এক যুগে তারুণ্য

ঢাকা, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ১০ আশ্বিন ১৪২৭

এক যুগে তারুণ্য

আবুজার গিফারী ১২:১৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ০৯, ২০২০

print
এক যুগে তারুণ্য

মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি স্থাপনের মিলনস্থল হলো সামাজিক সংগঠন। আর এরূপ একটি সামাজিক সংগঠনের নাম হলো তারুণ্য। মূলত তারুণ্য একটি স্বেচ্ছাসেবী, অরাজনৈতিক ও জনকল্যাণমূলক সংগঠন। ২০০৯ সালের ২৯ জুলাই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পদযাত্রা শুরু করে। তৎকালীন ফলিত পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগ ও বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০০৮-২০০৯ শিক্ষাবর্ষের বেশকিছু মেধাবী শিক্ষার্থীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠা লাভ করে তারুণ্য সংগঠন।

ক্যাম্পাসের পরিবেশ নির্মল রাখতে পরিচ্ছন্নতা ও বৃক্ষরোপন অভিযান, অসহায়-দুস্থদের আর্থিক সহায়তা প্রদান, রক্তদান, শীতবস্ত্র বিতরণ, নিরক্ষর পথশিশুদের অক্ষরজ্ঞান প্রদানসহ বিভিন্ন জাতীয়-আন্তর্জাতিক দিবস পালনের মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধিসহ সংগঠনটি বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কাজ করে যাচ্ছে।

একইসাথে সদস্যদের পারস্পরিক সামর্থ্যকে সমন্বয়ের মাধ্যমে সমাজের সার্বিক উন্নয়ন, বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণে তারুণ্যের শক্তিকে কাজে লাগানো, দেশের যুবসমাজকে স্বেচ্ছাসেবী মনোভাব সম্পন্ন করে গড়ে তোলা, সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে যুবসমাজকে উদ্বুদ্ধ করা, প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোকাবেলায় অংশগ্রহণ ও অসহায়-অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগসহ নানাবিধ শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থা করে যাচ্ছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের তারুণ্য নামক এ সংগঠনটি।

এছাড়াও তারুণ্যের সদস্যসহ সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত দক্ষতা অর্জনের জন্য ক্যাম্পাসে নিয়মিত কুইজ, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও ক্যারিয়ার বিষয়ক ট্রেনিং পরিচালনা করে থাকে। প্রতিবছর সংগঠনটি ব্রিটিশ কাউন্সিলের সহায়তায়, সদস্যসহ সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেতৃত্ব গুণাবলি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে তিনদিন ব্যাপি একটি কর্মশালার আয়োজন করে থাকে। শিক্ষার্থীরা যাতে সাহিত্য চর্চা থেকে পিছিয়ে না পড়ে সেজন্য তারুণ্য লাইব্রেরি নামে আরেকটি হেল্প সেন্টার চালু রেখেছে। যেখানে দেশী বিদেশী সহস্রাধিক বইয়ের সমারোহ। 

তারুণ্য বছরে পাঁচ শতাধিকের বেশি অসুস্থ মানুষকে রক্ত দিয়ে থাকে ও বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয়ে সাহায্য করে থাকে। হাঁটিহাঁটি পা পা করে সংগঠনটি ১২ বছরে পদার্পণ করলো। এতটা সময় অতিক্রমের পিছনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অসামান্য অবদান ছিল চোখে পড়ার মতো।