কেমন কাটছে শিক্ষার্থীদের

ঢাকা, শনিবার, ৬ জুন ২০২০ | ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

বন্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

কেমন কাটছে শিক্ষার্থীদের

তাহিন আক্তার ৭:৪৬ অপরাহ্ণ, মে ০২, ২০২০

print
কেমন কাটছে শিক্ষার্থীদের

দলবেঁধে বন্ধুদের সঙ্গে ক্লাস, রমজানের ইফতার, আড্ডা কোনো কিছুই এখন আর নেই। মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে সবকিছু স্থবির হয়ে আছে। বন্ধ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। দৈনন্দিন জীবনে অনেক পরিবর্তন এসেছে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন- তাহিন আক্তার

প্রিয় লেখকের বই পড়া হচ্ছে

জান্নাতুল তানিয়া সুলতানা
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

আমার ছোট বেলা থেকেই বই পড়ার নেশা। তবে সময়ের সাথে সাথে লেখকের আর রুচির পরিবর্তন হয়েছে। আগে পড়তাম তিন গোয়েন্দা, ঠাকুমার ঝুলি এখন পড়ি প্রিয় লেখক হুমায়ুন আহমেদের বই। একাডেমিক পড়াশোনার চাপে অনেকদিন ধরে প্রিয় লেখকের বই পড়া হয় না। কিন্তু এই হোম কোয়ারান্টাইনের সময়টা আমার ভালোই কাটছে। বিশেষ করে শখের বিষয়গুলো এখন বাস্তবায়ন করছি। গত একমাসে ৮টা বই পড়েছি। আরো ১০/১২টা বইয়ের পিডিএফ নিয়ে রেখেছি। রমজান মাসে এইগুলো পড়ে ফেলবো। তবে এই সময়টাতে আমার শখের নতুন বিষয় যোগ হয়েছে। সেটা হলো ইউটিউব দেখে দেখে নতুন নতুন রেসিপি শিখছি। এ ছাড়া আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে তাদেরকে সচেতন করার কাজ করছি।


নিয়মিত গানের চর্চা করছি

তানজিলা রহমান
চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

অতিষ্ঠ লাগছে হোম কোয়ারান্টাইনের এই বন্দি জীবন। তবুও পরিস্থিতির কারণে আমাদের এটা মেনে নিতে হবে। তবে সব সময় আমি একটু অলস প্রকৃতির। গান গাইতে আর আড্ডা দিতে খুবই ভালবাসি। কিন্তু ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় সেই সুযোগ আর নেই। এজন্য বন্ধুদের অনেক মিস করছি। করোনার কারণে গত দেড় মাস ধরে ঘরেই আছি। এই সময়ে বাবা পড়ার বিষয়ে নির্দেশনা দিলে বই নিয়ে পড়তে বসি।
মাঝে মাঝে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রিয়জনদের খোঁজখবর নেওয়ার চেষ্টা করছি। এছাড়া পরিবারের সদস্যদের সাথে রোমান্থকর স্মৃতি নিয়ে গল্প করছি আর মাঝে মাঝে লুডু লেখছি। পাশাপাশি নিযমিত গান চর্চা অব্যাহত রেখেছি।

 

নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করছি

সোনিয়া সুলতানা
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

এই দুর্যোগকালীন সময়ে কারোই ভালো লাগার কথা না। তবুও এই পরিস্থিতি মেনে নিয়ে মা-বাবা, ভাই-বোনদের নিয়ে আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি। চেষ্টা করছি সময়টা যেন অপচয় না হয়। ধর্মীয় রীতিনীতি অনুযায়ী রোজা পালন করছি।
নিয়মিত মায়ের কাজে সহযোগিতা করছি। এছাড়া প্রতিদিন নতুন কিছু শেখার চেষ্টা করছি। বিশেষ করে নতুন নতুন বই পড়ছি। আমার ছোট ভাই-বোনদের সময় দিচ্ছি।
তাদের পড়াশোনার খোঁজখবর নিচ্ছি। এছাড়া করোনার বিষয়ের পরিবারের সদস্যদেরকে সতর্ক করছি। মাঝে মাঝে দেশের গরিব, অসহসায় মানুষের কথা ও নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করি।

 

বাসায় কুরআন পড়া শিখছি

কেয়া রহমান
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

বর্তমানে হোম কোয়ারেন্টাইনে আছি। ঢাকার থাকার কারণে একটু বেশি উদ্বিগ্ন আছি। কারণ করোনার প্রাদুর্ভাব ঢাকায় সবচেয়ে বেশি। তবে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আছি বলে এখনো মনোবল হারায়নি। সময়টা কাজে লাগানোর চেষ্টা করছি। বাবা আমাকে কুরআন শেখানোর জন্য একজন শিক্ষক (হুজুর) ঠিক করে দিয়েছেন। যাতে আমি বিশুদ্ধ ভাবে কুরআন তেলাওয়াত করতে পারি। রমজান মাসে এটা আমার জন্য অনেক বড় পাওয়া। আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে তাদেরকে সচেতন করার কাজ করছি।