অবসরের বন্ধু বই

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২০ | ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

অবসরের বন্ধু বই

ওয়ালিয়ার রহমান ৫:৩৮ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৫, ২০২০

print
অবসরের বন্ধু বই

বৈশ্বিক মহামারি করোনার প্রার্দুভাবে বিশ্বের অধিকাংশ মানুষ এখন হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন। আমাদের দেশেরও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সাধারণ ছুটি চলছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও বন্ধ। কঠিন এবং খারাপ এক সময় পার করছি আমরা। তবে এই সময় কাজে লাগাতে পারেন বই পড়ে। বলা হয়ে থাকে, বই-ই আমাদের জীবনের সর্বোত্তম বন্ধু। বাস্তবেও কিন্তু তাই। একটি ভালো বই আমাদের কাছে কিছু চায়না কিন্তু দিতে পারে অপরিসীম জ্ঞান, আনন্দ এবং অনুপ্রেরণা। কল্পনার এক অন্য জগতেও চলে যেতে পারি বই পড়েই। সুস্থ, সুন্দর ও সাবলীলভাবে অবসর কাটানোর একটি অন্যতম মাধ্যম হলো ‘বই পড়া’।

অবসরে বই পড়ার কয়েকটি উপকারিতা-
বই আমাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করে
যেকোন ব্যাপার দেখার দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো থেকে শুরু করে বই আমাদের নতুন অনেক কিছু জানতে ও বুঝতে শেখায়। এমনকি আমরা দুঃখভারাক্রান্ত থাকলে ভালো কোন একটি বই পড়লে মন ভালো হয়ে যায় সঙ্গে সঙ্গে। ফ্রাঞ্জ কাফকা বলেছেন, আমাদের আত্মার মাঝে যে জমাট বাধা সমুদ্র সেই সমুদ্রের বরফ ভাঙার কুঠার হলো বই।
বই আমাদের উৎসাহ প্রদান করে
আমরা কোন কাজে ব্যর্থ হলে কিংবা পরাজিত হলে বই আমাদের সান্ত¡না ও উৎসাহ যোগায়। আমরা যেন পরবর্তীতে কঠোর পরিশ্রম করি ও সাহসী হই, সে শিক্ষা বই-ই আমাদের দেয়। আমাদের মনের ভেতরের যাবতীয় অজ্ঞতা বই দূর করে এবং আমাদের মূল্যবোধকে ব্যাপকভাবে জাগ্রত করে। এমনই উত্তম একটি বন্ধু হলো ‘বই’।
খারাপ যেকোন বই পড়ার অভ্যাস বর্জন করতে হবে। কোন বই-ই আদতে খারাপ নয়। কিন্তু কিছু কিছু লেখক অসাধু উদ্দেশ্যে কোন বই লিখে থাকলে আমাদের সে বই থেকে অবশ্যই দূরে থাকা উচিৎ। কেননা, এমন বই আমাদের জীবন দুর্বিষহ করে তোলে। আমাদের নীতিগত অবস্থান দুর্বল করে তোলে। এতে করে, ভালো যেকোন বই পড়তেও আমরা কুণ্ঠিতবোধ করি। শুধু শুধু তেমন বই পড়ে সময় ও শক্তি নষ্ট করার কোন মানে হয় না। ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ বলেছেন, জীবনে তিনটি জিনিসের প্রয়োজন- বই, বই এবং বই।
ভালো বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে
কোন বই পড়বেন আর কোন বই পড়বেন না, তা পছন্দ করতে হবে সতর্কতার সঙ্গে। কুরুচিপূর্ণ বই আমাদের চরিত্রহানি ঘটায়। ছোট বাচ্চা এবং বয়স্ক মানুষদের বুঝেশুনে ভালো বই পড়তে দেওয়া উচিৎ। কারণ, তাদের মন খুব নরম থাকে। একটি ভালো বই আমাদের বন্ধু, দার্শনিক ও পথপ্রদর্শক হতে পারে। বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায়, বই হচ্ছে অতীত আর বর্তমানের মধ্যে বেঁধে দেয়া সাঁকো।
জীবনে আনন্দ যোগায় একটি ভালো বই
মানুষ আনন্দের জন্যেই সম্পদ এবং শক্তির মালিক হতে চায়। একটি সুস্থ জীবন সকলেই কাম্য করে যেন ভালো মতন বাঁচতে পারে। বর্তমান যুগে মানুষ সবকিছুতেই আনন্দ খোঁজে। বিজ্ঞানের সকল আবিষ্কার ও উদ্ভাবন করাই হয়েছে মানুষের পরিতৃপ্তির জন্যে। খেলাধুলা, ঘুরে বেড়ানো কিংবা সিনেমা দেখে আমরা সকলেই সময়গুলো উপভোগ করতে পারি। কিন্তু আসল আনন্দ পাওয়া যায় বই পড়ার মাধ্যমে। ভালো বই পড়লে আমরা যেন নিজেদেরই ভুলে যাই। পৃথিবীর কোন দুশ্চিন্তা আমাদের স্পর্শ করতে পারেনা। আমরা যেন মুহূর্তের মধ্যেই সৌন্দর্য, কল্পনা এবং আনন্দের সাগরে ভেসে যাই।
বই পড়–য়া মানুষকে সকলেই ভালোবাসে
যিনি সর্বদা বই পড়তে ভালোবাসেন, তিনি যেন একটি জ্ঞান-ভা-ার! তিনি সব ব্যাপারেই কিছু না কিছু ধারণা রাখেন। একজন পড়–য়া মানুষ কিন্তু ভালো বক্তা। তার একটি আলাদা সামাজিক সম্মান রয়েছে। তিনি যেকোন কিছুর ব্যাপারেই কথা বলতে পারেন। এজন্যে সকলেরই বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিৎ।
বইয়েরও বিভিন্ন ধরণ আছে
কিছু বই আছে একেবারে প্রকৃতির ওপর ভিত্তি করে লেখা। অনেকেই এমন বই পড়তে ভালোবাসেন। কিছু বই আছে জ্ঞানভিত্তিক, অনুপ্রেরণামূলক আবার কিছু রয়েছে হাস্যরসাত্মক। আপনার জন্য কোন বই মানানসই, তা বেছে নিন। যেকোন বই পড়তে শুরু করার আগে আমাদের খুব যতœশীল হওয়া উচিৎ। ভালো বই আমাদের বিভিন্নভাবে গুণান্বিত করে তোলে। কিন্তু খারাপ যেকোন বই আমাদের রুচিকে বিকৃত করে তোলে। এমন বই বর্জন করাই শ্রেয়। দেকার্তের ভাষায়, ভালো বই পড়া মানে গত শতাব্দীর সেরা মানুষদের সাথে কথা বলা।