প্রতিনিয়তই ‘মুগ্ধতা’ ছড়ায় প্রাণের ৭৫৩ একর

ঢাকা, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২০ | ২৭ চৈত্র ১৪২৬

প্রতিনিয়তই ‘মুগ্ধতা’ ছড়ায় প্রাণের ৭৫৩ একর

রাজিয়া সুলতানা পারুল, রাবি ৮:৫৭ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ০১, ২০২০

print
প্রতিনিয়তই ‘মুগ্ধতা’ ছড়ায় প্রাণের ৭৫৩ একর

মহান মুক্তিযুদ্ধ বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায়। এ যুদ্ধের রয়েছে গৌরবময় এক ইতিহাস। সেই ইতিহাসের একাংশ জুড়ে রয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক-শিক্ষার্থী। মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন শিক্ষকসহ অন্তত ৩০ জন শিক্ষার্থী।  এছাড়া ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আত্মোৎর্গের মতো অদ্বিতীয় ঘটনাটিও ঘটেছিল এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনেই। যা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এছাড়া দেশের সব যৌক্তিক আন্দোলনেও এই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ভূমিকা রয়েছে।

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এ ক্যাম্পাসটি ৭৫৩ একর জায়গা জুড়ে অবস্থিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ, ভবন, ও হলগুলো এমন ভাবে সাজানো যা দেখে যে কেউই মুগ্ধ হয়। বিশ্ববিদ্যালয়টির এমন  সৌন্দর্যের টানে হাজারো শিক্ষার্থী প্রতি বছর এখানে ভর্তি হন। যাদের স্বপ্ন পূরণে সারথী হয় এ ক্যাম্পাস। ক্যাম্পাসটির সৌন্দর্যের মুলে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির অসংখ্য গাছ-গাছালি, পুকুর, সুসজ্জিত দালানকোঠা, ফুলেল বাগান। রয়েছে স্টেডিয়াম, সুইমিংপুল ও ক্যাম্পাসের রেল লাইন। এছাড়াও শীতের মৌসুমে অতিথি পাখির আগমন এ সোন্দর্যের মাত্রাকে বাড়িয়ে দেয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ধরে প্রবেশ করা মাত্রই হাতের বাম পাশে সাবাস বাংলাদেশ’র ভাস্কর্যটি চোখে পড়ে। একটু সামনে এগোতেই চোখে পড়ে প্রথম শহীদ বুদ্ধিজীবী ড. শামসুজ্জোহার কবর। ওখান থেকে বাম পাশে তাকালেই চোখে পড়ে ঐতিহাসিক প্যারিস রোড। ঐতিহ্যবাহী এই রোডের দু’পাশের গগনশিরীষ গাছ। যা সৌন্দর্যের মাত্রা আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে তোলেছে। হাতের ডান দিকে ১০০ গজ সামনে এগোলেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। আর এখানেই রয়েছে মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক প্রথম জাদুঘর। যেটি শহীদ স্মৃতি সংগ্রহশালা নামে পরিচিত। শহীদ মিনারের উল্টো দিকে অবস্থিত রাবির কেন্দ্রীয় মসজিদ। মসজিদের আঙ্গিনা এতোই পরিচ্ছন্ন যে, এটা যে কাউকে মুগ্ধ করবে। ক্যাম্পাসের উত্তর-পূর্ব দিকে রয়েছে ঐতিহাসিক এবং অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান- বদ্ধভূমি। বাংলাদেশের ইতিহাসের নির্মম বরবরতার চিরন্তন সাক্ষর এই বদ্ধভূমি।

পঠন-পাঠন ও গবেষণাতেও বিশ্ববিদ্যালয়টি পিছিয়ে নেই। বিভিন্ন সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নানারকম কার্যক্রমে সবসময় প্রাণবন্ত থাকে প্রাচ্যের ক্যাম্ব্রিজ খ্যাত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। বইপ্রেমীদের জন্য রয়েছে এখানে পাঠচক্রের ব্যবস্থা। সেই পাঠচক্রে যেমন সাহিত্যের আলোচনা করা হয় তেমনি চলে এখানে রাজনৈতিক আড্ডাও। রাজনীতির এই আলোচনায় যেমন স্থান পায় দেশীয় রাজনীতি তেমনি এখানে স্থান পায় আন্তর্জাতিক রাজনীতিও। ক্যাম্পাসটি ঘিরে নানারকম রহস্য এবং ক্যাম্পাসের প্রতিদিনের ঘটনাবলিগুলোকে সবার সামনে লেখনির মাধ্যমে তুলে ধরার জন্য রয়েছে সাংবাদিক সংগঠনও।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে জাতিসংঘের ধারণাকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরার জন্য রয়েছে ছায়া-জাতিসংঘ নামক সংগঠন। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের অধিকার নিশ্চিতের লক্ষে কাজ করে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘ইচ্ছে’। একেবারেই নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে তারা। যুক্তি-তর্ক যেন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা এখানে। কিন্তু এই যুক্তি-তর্কের মাধ্যমেই যদি জাতীয় কোন সমস্যার সমাধান হয় তাহলে ক্ষতি কোথায়! এমন উদ্দেশ্য থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনে গড়ে উঠেছে বিতর্ক সংগঠন।

শিক্ষর্থীদের আড্ডা যেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্যের অন্যতম আধার। ক্যাম্পাসের চত্বরগুলো প্রতিনিয়ত যেন মেতে থাকে আড্ডায়। ক্লাসের ফাকে কিংবা বিকেলে সময় পেলেই বন্ধুরা মিলে আড্ডা দিতে যেন ভুলে না কেউ। নিজের মধ্যকার হতাশা, কিংবা প্রেমে ব্যর্থতা, আবার জীবন নিয়ে ভবষ্যিৎ পরিকল্পনা সবকিছুরই খন্ড বা বিস্তর আলোচনার স্থান যেন এই আড্ডাস্থল।