প্রাক্তন-বর্তমানদের মিলনমেলা

ঢাকা, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৮ আশ্বিন ১৪২৭

প্রাক্তন-বর্তমানদের মিলনমেলা

আশিক ইসলাম ৩:১৭ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২০

print
প্রাক্তন-বর্তমানদের মিলনমেলা

প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে, জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের তৃতীয় দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন। এই আয়োজনে উৎসবে মেতে ছিল সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা। বয়সের ভেদাভেদ ভুলে সবাই একত্রিত হয়েছিল আনন্দ আয়োজনে। সাবেকরা বর্তমানদের সঙ্গে বিনিময় করেছেন হাজারো স্মৃতি। আর বর্তমানরা পুরনো দিনের গল্প শুনে আবেগে আপ্লুত হয়েছেন। সম্প্রতি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস বিভাগ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন আয়োজন করে এই মিলনমেলার।

প্রাণের আকুতির টানেই যেন তারা চলে এসেছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মো. শহিদুল্লাহ একাডেমিক প্রাঙ্গণে। তাদের অংশগ্রহণে উৎসবে পরিণত হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের অঙ্গণ। কত বছর আগে ফেলে যাওয়া ক্যাম্পাসে আবার তাদের পদচারণা! বন্ধুত্বের টানে সাড়া দিতেই পুরনো ক্লাস রুম, সেই চিরচেনা প্রিয় ক্যাম্পাসে পা রেখেছেন সাবেকরা। চোখে-মুখে মিলনের এক অদ্ভুত আবেশ, হারানোকে ফিরে পাওয়ার উচ্ছ্বাসে বাঁধনহারা তারা। বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী স্মৃতিফলকে আড্ডায় বসেছিল ১৯৯৪ সালের মাস্টার্স ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। তাদের মধ্যে একজন শামসুর রহমান শামস্ জানালেন অনুভূতির কথা।

তিনি বলেন, ১৯৯৪ সালের মাস্টার্স ব্যাচ ১৯৯৭ সালের ডিসেম্বরে পরীক্ষা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শেষ হয়। দীর্ঘ ২৩ বছর পর বিভাগের আয়োজনে ক্যাম্পাসে এসে বন্ধু, শ্রদ্ধাস্পদ বড়ভাই, স্নেহের ছোটভাই ও পরম শ্রদ্ধাভাজন শিক্ষক এবং অতি প্রিয় বিভাগের কর্মচারীদের সাথে মিলিত হয়ে আজকের প্রায় প্রৌঢ় বয়সের কথা ভুলে গিয়েছিলাম। দুদিন ব্যাপী অনুষ্ঠানে যতই সময় শেষ হয়ে আসছিল ততই মন দুঃখ ভারাক্রান্ত হয়ে উঠছিল। এই আনন্দ আমার কাছে বেঁচে থাকার আয়ুষ্কাল বাড়িয়ে দিয়েছে।

সেলফি তোলা থেকে শুরু করে, গলা ছেড়ে গান গাওয়া, বন্ধুর কাঁধে হাত রাখা আর নেচে-গেয়ে একাকার সবাই। সাবেকদের মনে ছিল সেই সোনালি অতীত ফিরে পাওয়ার আকুলতা। কেউ ক্যাম্পাসের স্মৃতিময় জায়গাগুলো ঘুরে ঘুরে দেখছেন। যে যেভাবে পারছেন উপভোগ করছেন বহুদিন বাদে প্রিয় চত্বরে ফেরার প্রতিটি মুহূর্ত। মাস্টার্স ২০১১ ব্যাচের শিক্ষার্থী রাজিউল আমিন লিভোন বলেন, বিভাগের সবার অংশগ্রহণে খুব ভালো লাগছে। এরকম অনুষ্ঠানে আয়োজন প্রতিনিয়ত হোক। আর আমরা যারা বের হয়ে গেছি তাদের উচিত ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যারা অনার্স মাস্টার্সে অধ্যয়ন করছে তাদের প্রতি খেয়াল রাখা। আমাদের যাদের ন্যুনতম সুযোগ আছে তাদের উচিত সেসব জায়গাগুলোতে ছোট ভাইদের সুযোগ করে দেওয়া। এখানে শুধু আনন্দ করাই উদ্দেশ্য নয়। বিভাগের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা আলোচনাও এমন আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

মাস্টার্স ২০১৮ ব্যাচের শিক্ষার্থী শিরিন জামান বলেন, বিভাগের এবারের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের অনুষ্ঠানে আসতে পেরে অনেক ভালো লাগছে, অনেক মজা করেছি। এই দিনগুলো বারবার ফিরে আসুক সে প্রত্যাশা।