তারুণ্যের অন্যরকম ঈদ

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২০ | ২৩ আষাঢ় ১৪২৭

তারুণ্যের অন্যরকম ঈদ

ফজলে এলাহী ফুয়াদ ৯:৫৯ পূর্বাহ্ণ, মে ৩১, ২০২০

print
তারুণ্যের অন্যরকম ঈদ

ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে খুশি। কিন্তু এবার ঈদে ছিল না আনন্দ, হাসিমুখ, ছিল না আতরের গন্ধমাখা কোলাকুলি। এ যেন এক অন্যরকম ঈদ। করোনাভাইরাসের কারণে আতঙ্ক নিয়ে ঈদ উদযাপন করেছে সবাই। যা আগে কেউ দেখেনি।

মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদে আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশীদের নিয়ে খাওয়া-দাওয়া, আড্ডা দেওয়া আরো কতো কিছু হয়। নাড়ির টানে গ্রামে গিয়ে মা-বাবা, ভাই-বোনদের সঙ্গে একত্র হওয়া। 

নতুন জামাকাপড় পরা। ছেলে-মেয়ে নিয়ে বিনোদনকেন্দ্রে যাওয়া। এবার সেটাও বন্ধ ছিল। তাই এবার ঈদে অনাবিল আনন্দের আবহ নেই। খুশির জোয়ারও নেই। করোনাভাইরাস মহামারির কারণে সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও থমকে গেছে স্বাভাবিক জীবনযাপন। সব কিছু লন্ডভ- হয়ে গেছে।
ঈদ গাহে নয়; দেশের মসজিদগুলোতে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবার ঈদের নামাজ। বায়তুল মোকাররম মসজিদে ঈদের প্রধান নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে । কিশোরগঞ্জের সোলাকিয়া ময়দান ছিল জনশূন্য। করোনার কারণে এবার সেখানে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়নি। কারণ করোনায় কারণে মাঠে ময়দানে, উন্মুক্ত স্থানে ঈদের জামাত করা যাবে না এমন সরকারি নির্দেশনা আগেই জারি করা হয়। বলা হয় ঈদের জামাত হবে মসজিদে মসজিদে। জায়গা না হলে প্রয়োজনে একই মসজিদে একাধিক জামাত করা যাবে।

ইসলামি ফাউন্ডেশনের নির্দেশনায় বলা হয়- মাস্ক পরে, বাসা বা বাড়ি থেকে ওজু করে, সামাজিক দূরত্ব মেনে, মসজিদের মেঝে জীবানুমুক্ত ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে এবং প্রয়োজনে ব্যক্তিগত জায়নামাজ ব্যবহার করে এবার নিজ এলাকার মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করতে হবে।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ অ্যান্ড লিবারেশন ওয়ার স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মালিহা মেহজাবীন পাপড়ী বলেন, ঈদের আনন্দের চেয়ে বেশি ভাবনা করোনা নিয়ে। ২২ বছরের জীবনে ৪৪ ঈদ শেষ।

একটা ঈদে আনন্দ নেই তাতে কী? কিন্তু চিন্তার বিষয় হলো- আমরা করোনা থেকে কবে মুক্তি পাবো? আবার কবে একটা সুস্থ পৃথিবী খুঁজে পাবো? একটা ঈদের বিনিময়ে যদি আবার আমরা আমাদের স্বাভাবিক সুস্থ জীবনে ফিরে যেতে পারি, তবে আমাদের অবশ্যই সচেতন হওয়া উচিত সবার আগে। ঘরে থাকি, সুস্থ থাকি এটাই বড় কথা।

একই বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল কবীর ফারহান বলছেন, এ এক অন্যরকম ঈদ। নেই আতরের গন্ধমাখা কোলাকুলি, নেই আনন্দ। আল্লাহ আমাদের কবুল করুন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মিজানুর রহমান বলেন, ঈদ নিয়ে আমার ভাবনা ছিল না, ভাবছি কিভাবে করোনামুক্ত হবে এ পৃথিবী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আরাফাত বলেন, জীবনে অনেক ঈদ পেয়েছি তবে এবারের ঈদটি আমরা সম্পূর্ণ ভিন্ন আঙ্গিকে উদযাপন করেছি।

ছিল না আনন্দ, কোন আয়োজন। আমাদের চাওয়া পাওয়ায় শুধুই মুক্তি, মুক্তি চাই এই বৈশ্বিক মহামারি থেকে।

ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্র্সিটির আইন বিভাগের শিক্ষার্থী নূর আলম বলেন, প্রতি বছর ঈদে অনেক আনন্দ হয়। এবার সে সুযোগ নেই। আর এ পরিস্থিতিতে আনন্দ কিভাবে আসবে। ঈদের দিনেও করোনায় মৃত্যুবরণ করেছেন ২১ জন আর শনাক্ত হয়েছেন ১৯৭৫ জন। আল্লাহর যেন আমাদের এ পরিস্থিতি থেকে দ্রুত মুক্তি দেন।