ক্যাম্পাসের রঙিন স্মৃতিগুলো

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২০ | ১৯ শ্রাবণ ১৪২৭

ক্যাম্পাসের রঙিন স্মৃতিগুলো

শাহরিয়ার বেলাল ১২:৩৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ১২, ২০২০

print
ক্যাম্পাসের রঙিন স্মৃতিগুলো

সৌন্দর্য আর ইতিহ্যের এক অপার লীলাভূমি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। ১৭৫ একরের বিশাল ক্যাম্পাস বাহারি রকমের সবুজের সমারোহে আচ্ছাদিত। অচেনা অজানা পাখির কলরবে মুখরিত। প্রকৃতি যেনো আপন হাতে বর্ণীল সাজে সাজিয়েছে ইবির সবুজ চত্বর।

কলা অনুষদভুক্ত পছন্দের বিষয় ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে (১৯-২০) শিক্ষাবর্ষে এ ভর্তির সকল কার্যক্রম শেষ করেছিলাম। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে সকল কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। নতুন পরিবেশ, নতুন বিদ্যাপীঠ, নতুন মুখ, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার অনুভূতিটা যে কেমন ছিল সেটা হয়তো মুখের বুলিতে প্রকাশ করা যাবেনা। প্রথম যখন ক্যাম্পাসে পা রাখলাম একদম-ই মনটাকে স্থির করাতে পারছিলাম না।

কিভাবে কি শুরু করবো, কিভাবে পাড়ি দেবো এই বিশাল পথ, সব অগোছালো মনে হচ্ছিলো। শুরুতেই ডিপার্টমেন্টের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম, কেন্দ্রীয় অভিষেক প্রোগ্রাম এবং জেলা কল্যাণ অ্যাসোসিয়েশনের ওরিয়েন্টশনসহ নানারকম উৎসাহ আর উদ্দীপনায় নতুনদের বরণ করে নেয়ার যে উৎসবমুখর জমজমাট আয়োজন সত্যিই আমার মন কেড়ে নিলো। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম ক্লাসের অভিজ্ঞতা নেয়ার পালা।

প্রাইমারি, হাইস্কুল এবং কলেজের ক্লাস করেছি কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস কেমন হবে এরকম একটা ভাবনা সবসময় নাড়িয়ে দিচ্ছিলো। আমাদের ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আনোয়ার হোসেন স্যার প্রথম ক্লাস নিয়েছিলেন। সত্যি কথা বলতে এতোটাই ভালো লাগা কাজ করতেছিলো যে ক্লাস শেষ করতে মন চাইছিল না।

আর একটি বিষয় ছিল তা হল ৬৪ জেলার নতুন নতুন বন্ধু বান্ধবীদের সাথে পরিচিত হওয়া। ক্রমান্বয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটা ইট প্রতিটা কণা আতœার সাথে মিশে যেতে শুরু করলো।

ভালোই চলছিল বিশ্ববিদ্যালয় জীবন। খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আর সন্ধ্যার পর টিএসসিতে বন্ধু এবং বড় ভাইদের সাথে গীটার নিয়ে গানের আড্ডা সবকিছুই ছিল যেন প্রতিদিনের রুটিন।

কিন্তু হঠাৎ এক অদৃশ্য শক্তির কাছে সবকিছু যেন থমকে গেলো। যে অদৃশ্য শক্তির পদতলে পুরোবিশ্ব আজ মাথানত। সেই প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের থাবায় আমার প্রাণের ক্যাম্পাসটাও হারিয়ে ফেললো তার চিরচেনা রূপ।

যে ক্যাম্পাস ছিল অনুজ আর অগ্রজ এ মুখড়িত, আজ সেই ক্যাম্পাস নিস্তব্ধতায় পরিপূর্ণ। চোখের কোটরে ভেসে ওঠে শুধু সেই দিনের রঙিন স্মৃতিগুলো। সময়টা খুব অল্প মনে হলেও প্রতিটা সেকেন্ড প্রতিটা মিনিট ছিল এক একটি মুহূর্তের প্রতিচ্ছবি। তাইতো আজ সেই ক্যাম্পাসের জন্য বুকের ভিতর টা হাহাকার করে ওঠে। জানান দিয়ে যায় একটি বিশাল শূন্যতার ছাপ।