পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিযুদ্ধ

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২১ | ১৫ মাঘ ১৪২৭

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিযুদ্ধ

আবদুল্লাহ আল নোমান ১:১১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৫, ২০২০

print
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিযুদ্ধ

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন পূরণ করতে শিক্ষার্থীদের কঠিন এক ভর্তি পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে হয়। লাখ লাখ পরীক্ষার্থীর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে নিজের পছন্দের বিষয়ে পড়তে পারার সুযোগ অর্জন করে নিতে হয়। ভালো প্রস্তুতি আর ইউনিক কিছু টেকনিক অবলম্বন করে জয় ছিনিয়ে আনাটাও অসম্ভব কিছু নয়। ভর্তিযুদ্ধে জয়ী হওয়ার মাধ্যমে স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পেতে চাইলে একজন শিক্ষার্থীকে লক্ষ্য ঠিক করতে হবে সবার আগে। পছন্দের বিষয় ঠিক করার পর দেখতে হবে, কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে সেই বিষয়টা পড়ার সুযোগ রয়েছে। পছন্দের বিষয় কিন্তু একটা না হয়ে বেশ কয়েকটাও হতে পারে। কারণ কয়েকটা বিকল্প হাতে থাকলে সফল হওয়ার সম্ভাবনাটা বেশি থাকে।

১০ এপ্রিল ২০১৮, সদ্য উচ্চমাধ্যমিক শেষ করেছি। উচ্চ শিক্ষার সিঁড়ি হাতছানি দিয়ে ডাকছে আমাকে। কিছুদিন পরই শুরু হবে শিক্ষা জীবনের কঠিনতম ভর্তিযুদ্ধ। পড়াশোনার বিরাম নেই। একটাই লক্ষ্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের একটি আসন নিশ্চিত করা। সবার আশা থাকে রেজাল্ট বের হলে ভালো একটা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবে। আমিও ব্যতিক্রম নই। এই আশা নিয়ে আমিও পাড়ি দিলাম চট্টগ্রামে।

উদ্দেশ্য একটা, ভর্তি কোচিং-এ ভর্তি হব। চট্টগ্রাম যাওয়ার পর ইনডেক্স কোচিং সেন্টারে ভর্তি হলাম। যাচ্ছিল দিনকাল ভালোই। এইচএসসির রেজাল্ট বের হলো। রেজাল্ট খুব একটা খারাপ না। আব্বু আম্মু তেমন খুশি নয় আমার রেজাল্ট নিয়ে।

কয়েকদিন পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি ফরম ছাড়লেন। হাজারো আশা নিয়ে ঢাবি আর চবির ফরম তুললাম। তখন থেকে স্বপ্ন বুনতে লাগলাম বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের। আস্তে আস্তে পরীক্ষার দিনক্ষণ ঘনিয়ে আসল। আমার পড়াশোনাও চলছিল।

যখন পরীক্ষার প্রবেশপত্র হাতে নিলাম তখন মনে হলো একবুক স্বপ্ন হাতে নিলাম। ঢাবির হল থেকে যখন পরীক্ষা দিয়ে বের হলাম আকাশটা তখন মাথার ওপর যেন আঁচড়ে পড়ল। শেষ! ঢাবি স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেল। পরে আশা ছিল চবিতে সেখানেও হলো না।

বাবা-মা আফসোস করতে লাগল। এত টাকা পয়সা খরচ করার পরও কোথাও চান্স পেলাম না। এই হতাশাটা নিয়ে চট্টগ্রাম কলেজে মনোবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হলাম। চিন্তা করলাম সেকেন্ড টাইম পরীক্ষা দেব। এদিকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষ ফাইনালের রুটিন দিয়ে দিল। সামনে সেকেন্ড টাইম এর ভর্তির সময় ও কাছাকাছি চলে আসল। তাই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি ভর্তি পরীক্ষার পড়াশোনা ও বাড়িয়ে দিলাম।

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এর ফরম নিলাম। প্রথমে পরীক্ষা ছিল নোয়াখালীতে। এরপর কুমিল্লায়। ডিসেম্বর ৫, ২০১৯, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি রেজাল্ট বের হলো অবশেষে মেরিট লিস্টে আমার নাম আসল। রেজাল্ট হাতে পাওয়ার পর আব্বুকে ফোন দিলাম।

বললাম নোয়াখালীতে আমার মেরিট ১৩৫ এ এসেছে। আব্বু তখন বলল আমার বাবা অবশেষে প্রমাণ করল। আমার পছন্দের তালিকায় সবার ওপরে ছিল আইন বিভাগ। পছন্দের বিষয়টা কি আমার ভাগ্যে জুটবে? আল্লাহর রহমতে আইন বিভাগে ভর্তি হয়ে এখন নিজের স্বপ্নটাকে পূর্ণতা দেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে আছি।