অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২১ | ১৫ মাঘ ১৪২৭

অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম

আলী ইউনুস হৃদয় ও ওয়াসিফ রিয়াদ ১:৪৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৫, ২০২০

print
অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম

অনলাইন শিক্ষা-কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশ এক ধাপ এগিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শাহ্ আজম (শান্তনু)। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ হওয়ার পর নানা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও তিনিই প্রথম (২৯ মার্চ) নিজ বিভাগে অনলাইন ক্লাস শুরু করেন। করোনাকালে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম কতটুকু যৌক্তিক এবং সীমাবদ্ধতা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে সাক্ষাৎকার নিয়েছেন -আলী ইউনুস হৃদয় ও ওয়াসিফ রিয়াদ

আপনার কেন মনে হলো অনলাইন ক্লাসের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে?
কোভিড-১৯ করোনাভাইরাসের প্রকোপ বৃদ্ধি পেলে এ বছর মার্চ মাসের ১৭ তারিখে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। আমার ধারণা হচ্ছিল এই ভাইরাসের প্রকোপ থেকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে অনেক সময়ের প্রয়োজন। কিন্তু শিক্ষাব্যবস্থা এতদিন বন্ধ রাখা সম্ভব নয়। এজন্য আমি ২৯ মার্চ নিজ বিভাগের শিক্ষার্থীদের নিয়ে প্রথম অনলাইনে ক্লাস শুরু করি। ছাত্র-ছাত্রীদের প্রবল আগ্রহ থাকলেও প্রথম দিকে আমি প্রাতিষ্ঠানিক কিংবা কর্তৃপক্ষীয় কোনো অনুকূল সাড়া পাইনি। পরবর্তীতে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতি নির্ধারকগণ অনলাইন ক্লাস নেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। মূলত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং শিক্ষামন্ত্রী এই পদ্ধতিতে এগোতে চেয়েছিলেন। হয়তো আমাদের এই উদ্যোগটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পিত উদ্যোগকে বাস্তবায়ন করতে বড় ভূমিকা রেখেছে।

করোনাকালে অনলাইন ক্লাসের বাস্তবতা এবং চ্যালেঞ্জগুলো কী?
উন্নত দেশসমূহের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর দিকে তাকালে দেখা যায় তাদের একাডেমিক পড়াশোনার বড় একটি অংশ অনলাইননির্ভর। তারা সেটাতে আগে থেকেই অভ্যস্ত। কিন্তু আমাদের দেশের বিষয়টা ভিন্ন। আমাদের একাডেমিক বিষয়গুলো নতুন করে অনলাইনের আওতায় নিয়ে আসা একটু কঠিন তবে অসম্ভব নয়। আমি মনে করি করোনা প্রতিমারীর এই বৈশ্বিক সংকটে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমের বিকল্প কিছু নেই। তবে এতে বেশ কিছু প্রতিবন্ধকতাও রয়েছে। প্রথমত আমাদের শিক্ষার্থীদের বেশিরভাগই গ্রামে বসবাস করে। সেখানে পর্যাপ্ত নেটওয়ার্ক সুবিধা না থাকায় তাদের এই প্লাটফর্মে নিয়ে আসা কঠিন।

দ্বিতীয়ত, অনেক ক্ষেত্রে নেটওয়ার্ক সমস্যা না হলেও, অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল হওয়ায় অনেকের উপযুক্ত ডিভাইস নেই। এছাড়াও অনলাইনে ক্লাসের জন্য প্রতি মাসে প্রায় এক হাজার টাকার ডেটা প্যাকেজ কেনাটাও অনেক শিক্ষার্থীদের জন্য কঠিন। যারা ডেটা কিনে ক্লাসে আসতে সক্ষম তাদের অনেকের জন্য দ্রুতগতি সম্পন্ন ইন্টারনেট সুবিধা না পাওয়া একটি বড় সমস্যা। সকলের কাছে উচ্চগতি সম্পন্ন নেটওয়ার্ক সরবরাহ করা না গেলে সফল ও আনন্দায়ক অনলাইন ক্লাসে যুক্ত হওয়া সম্ভব নয়।

