়েছি। চরম এই দুঃসময়ের মধ্যেও একদিনের জন্যও আমাদের অফিস বন্ধ থাকেনি। এ সময়ে প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষক কর্মচারীর মধ্যে প্রায় সাড়ে তিনশ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে।

করোনার এই দুঃসময়ে আপনি কিভাবে শিক্ষকদের কল্যাণ সুবিধা প্রদান করছেন?
অধ্যক্ষ শাহজাহান আলম সাজু : করোনার এই চরম সংকটের মধ্যেও কল্যাণ ট্রাস্টের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দিয়ে সেবা করে গেছেন। তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশের স্বার্থে কাজ করে গেছেন। আমরা ভেবেছি শিক্ষকরা স্বল্প আয়ের মানুষ। চাকরি জীবনে তাদের সঞ্চয়ের খুব একটা সুযোগ থাকে না। অবসর গ্রহণের পর মানুষ গড়ার কারিগর এসব সম্মানিত শিক্ষকরা চরম আর্থিক সংকটে নিপতিত হন। তাই আমরা সবসময় তাদের কল্যাণ ট্রাস্টের পাওনা কিভাবে দ্রুত মিটিয়ে দেওয়া যায় সেই চেষ্টা করি। করোনায় যেহেতু দেশে আর্থিক অবস্থা চরম সংকটের সম্মুখীন হয় তখন আমরা চেষ্টা করেছি এই দুঃসময়ে যতটা সম্ভব শিক্ষকদের পাশে থেকে তাদের পাওনা যতটা সম্ভব বুঝিয়ে দিতে।

শোনা যায় শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধা পেতে বিলম্ব হয়, এর কারণ কি?
অধ্যক্ষ শাহজাহান আলম সাজু : কল্যাণ এবং অবসর বোর্ডের সংকট বিদ্যমান রয়েছে। উক্ত সংকটের অনেকগুলো কারণ রয়েছে। সংস্থা দুইটি শিক্ষক কর্মচারীদের প্রদত্ত চাঁদার টাকায় পরিচালিত হয়ে থাকে। প্রতিমাসে চাঁদা হিসেবে যে টাকা জমা হয় তার অনেক বেশি টাকা শিক্ষক কর্মচারীদের দিতে হয়। ফলে প্রতিনিয়তই অনিষ্পত্তি আবেদনের সংখ্যা বাড়তে থাকে। কল্যাণ ট্রাস্টে আর্থিক সংকটের অনেকগুলো কারণ আছে। কল্যাণ ট্রাস্ট চালু হয় ১৯৯০ সালের ০১ জুলাই। কল্যাণ ট্রাস্টের আইন অনুযায়ী বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীরা তাদের মূল বেতনের ২% টাকা চাঁদা হিসেবে কল্যাণ তহবিলে জমা করতে হয়। বিনিময়ে তিনি অবসরে গেলে সর্বশেষ বেতন অনুযায়ী যত বছর চাকরি করেছেন তত মাসের ( প্রতি বছর ০১ মাস হিসাবে) কল্যাণ সুবিধা পান। তবে এই চাঁদা বাধ্যতামূলক নয়। কেউ চাঁদা না দিলে তিনি কল্যাণ সুবিধা দাবি করতে পারবেন না। কল্যাণ ট্রাস্টে আর্থিক সংকটের বেশ কিছু কারণ রয়েছে- 

এক. কল্যাণ ট্রাস্ট চালুর হওয়ার ৬ মাস পর ১৯৯১ সালে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত যতদিন বিএনপি সরকার ক্ষমতায় ছিল ততদিন কল্যাণ ট্রাস্টের কর্মকা- বন্ধ ছিল। ১৯৯৭ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে কল্যাণ ট্রাস্ট পুনরায় চালু করা হয়। বেগম খালেদা জিয়া সরকারের ভুল সিদ্ধান্তে বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীদের শেষ জীবনের আশ্রয়স্থল কল্যাণ ট্রাস্টে চাঁদা সংগ্রহ ০৬ বছর বন্ধ থাকায় এ সময়ে ফান্ড থেকে প্রায় ২০০ কোটি টাকা কমে যায়। সেদিন কল্যাণ ট্রাস্টের কর্মকাণ্ড বন্ধ করা না হলে এই টাকা ব্যাংকে জমা থাকলে তা আজ কয়েকশ’ কোটি টাকা হতো।

