এগিয়ে চলার দুই বছর

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২১ | ১৫ মাঘ ১৪২৭

খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

এগিয়ে চলার দুই বছর

মোফাজ্জল হোসেন ২:০৪ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৫, ২০২০

print
এগিয়ে চলার দুই বছর

দেশের পঞ্চম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় ২০১৯ সালে। প্রাথমিকভাবে অস্থায়ীভাবে দৌলতপুর কলেজিয়েট স্কুলের একটি ভাড়া করা ভবনে শুরু হয়েছে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম। এই বছরে ধীরে ধীরে বিকশিত হচ্ছে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম। বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি শিক্ষাবর্ষে ২৭০ জন শিক্ষার্থী আছেন।

২০১১ সালের ৫ মার্চ খুলনার খালিশপুরের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুলনায় একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পরই খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সম্ভাব্যতা যাচাই করতে তৎকালীন সিটি মেয়র তালুকদার আবদুল খালেকের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি নগরীর দৌলতপুরে কৃষি সম্প্রসারণ প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের অব্যবহৃত ৫০ একর জমিসহ ব্যক্তি মালিকানাধীন ১২ একর জমি নিয়ে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠায়।

২০১৫ সালের ৫ জুলাই সংসদে ‘খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় বিল-২০১৫’ পাস হয়। এরও চার বছরের অধিক সময় পরে ২০১৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদালয়ের অধ্যাপক ড. শহীদুর রহমান খানকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপাচার্য নিয়োগ দিলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার নতুন গতি পায়। কোনো ধরনের অবকাঠামো ছাড়াই উপাচার্য কাজ শুরু করেন।

প্রাথমিকভাবে খুলনায় একটি ভাড়া করা ভবনে উপাচার্যের কার্যালয় খুলে শিক্ষার্থী ভর্তির পদক্ষেপ নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো অবকাঠামো না থাকায় খুলনা কলেজিয়েট স্কুলের ভাড়া করা ভবনে অতিথি শিক্ষক নিয়ে ২০১৯ সালের ১৭ মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিনে একাডেমিক কার্যক্রম ও শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শহীদুর রহমান খান দায়িত্ব নিয়েই বিশ্ববিদালয়ের অবকাঠামো এবং একাডেমিক উন্নয়নের দিকে মনোযোগ দেন। তিনি খুলনা অঞ্চলের আবহাওয়া ও জলাবায়ুকে প্রাধান্য দিয়ে যুগোপযোগী একাডেমিক কারিকুলাম ডিগ্রি, অনুষদ ও বিভাগের নাম নির্ধারণে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদালয়ের স্বনামধন্য শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন চৌধুরীকে প্রধান করে নয় সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করেন। উক্ত কমিটির সুপারিশে নতুন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭টি অনুষদের অধীনে ৫৩টি বিভাগের আওতায় ১২টি ডিগ্রির প্রস্তাব করা হয় এবং পাঠ্যক্রম প্রণয়ন করা হয়।

বর্তমানে বিশ্ববিদালয়ের ৫টি অনুষদে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ৩০ জন স্থায়ী শিক্ষক ও কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করণের জন্য বিভিন্ন নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।

উপাচার্যের কথা
অধ্যাপক ড. মো. শহীদুর রহমান খান, উপাচার্য খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তুলতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আমি যখন দায়িত্ব নেই তখন কিছুই ছিল না। দুই বছরের মধ্যে ৫টি অনুষদে ৩০ জন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। করোনাকালীন শিক্ষা কার্যক্রম চালু রাখতে অনলাইন ক্লাস শুরু হয়েছে।

এক আধুনিক কৃষিশিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিণত করতে একটি সম্ভাব্যতা যাচাই প্রকল্প পাস হয়েছে। স্থায়ী ক্যাম্পাসের জন্য ১৫০০ একর জমি অধিগ্রহণ, অবকাঠামো নির্মাণে মাটি পরীক্ষা, আগামী ৫০ বছরের জন্য মাস্টার প্ল্যান তৈরি, কৃষি গবেষণাসহ একগুচ্ছ পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এখানে শতভাগ আবাসিক সুবিধাসহ শিক্ষার্থীবান্ধব একটি আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।

ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ৩১৬৮ জন জনবল সম্বলিত একটি অর্গানোগ্রাম প্রণয়ন করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতটি অনুষদে ৫৩টি বিভাগের অধীনে প্রায় ৫ হাজার শিক্ষার্থী কৃষি শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ পাবে।