থেমে নেই খবরের ফেরিওয়ালারা

ঢাকা, সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২০ | ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭

বন্ধ ক্যাম্পাস

থেমে নেই খবরের ফেরিওয়ালারা

মিরাজুল আল মিশকাত ১২:৩৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ১২, ২০২০

print
থেমে নেই খবরের ফেরিওয়ালারা

করোনায় থেমে নেই ক্যাম্পাসের তরুণ সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহের কাজ। প্রতিনিয়ত ঘরে বসে কখনো মুঠোফোন বা ল্যাপটপ মাধ্যমে সংবাদ সংগ্রহ করে মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত কয়েকজন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন -মিরাজুল আল মিশকাত

আহসান জোবায়ের, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

ক্যাম্পাস সাংবাদিকরা শুধু খবরের ফেরিওয়ালা না, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মুখপাত্র হিসেবেও কাজ করতে হয়। বিভিন্ন সমস্যা জানা, সমাধানের চেষ্টা করা, প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের অবহিত করা এসকল বিষয়ই একজন ক্যাম্পাস সাংবাদিককে দেখতে হয়। আর সমস্যার বাস্তবিক কোনো সমাধান না এলে গণমাধ্যমে সেটা প্রচার করতে হয়। করোনার কারণে ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা মেস ও বাসা ভাড়া সংকটে আছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন দিক থেকে ফোন আসছে। সামর্থ অনুযায়ী তাদের জন্য কাজ করছি। এছাড়াও কিছু আত্ম উন্নয়নমূলক কাজ করছি।

সাব্বির আহমেদ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।

ক্যাম্পাস বন্ধ থাকাতে প্রথম কয়েকদিন নিউজের পরিমাণ কমতে শুরু করে। এরপরে বাসাতে চলে আসলে সবকিছু একরকম মুখ থুবড়ে পড়ে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা অনুধাবন করে ত্রাণ বিতরণের কাজ শুরু করে দেই। সাধারণ মানুষের পাশে থেকে তাদের সমস্যাগুলোকে অনুধাবণ করে সহযোগিতার মাধ্যমে তাদের মুখের হাসি ফুটানোর কাজটি এখন আমার প্রিয় কাজে পরিণত হয়েছে। করোনা পরিস্থিতির কারণে ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার সেই কর্মচাঞ্চল্যতা এখন না থাকলেও আছে মানুষের বাড়িতে একটু সহযোগিতা নিয়ে ছুটে চলার কর্মতৎপরতা। করোনা নামক যুদ্ধে সকলকে সহযোগিতার মাধ্যমে মানবতার সেবায় এগিয়ে আসতে হবে।

আবু সাহেব, হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

একজন ক্যাম্পাস সাংবাদিক হিসেবে করোনার মহামারিতে ভার্চুয়াল নির্ভর নিউজে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করতে পারছি না। তবে গতানুগতিক খবর সংগ্রহ এবং প্রতিবেদন প্রকাশ করছি। বিশ্ববিদ্যালয় চালু থাকলে সেভাবে ফিচার লেখার সময় পেতাম না। এখন পুরোদমে ফিচারে কাজ করছি।
করোনার এই সংকটময় সময়ে শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ কমাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে কিছু পোস্ট করছি।

ফারুক হোসাইন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

করোনার ছুটিতে বাড়িতে আসার পর আঙিনায় বাগান করার চেষ্টা করি। ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার কারণে সংশ্লিষ্ট তথ্যের সঙ্গে আপডেট থাকতে হচ্ছে। অনলাইনে নিয়মিত দেশ-বিদেশের খবরাখবর রাখছি। এর বাইরে নিয়মিত বই পড়ার পুরনো অভ্যাসটাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি। বর্তমান সময়ে ঘরে বসেই যে অনেককিছু শেখা সম্ভব সেই বাস্তবতাকে বারবার উপলব্ধি করছি। আর ব্যক্তিগত কাজের মধ্যে বাড়ির কাজে সহায়তা করছি। করোনার কারণে বাইরে যাওয়ার সুযোগ না থাকায় ঘরের মধ্যেই সময়টা উপভোগের চেষ্টা করছি।
সৌম্য সরকার, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়।

সাংবাদিকতার পাশাপাশি সাহিত্যজগত নিয়েও কিছু পড়াশোনা করছি। নিয়মিত ধর্মীয় নিয়ম-কানুন শেখা এবং মানার চেষ্টা করছি। এছাড়াও বাড়িতে সংসারের প্রয়োজনীয় কাজে সাহায্য সহযোগীতা করছি। স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর সাথে ত্রাণ ও মাস্ক দেওয়াসহ বিভিন্ন সচেতনতামূলক কাজ করছি। তবে, করোনার এই দীর্ঘ ছুটি অনেক শিক্ষা দিয়েছে। সুযোগ করে দিয়েছে বাড়িতে বাবা মা কে সময় দেওয়ার।
তবুও খুব বেশি মিস করছি প্রিয় সবুজ সেই ক্যাম্পাসকে। মিস করছি সব শিক্ষক, সাংবাদিক ও বন্ধুদের। আশা করছি খুব দ্রুত করোনার এই মহামারি শেষ হবে। আবারো ফিরে যাবো প্রিয় ক্যাম্পাসে।

তোফায়েল প্রধান, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

ব্যক্তিগতভাবে যেহেতু সারা বছরই ব্যস্ততার জন্য একাডেমিকের বাইরের বই পড়ার সুযোগ হয় না। এই অবসর সেই সুযোগ করে দিয়েছে। সবকিছু মিলে খুব ব্যস্ত না হলেও, কোনো না কোনো কাজে সময় কেটে যাচ্ছে।
নিউজ লেখার বাইরে কিছু সৃষ্টিশীল চিন্তার লেখা বা পড়ার চেষ্টা করছি। ক্যাম্পাসের কিছু ছোট ভাই, বড় ভাই এই সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে, পাশে দাঁড়াচ্ছে।
তাদের এই কাজগুলোকে অনুপ্রেরণা হিসেবে সবার সামনে নিয়ে আসার জন্য তাদের নিয়েও লিখেছি।

আমিনুল ইসলাম, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়াতে বিশ্ববিদ্যালয় যখন বন্ধ তখন ক্যাম্পাস সাংবাদিকতায় নেমে এসেছে এক ধরনের স্থবিরতা। এলাকার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে কাজ করছি। সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে করোনা কালে দুস্থ অসহায় পরিবারের মাঝে সামর্থ্যানুযায়ী সহযোগিতা করে যাচ্ছি। পরিবারের মানুষগুলোর সাথে সময় কাটাতে পারছি।
জীবনে চলার পথে যেসব শিক্ষা প্রয়োজন তাঁর অনেকখানিই পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে নতুন করে শিখছি। প্রতিনিয়তই সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করছি যাতে আবারো সুস্থ পৃথিবীতে নতুন উদ্যোমে ক্যাম্পাস সাংবাদিকতা শুরু করতে পারি।

ফাতেমা-তুজ-জিনিয়া, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যেকোনো সমস্যা নিরসনে কিংবা দাবি আদায়ে ক্যাম্পাস সাংবাদিকরা সবসময়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন। আর এ কারণেই বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও ক্যাম্পাস সাংবাদিকদের কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার সুযোগ নেই। বিশেষ করে বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাস সাংবাদিক হিসেবে দায়িত্ব আরো বেড়েছে। প্রতিদিনই কোনো না কোনো অভিযোগ আসছে ফলে এসকল অভিযোগ গুলো নিয়েও প্রতিবেদন করতে হচ্ছে।