কুবি উদ্যোক্তাদের গল্প

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২০ | ১৮ আষাঢ় ১৪২৭

বন্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

কুবি উদ্যোক্তাদের গল্প

ইকবাল হাসান ৯:২৩ পূর্বাহ্ণ, জুন ২৮, ২০২০

print
কুবি উদ্যোক্তাদের গল্প

করোনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। এই মহামারি সময়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোক্তারা কেমন আছেন এবং তাদের প্রতিষ্ঠান নিয়ে কার্যক্রম কেমন। উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন- ইকবাল হাসান

জহির রায়হান, কো-ফাউন্ডার অ্যান্ড সিইও, ফিট এন স্যুট: ২০২০ সাল উদ্যোক্তাদের বেঁচে থাকার সময়! বেঁচে থাকাটাই এ বছরের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ! সেদিক থেকে চিন্তা করলে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছি। ক্যাম্পাস কেন্দ্রীক উদ্যোক্তা হওয়ার কারণে এই করোনা সময়ে আমাদের কার্যক্রম অনেকটাই স্থবির হয়ে আছে। তবে করোনা পরবর্তী বিশ্ব অনেক পরিবর্তন হবে। পরিবর্তিত হবে চলমান ব্যবসায়ের ধারা; অটোমেশন চলে আসবে প্রায় সকল ক্ষেত্রে। সেদিক থেকে করোনা পরবর্তী আমাদের চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে কাজ করছি। আমাদের অনলাইন প্রেজেন্স টা বাড়ানোর চেষ্টা করছি; পেজ রিডিজাইন, সাইট তৈরি, অ্যাপ ডিজাইন, মার্কেট এনালিসিস, অটোমেশন, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তৈরি সহ আরো কিছু খুটিনাটি বিষয় নিয়ে কাজ করছি। আশাকরছি করোনা পরবর্তী সময়ে আমাদের শুভাকাক্সক্ষী রা আগের চাইতে আরো সাজানো গুছানো এবং আরো বৃহৎ পরিসরে ফিট এন স্যুট কে দেখতে পাবেন। এ পৃথিবী দ্রুত সুস্থ হোক।

মেজবাহ উদ্দিন, কো-ফাউন্ডার অ্যান্ড সিইও, শতরঞ্জি: বিবিএ ফ্যাকাল্টির স্টুডেন্ট হিসেবে নিজের হাতে একটা স্টার্টঅ্যাপ হবে এই স্বপ্নটা বরাবর গত ১ বছর ধরেই ছিলো। কিন্তু স্টুডেন্ট থাকা অবস্থায় শুধু মাত্র নিজের পক্ষে একটা স্টার্টঅ্যাপ শুরু করা অনেক ক্ষেত্রেই একটু কঠিন লাগছিলো। তাই আমি মেজবাহ উদ্দিন, সায়কা রেজোয়ানা নূর, মাহফুজ আহমেদ মজুমদার, মাহবুবুর রহমান, শ্রাবন্তী বড়ুয়া মিলে সবার আইডিয়া একত্রে করে আমরা আমাদের ক্যাম্পাসে এই বছরের ফেব্রুয়ারিতে ৫ জন মিলে একটি অনলাইন ব্যবসা শুরু করি। আমাদের ডেলিভারি সার্ভিস কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস এবং কুমিল্লা শহরের মধ্যে ছিলো। এভাবে ভালোই চলছিল আমাদের ব্যবসা। কিন্তু মার্চ মাসের শেষের দিকে করোনার জন্য আমাদের কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়। এই দুর্যোগের সময় আমাদের ফেইসবুক পেইজ এবং গ্রুপে বিভিন্ন সচেতনতামূলক বিষয় নিয়ে পোস্ট করতে থাকি এবং এখনও করছি।

জান্নাতুল কাউসার রুমকি, ফাউন্ডার অ্যান্ড সিইও, আয়না ঘর: এই খারাপ সময়ে আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল বাসায় থাকাটা। উদ্যোক্তা হিসেবে কোন কারণে কাজ বন্ধ করে থাকাটা খুব কষ্টকর। পড়াশোনার পাশাপাশি আমি উদ্যোক্তা তাই সবসময় আমার এই কাজের দক্ষতার বাড়ানোর দিকে নজর দেয়াটা কষ্টকর হয়ে যায়। এই সময় চেষ্টা করছি ঘরে বসে যতটুকু দক্ষতা বাড়ানো যায়। আমার কাজ কাঠের গহনা আর হাতে আঁকা ছবি নিয়ে। নিয়মিত ছবি এঁকে, রং কাঠ, এবং বিভিন্ন ডিজাইন নিয়ে
পড়াশোনা করছি এবং আমার আগের কাজ গুলো বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করছি।

মোহাম্মদ হৃদয়, ফাউন্ডার অ্যান্ড সিইও, প্রগতি বই ঘর: করোনার এই ক্রান্তিলগ্নে উদ্যোক্তাদের অবস্থা বেশ শোচনীয়। আমাদেরও ঠিক তাই। দীর্ঘ তিন মাস যাবৎ ক্যাম্পাস বন্ধ থাকার কারণে ব্যবসায়ের গতি একদম মন্তর হয়ে পড়েছে।

করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে আমরা কোনো প্রকার কার্যক্রম চালু করতে পারছি না। আমরা যেসব উদ্যোগের চিন্তা করছি সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো; প্রচারণা বাড়ানোর চেষ্টা করা, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছুদিন পর পর উদ্যেক্তা মেলা হয়; সেই মেলায় অংশগ্রহণ করা, প্রতিটি ডিপার্টমেন্টে আমাদের প্রতিনিধি রয়েছে তাদের যথাসম্ভব কাজে লাগানো, অনলাইনভিত্তিক ব্যাবসা তাই আমরা কিভাবে কুমিল্লার বাইরে এর প্রসার বাড়ানো যায় সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা ইত্যাদি।

আসমা আক্তার মুক্তা, ফাউন্ডার অ্যান্ড সিইও, শ্বেতপদ্ম: উদ্যোক্তা হিসেবে বলতে গিয়ে যা বলতে হয় সেটি হচ্ছে, করোনাকালীন পরিস্থিতিতে বাসায় যেহেতু থাকা হচ্ছে এক্ষেত্রে নিজের পেইজের কাজও করা হচ্ছে, সময় দিচ্ছি পেইজে কিভাবে আরো এঙেজমেন্ট বাড়ানো যায়।

আর যেহেতু ই-কমার্স বিজনেস সুতরাং প্রযুক্তিগত জ্ঞান একজন উদ্যোক্তার জন্য অনেক প্রয়োজন তাই ঘরে বসেই ই-কমার্স বিষয়ক ট্রেনিং গুলো নিচ্ছি, পাশাপাশি কাজকে আরো কিভাবে মডিফাই করা যায় তার চেষ্টা করে যাচ্ছি নিয়মিত।