লেখা থাকুক বন্ধুত্বে

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১২ ফাল্গুন ১৪২৬

লেখা থাকুক বন্ধুত্বে

আরাফাত শাহীন ১২:২৮ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৯, ২০১৯

print
লেখা থাকুক বন্ধুত্বে

আমার কাছে মনে হয়, এইতো সেদিন আমরা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ ক্যাম্পাসে একবুক স্বপ্ন এবং আশা নিয়ে এলাম। কিন্তু সময়টা যে এত দ্রুত ফুরিয়ে গেছে এবং আমাদের বিদায় নেওয়ার সময়ও চলে এসেছে একদমই টের পাইনি। আমি আমার অনেক বন্ধুকে এই ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেছি। তারাও আমাকে একই উত্তর দিয়েছে।

সময়টা যে বড্ড দ্রুত চলে যায়! ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে শহিদুল্লাহ কলা ভবনের ২০৪ নম্বর রুমে আমাদের ক্লাস শুরু হয়েছিল এবং সেদিন থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের পথচলা শুরু হয়। তারপর একে একে কেটে গেছে চারটি বছর। আমরা অনার্স শেষ করে এখন মাস্টার্সের ক্লাস করছি। আর কয়েকমাস পরে সেটাও শেষ হয়ে যাবে। তারপর তো মতিহারের এই চিরসবুজ চত্বরকে ছেড়ে চিরতরে চলে যেতে হবে! অনার্স শেষ হয়ে যাওয়ার পর একাডেমিকভাবে আমাদের চারটি গ্রুপে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক গ্রুপের ক্লাস সিডিউল ভিন্ন। ফলে একজনের সঙ্গে অপরজনের এখন খুব একটা দেখা-সাক্ষাৎ হয় না। এটা আমাদের জন্য কষ্টকর হলেও অনিবার্য পরিণতিকে মেনে নেওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। বন্ধুদের সঙ্গে কত স্মৃতিই না জমে আছে হৃদয়ের কোণে! শহিদুল্লাহ কলা ভবনের সামনেই রজবের চায়ের দোকান। ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে প্রায়ই সেখানে জমে উঠত আড্ডা। অনেক সময় কোনো বিষয় নিয়ে আমাদের ভেতর তুমুল বিতর্কও হয়ে যেত। কিন্তু কখনো চিড় ধরেনি বন্ধুত্বের সম্পর্কে।

প্যারিস রোডের প্রতিটি ধূলিকণায় আমরা আমাদের বন্ধুত্বের গল্প লিখে দিয়েছি। এই রাস্তা ধরে প্রায়ই আমরা ঘরছাড়া বোহেমিয়ানের মতো উদ্দেশ্যহীনভাবে হেঁটে বেড়িয়েছি। তারপর জোহা চত্বরে গিয়ে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আড্ডা দিয়েছি। এভাবেই কেটে গেছে আমাদের মধুর সময়গুলো। আর আনন্দের সময় তো একটু তাড়াতাড়িই পার হয়ে যায়! ক্যাম্পাস জীবনের সবচেয়ে বেশি স্মৃতি রয়েছে শহীদ মিনার চত্বরকে ঘিরে। ২০-২১ ডিসেম্বর সিনেট ভবনে কলা অনুষদের একটা আন্তর্জাতিক সেমিনার হয়ে গেল। সংবাদটা জানার পরপরই আমি আমার বন্ধুদের রেজিস্ট্রেশন করতে উদ্বুদ্ধ করি। একটা আন্তর্জাতিক সেমিনার থেকে একদিকে শেখা যাবে গুরুত্বপূর্ণ অনেক কিছু; আবার অনেকদিন পর আমরা সবাই একত্রিত হতে পারব। আমার অনেক বন্ধুই রেজিস্ট্রেশন করল।

আমরা সেমিনারকে ঘিরে আবার একত্রিত হলাম। বেশ কয়েকজন কাজ করলাম স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে। আসলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিদায় নেওয়ার সময় যত ঘনিয়ে আসছে ততই যেন ভালোবাসা উথলে উঠছে। তাই যদি না হবে তাহলে প্রতিটা কাজ করে এত আনন্দ পাব কেন! আর কিছুদিনের মাঝেই হয়তো আমরা একে অপরকে ছেড়ে যার যার গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যাব। কিন্তু বন্ধুত্বের এ সম্পর্কটা! এই সম্পর্ক কি কখনো শেষ হওয়ার! না, তা কখনো নয়। আমি বিশ্বাস করি, বন্ধুত্বের যে গল্পটা আমরা তৈরি করে গেলাম মতিহারের এ সবুজ চত্বরে, তা যুগ যুগ ধরে ঘুরে বেড়াবে সবার মুখে মুখে।