দুই. কল্যাণ ট্রাস্টের আইন অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে বছরে ০৫ (পাঁচ) টাকা চাঁদা কল্যাণ ফান্ডে জমা হওয়ার কথা ছিল। ১৯৯১-৯৬ পর্যন্ত কল্যাণ ট্রাস্টের কর্মকাণ্ড বন্ধ থাকায় এ টাকাও কল্যাণ ট্রাস্টের ফান্ডে জমা হয়নি। এছাড়া ২০০২ সালে বিএনপি সরকার সংসদে আইন করে শিক্ষার্থীদের সেই পাঁচ টাকা চাঁদাও বন্ধ করে দেওয়ার ফলে (১৮+৬) ২৪ বছরে কল্যাণ ট্রাস্টের ফান্ড থেকে কয়েকশ’ কোটি টাকা কমে যায়।

তিন. কল্যাণ ট্রাস্টের আইন অনুযায়ী একজন শিক্ষক কিংবা কর্মচারীর সর্বশেষ প্রাপ্ত স্কেল অনুযায়ী কল্যাণ সুবিধা প্রদান করতে হয়। জাতীয় বেতন স্কেল পরিবর্তনশীল। ফলে পরিবর্তিত বেতন স্কেলে শিক্ষক কর্মচারীদের পাওনা পরিশোধ করতে গিয়ে প্রায় ১৭/১৮ গুণ বেশি টাকা পরিশোধ করতে হয়। উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ সালে সপ্তম জাতীয় বেতন স্কেল এবং ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেল কার্যকর করা হয়। ২০০৯ সালে বেতন বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৬২% এবং ২০১৫ সালে বেতন বৃদ্ধি পেয়েছে ১০০%। সপ্তম বেতন স্কেলে একজন কলেজ কিংবা মাদরাসা অধ্যক্ষের স্কেল ছিল ২৫,০০০ (পঁচিশ হাজার) টাকা। অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেলে সেটা বৃদ্ধি পেয়ে ৫০,০০০ (পঞ্চাশ হাজার) টাকা হয়েছে। একজন কলেজ কিংবা মাদরাসা অধ্যক্ষ যদি ২০১৫ সালের ৩০ জুন অবসরে যান তিনি সপ্তম বেতন স্কেলে কল্যাণ এবং অবসর সুবিধা বাবদ পান প্রায় ২২,৫০,০০০ (সাড়ে বাইশ লাখ) টাকা।

একই সঙ্গে নিয়োগপ্রাপ্ত অন্য একজন অধ্যক্ষ যদি একদিন পর অর্থাৎ ২০১৫ সালের ১ জুলাই অবসরে যান তাহলে তিনি পাচ্ছেন ঠিক তার দ্বিগুণ অর্থাৎ প্রায় ৪৫,০০,০০০ (পঁয়তাল্লিশ লাখ) টাকা। তবে ২০১৯ সালে কল্যাণ এবং অবসর বোর্ডের চাঁদা বৃদ্ধির ফলে সেই সংকট অনেকটা কমেছে। বিশেষ করে কল্যাণ ট্রাস্টের বর্তমান পেন্ডিং আবেদনগুলো নিষ্পত্তি করতে পারলে আবেদনের তিন থেকে চার মাসের মধ্যে শিক্ষক কর্মচারীরা তাদের কল্যাণ সুবিধার টাকা পেয়ে যাবেন। মুজিব জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে আমরা বিশেষ ক্লাস প্রোগ্রাম শুরু করেছি। আগামী তিন মাসের মধ্যে পাঁচ/ ছয় হাজার আবেদন নিষ্পত্তি করার টার্গেট নিয়ে আমরা কাজ করছি। টাকার সংকট ছাড়াও কল্যাণ এবং অবসর বোর্ডের নিজস্ব অফিস না থাকা এবং নিজস্ব জনবল সংকটও একটি বড় সমস্যা। কল্যাণ ট্রাস্টে ৪৮ জন জনবল থাকলেও মাত্র ১৫/১৬ জন জনবল দিয়ে আমাদের কাজ করতে হচ্ছে। এত স্বল্প সংখ্যক জনবল দিয়ে প্রায় সাড়ে পাঁচ লক্ষ শিক্ষক কর্মচারীর সেবা দেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তাই আমরা নিজস্ব অফিস ভবনের জন্য প্রচেষ্টা চালাচ্ছি।

শিক্ষক-কর্মচারীরা আবেদন করলে স্বল্প সময়ে তাদের অবসর ও কল্যাণ সুবিধার টাকা পাওয়া কিভাবে সম্ভব?
অধ্যক্ষ শাহজাহান আলম সাজু : কল্যাণ এবং অবসর বোর্ডে চাঁদা হিসাবে প্রতি মাসে যে টাকা জমা হয় তার চেয়ে অনেক বেশি টাকা পরিশোধ করতে হয়। ফলে বিপুল সংখ্যক শিক্ষক কর্মচারীর আবেদন অনিস্পন্ন থেকে যায়। এই সংকট সমাধান করতে হলে প্রতি বছর চাহিদা অনুযায়ী বাজেটে টাকা বরাদ্দ করতে হবে। বর্তমানে কল্যাণ এবং অবসর বোর্ডে যে আবেদন অনিস্পন্ন রয়েছে তা নিষ্পত্তি করতে হলে সরকারকে এককালীন অতিরিক্ত প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দ দিতে হবে।

