পনের বছরে পদার্পণ

ঢাকা, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২০ | ২৩ আষাঢ় ১৪২৭

পনের বছরে পদার্পণ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ৯:৩৬ পূর্বাহ্ণ, মে ৩১, ২০২০

print
পনের বছরে পদার্পণ

ছোট বড় পাহাড়ে ঘেরা লালমাটির ক্যাম্পাস কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। ২০০৬ সালের ২৮ মে দেশের ২৬তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে
যাত্রা শুরু করে। ২৮ মে ছিল বিশ্ববিদ্যালয় দিবস। ১৪ বছর পেরিয়ে ১৫তম বর্ষে পদার্পণ করছে দেশের অন্যতম এ বিশ্ববিদ্যালয়টি। লিখেছেন -শাহাদাত বিপ্লব

ছোট বড় পাহাড়ে ঘেরা লালমাটির ক্যাম্পাস কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। ২০০৬ সালের ২৮ মে দেশের ২৬তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করে। ২৮ মে কুমিল্লা ছিল বিশ্ববিদ্যালয় দিবস। ১৪ বছর পেরিয়ে ১৫তম বর্ষে পদার্পণ করছে দেশের অন্যতম এ বিশ্ববিদ্যালয়টি। 

স্বল্প পরিসরে বিশ্ববিদ্যালয়টির যাত্রা শুরু হলেও প্রতিষ্ঠার ১৪ বছরে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশের মানুষের কাছে পরিচিতি লাভ করেছে। এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৮টি ব্যাচের শিক্ষার্থীরা গ্র্যাজুয়েশন শেষে বেরিয়ে পড়েছেন দেশ ও দেশের মানুষের সেবায়। রাখছেন বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান।

ষাটের দশক থেকে কুমিল্লাবাসীর দাবি ছিল একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করার। সে প্রেক্ষিতে ১৯৬২ সালে কুমিল্লায় একটি বিশ^বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হওয়ার কথা থাকলেও সেটি চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে আত্মপ্রকাশ পায়। এরপর ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালে কুমিল্লায় একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করার পরিকল্পনা করা হয়।

কিন্তু পরে ২০০৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কুমিল্লায় এক জনসভায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের ঘোষণা দেন। এরপর ২০০৬ সালের ২৮ মে ২৬ তম সরকারি বিশ^বিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করে। এর ঠিক এক বছর পরে ২০০৭ সালের ২৮ মে থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টির একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়।

২০০৬ সালে ৫০ একর জমির উপর ৩০০ জন শিক্ষার্থী আর ১৫ জন শিক্ষক নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় পাহাড় আর সমতলের এ বিদ্যাপীঠ।
প্রতিষ্ঠার পর কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও

বর্তমানে ছয়টি অনুষদের অধীনে মোট ১৯ টি বিভাগে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। অধ্যয়ন করছেন প্রায় সাত হাজার শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীদের মাঝে জ্ঞান বিতরণ করছেন ২৫৩ জন শিক্ষক। শিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে অবদান রেখে যাচ্ছেন।

শিক্ষার্থীদের থাকার জন্য রয়েছে চারটি আবাসিক হল।

ক্যাম্পাসের কাঁঠালতলা, মুক্তমঞ্চ, বৈশাখী চত্বর, শহীদ মিনার, সানসেট ভ্যালি, বাবুই চত্বর ও লালন চত্বর ক্যাম্পাসের উল্লেখযোগ্য স্থান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোও ধাপে ধাপে এগিয়ে যাচ্ছে। ডিবেটিং ক্লাব, সায়েন্স ক্লাব, বিএনসিসি, সাংবাদিক সমিতি, থিয়েটার, প্রতিবর্তন, প্লাটফর্ম, আইটি সোসাইটিসহ বেশ কয়েকটি সংগঠন বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
সহশিক্ষা কার্যক্রম ও সৃজনশীল চর্চায় অবদান রেখে চলছে এ সব সংগঠন।

গেল বছর ১ হাজার ৬শ’ ৫৫ কোটি ৫০ লাখ টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।

প্রকল্পটির নতুন ভূমি অধিগ্রহণে প্রায় ২০০ একর জায়গা নেয়া হবে। শিক্ষার্থীদের পরিবহনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ৫টি নীল বাস, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য বাস, মিনিবাস ও মাইক্রোবাসের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়াও শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের জন্য রয়েছে ডরমেটরির দুটি ভবন।

তাছাড়া একটি ছাত্রী হল এবং শিক্ষকদের জন্য একটি ডরমিটরি ও একটি গেস্টহাউজ নির্মাণাধীন রয়েছে।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে এ পর্যন্ত উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ছয় জন।

বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয়টির ৬ষ্ঠ উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

 


উপাচার্যের কথা

করোনাভাইরাসের কারণে আনুষ্ঠানিকভাবে উদযাপিত হচ্ছে না প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী
উপাচার্য, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী জানান, বর্তমানে চলমান করোনাভাইরাসের এ সংকটময় পরিস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে উদযাপিত হচ্ছে না বিশ্ববিদ্যালয়টির এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের জন্য বছরের প্রথমেই একটা পরিকল্পনা নিয়েছিলাম আমরা। কিন্তু বর্তমানে করোনা ভাইরাসের এ পরিস্থিতিতে আমাদের সবারই তো হাত-পা বাঁধা। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সকল উপাচার্যবৃন্দদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে ক্রেস্ট দিয়ে সম্মাননা জানানোর পরিকল্পনাও আমারা নিয়েছিলাম। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আমরা আগামীতে জাঁকজমকপূর্ণভাবে দিবসটি উদযাপন করবো।

তিনি করোনাভাইরাসের এ মহামারিতে সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে এবং নিজ বাসায় অবস্থান করার পরামর্শ দেন।