এগুলো আমাদের চ্যালেঞ্জের প্রথম ধাপ। এই চ্যালেঞ্জগুলো অতিক্রম করার পরে আমাদের চিন্তা করতে হবে অনলাইনে শিক্ষাদান করার পদ্ধতি (পেডাগজি) নিয়ে।

অনলাইন ক্লাসের নানা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, তা সত্ত্বেও অনলাইন ক্লাসের প্রতি আপনি কতটুকু আশাবাদী?
যেকোনো বিষয়ের শুরুতে নানা ধরণের প্রতিবন্ধকতা আসে। তাই বলে কোনো কিছুই থেমে থাকে না। অনলাইন ক্লাসে শিক্ষার্থীদের শতভাগ উপস্থিতি না হওয়ার সমস্যাটি সার্বজনীন। তাই উপস্থিতির সংখ্যা বাড়াতে হলে সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে। অর্থনৈতিক অসচ্ছলতার কারণে যারা ডিভাইস এবং ডেটা প্যাকেজ কিনতে পারছে না তাদের জন্য পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। ইতোমধ্যে ইউজিসির পক্ষ থেকে ডিভাইস এবং ডেটা কিনতে শিক্ষা ঋণ দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এটা অনেক প্রশংসনীয় ও কার্যকরী উদ্যোগ।

শিক্ষার্থীদের সব থেকে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় নেটওয়ার্কজনিত সমস্যা। ধীরগতিসম্পন্ন নেটওয়ার্কের কারণে ক্লাসে যুক্ত হওয়া অথবা সেখানে সম্পূর্ণ সময় অবস্থান করা সম্ভব হয় না। সেক্ষেত্রে এ সংকট নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার বা মোবাইল অপারেটরদের তাগিদ দিতে হবে।

অনলাইন ক্লাসসমূহ পরিচালনা অনক্যাম্পাস ক্লাস থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। তাই অনলাইন ক্লাসে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষেত্রে শিক্ষকদের বিশেষ ভূমিকা রাখা প্রয়োজন। অনলাইন ক্লাসকে আনন্দঘন ও কার্যকর করতে শিক্ষকদের শিক্ষা পদ্ধতির বিষয়টা নিয়ে ভাবতে হবে। উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে আমাদের অবশ্যই প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার জানতে হবে। এরই মধ্য দিয়ে দেশ একধাপ এগিয়ে যাবে বলে আমি মনে করি।

ভবিষ্যতে অনলাইনে কার্যক্রম পরিচালনায় অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম কতটুকু কাজে আসবে বলে মনে করেন?
আগামী দিনগুলোতে সকল কাজ প্রযুক্তিনির্ভর হতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে আমাদের দেশও প্রযুক্তির ব্যবহারে পিছিয়ে নেই। আমাদের দৈনন্দিন ব্যবহার্য জিনিসগুলোর বেশিরভাগই প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে পড়ছে। প্রযুক্তিনির্ভর হওয়া ছাড়া আগামীর দিনগুলোতে টিকে থাকা সম্ভবপর হবে না। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও সুযোগগুলো কাজে লাগাতে বাংলাদেশ সরকার প্রযুক্তির উন্নয়ন ও বিস্তারে সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করলেও আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহার ছিল হতাশাব্যঞ্জক। সাম্প্রতিককালে প্রযুক্তির ব্যবহারে ঊর্ধ্বগতি লক্ষণীয়। বিশেষ করে করোনাজনিত এই মহামারী আমাদের অনলাইন প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি করেছে। এটা আমাদের জন্য একটি সুযোগ।

গবেষণা বলছে- ‘আগামীর দিনগুলোয় প্রযুক্তির ব্যবহারের মাত্রা কেমন হবে তার ৮৫ শতাংশই এখনো আমাদের চিন্তার বাইরে’। জীবনধারণের প্রত্যেকটি পর্যায়ে আমাদের প্রযুক্তিনির্ভর হতে হবে।