শিক্ষার গুণগতমান বৃদ্ধি এবং শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ এখন সময়ের দাবি, অনেক শিক্ষক সংগঠন এ জন্য আন্দোলনও করছেন। একজন জাতীয় শিক্ষক নেতা হিসেবে এ ব্যাপারে আপনার অভিমত কী?
অধ্যক্ষ শাহজাহান আলম সাজু : শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন, শিক্ষকদের মর্যাদা ও অধিকার আদায়ে আমার সংগঠন স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সোচ্চার ভূমিকা পালন করে আসছে। আমরা মনে করি বর্তমান বিশ্বের উপযোগী দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে এবং করোনা পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে একটি টেকসই শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তন করা অপরিহার্য। অবশ্য বর্তমান সরকার ইতোমধ্যে ২৬ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩২০টি কলেজ ও ২২০টি স্কুল জাতীয়করণ করেছে। বর্তমান বাস্তবতা হলো বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কমিটির অযাচিত হস্তক্ষেপে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানরা স্বাধীনভাবে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে পারছেন না। শিক্ষার মানোন্নয়নের এটা একটা বড় বাধা। শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ করা হলে কমিটির এসব অযাচিত হস্তক্ষেপ বন্ধ হবে। শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ করা হলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে রাষ্ট্র। কারণ শিক্ষা জাতীয়করণ করা হলে স্বল্প আয়ের সাধারণ মানুষের সন্তানরা স্বল্প খরচে লেখাপড়া করার সুযোগ পাবে। এতে শিক্ষার প্রতি তাদের আগ্রহ বাড়বে এবং ঝরে পড়ার হার কমবে। এছাড়া এসডিজি বাস্তবায়ন করতে হলে ২০৩০ সালের মধ্যে শিক্ষার হার শতভাগে উন্নীত করতে হবে। এসব কারণেই শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।

শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য আপনার পরামর্শ কি?
অধ্যক্ষ শজাহান আলম সাজু : শিক্ষকরা হলেন জাতির বাতিঘর। তারা অন্ধকারে আলোর দিশারি। মোমবাতি যেমন নিজে পুড়ে পুড়ে আলো বিলায় শিক্ষকরাও তেমনি নিজেরা জ্বলে জ্বলে নিঃশেষিত হয়ে সমাজকে আলোকিত করে। সুতরাং তাদের মান-মর্যাদা ও অধিকারের বিষয়টি রাষ্ট্রকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। গত ১১ বছরে বর্তমান সরকার শিক্ষা ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন করেছে। কিন্তু এখনো অনেক সমস্যা বিরাজমান রয়েছে। শিক্ষাখাতে বরাদ্দ বাড়াতে হবে। শিক্ষকদের বেতনসহ সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি হবে।

কল্যাণ ট্রাস্ট নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
অধ্যক্ষ শাহজাহান আলম সাজু : শিক্ষক কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক কর্মচারীদের সর্বশেষ আশ্রয়স্থল। শুধুমাত্র কল্যাণ সুবিধা প্রদানই একমাত্র কাজ নয়। শিক্ষক কর্মচারীদের কল্যাণে আরও অনেক কাজ করার আছে। শিক্ষক কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য বিশেষ বৃত্তির ব্যবস্থা করা যেতে পারে। চাকরিরত অবস্থায় গুরুতর অসুস্থ হলে শিক্ষকদের বিশেষ সহায়তার ও আবাসনের বিষয়টিও ভাবা যেতে পারে। যেহেতু কল্যাণ ট্রাস্টে আর্থিক সংকট রয়েছে সেহেতু আমরা বিশেষ বরাদ্দের মাধ্যমে এই সংকট সমাধানের চেষ্টা করছি। শিক্ষক কর্মচারীদের কল্যাণ এবং অবসর বোর্ডের চরম আর্থিক সংকট নিরসনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ইতোমধ্যে ১৬৭৭ কোটি টাকা বিশেষ বরাদ্দ দিয়ে দেশের শিক্ষার ইতিহাসে এক অনন্য সাধারণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। আমরা কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর বোর্ডকে আয়বর্ধক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার চেষ্টা করছি।