করোনাকালে শিক্ষার্থীদের ভাবনা

ঢাকা, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৬ আশ্বিন ১৪২৭

করোনাকালে শিক্ষার্থীদের ভাবনা

তানজিন রোবায়েত রোহান ২:৪৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২০

print
করোনাকালে শিক্ষার্থীদের ভাবনা

রানা মজুমদার, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
আমি বন্ধের শুরু থেকে কিছু একটা করব চিন্তা করছিলাম। আর আমি নতুন কিছু উদ্ভাবন করতে চাই। এ চিন্তা থেকে আমি একদিন বাইসাইকেল জেনারেটর বানালাম। যা সাইকেলের এক চাকার সঙ্গে মোটরের ডায়নামো সংযুক্ত। মূলত অধিক ভোল্টেজের ব্যাটারি দিয়ে মোটর এবং সাইকেলের এক চাকা ঘুরিয়ে এই যন্ত্র দ্বারা বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা যাবে। এই যন্ত্রটি জেনারেটরের অনুরূপ এবং যে সকল এলাকায় বিদ্যুৎ এখনো পৌঁছায়নি বা যাদের বিদ্যুৎ নেওয়ার সামর্থ্য নেই তাদের একটা সাইকেল হলেই বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোর জন্য আমার আবিষ্কার করা এই যন্ত্রটি কাজে আসবে।

জান্নাতুল কাউসার রুমকি
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
আমি সাধারণত প্রকৃতি নিয়ে আঁকাআকি করতে পছন্দ করি। প্রকৃতির সবুজ আমাকে খুব বেশি টানে। করোনার এই বন্ধের সময়ে এটাই বেছে নিয়েছি। আগেও আমি বিভিন্ন কাজ করেছি চিত্রাঙ্কন নিয়ে। আমার হাতে তৈরি গহনা এবং হাতে আঁকা জামা-কাপড় নিয়ে কাজ করা হয় বেশি। মূলত জামা-কাপড়ের ওপর আমি নকশা করে থাকি এই অবসর সময়ে। আমার উদ্যোগের নাম আয়নাঘর। আমিসহ আমার কয়েকজন সহপাঠীরা মিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে দুইটা চ্যারিটি মেলা করেছিলাম। আর করোনাকালে এসব কাজ অনলাইনে করে থাকি। আমার তৈরি চিত্রকর্ম-কে জীবন্ত করার জন্য আমি রঙতুলির আচড় দিয়ে থাকি।

অয়ন চক্রবর্তী, চ্যানেল আই বাংলাবিদ
দ্বিতীয় রানারআপ
লকডাউনের সময়টা কাটানোর জন্য অনলাইনে দক্ষতা উন্নয়নমূলক কিছু কোর্স করেছি। অন্য ভাষার অনেকগুলো অনুদিত বই পড়েছি। লেখালেখির টুকটাক চেষ্টা করেছি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে বন্ধু ও কাছের মানুষদের সঙ্গে দূরে কাছে থেকে যোগাযোগ রক্ষা করেছি; একজন আরেকজনকে মানসিক সহায়তা দিয়েছি। এরপর মে মাস থেকেই এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলের ডামাডোল বেজে উঠল। ৩১ মে সকালে যখন প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ভালো ফলাফল আসে - সেই অনুভূতি কী রকম ছিল তা ভাষায় প্রকাশ অসম্ভব। ৯৪% মার্কস এসেছিল। রেজাল্টের পরপরই চলে গেলাম গ্রামের বাড়িতে। কাছের মানুষগুলোর সঙ্গে কোনো অর্জনের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার মতো শান্তি পৃথিবীর অন্যকিছুতে আছে বলে মনে হয় না।

শ্রেয়া ঘোষ, শিক্ষার্থী, শহীদ বীরউত্তম
লে. আনোয়ার গার্লস কলেজ
আমি সাধারণত শিশুদের নিয়ে কাজ করি। আর করোনার এই বন্ধের সময়ে আমি ফেসবুকভিত্তিক প্লাটফর্মে দুটি সংগঠন চালু করি। একটি হচ্ছে ‘আলোর সন্ধানী’ অন্যটি হচ্ছে ‘শ্রেয়া’স ক্লাসরুম। আলোর সন্ধানীতে অনলাইনে সুবিধাবঞ্চিত পথশিশুদের পড়ালেখার মান বিকাশে প্রান্তিক পর্যায়ে সেবা দিয়ে থাকি। আর শ্রেয়া’স ক্লাসরুমে তরুণ যারা মেধা বিকাশে যথাযথভাবে সুযোগ পায় না তাদের ভিডিওর মাধ্যমে লার্নি, স্পিকিং, রোবটিক্স, ওয়ার্কশপ ইত্যাদি সেবা দিয়ে থাকি।