সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে...

ঢাকা, রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২০ | ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭

সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে...

হোসনেয়ারা খাতুন ১:৩২ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০১, ২০১৯

print
সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে...

ছোট বেলা থেকেই শিখে এসেছি, আমাদের চারপাশে যা কিছু আছে তা নিয়েই পরিবেশ গঠিত। বর্তমানে নানা সমস্যায় জর্জরিত আমাদের পরিবেশ। সমাজের পরিবর্তনের লক্ষ্যে আমরা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭২ জন শিক্ষার্থী দীক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে বিশ্ব স্কাউট আন্দোলনে যুক্ত হয়েছি। স্কাউটের ৭ টি আইন তথা- নিজেকে সৎ ও সত্যবাদী হিসেবে গড়ে তোলা, সকলের সাথে বন্ধুত্ব তৈরি, বিনয়ী ও আনুগত্য, জীবের প্রতি সদয় হওয়া, মিতব্যয়িতা, সর্বদা প্রফুল্ল থাকা এবং চিন্তা, কথা ও কাজে নির্মল থাকার শিক্ষা যেকোনো ব্যক্তিকে সুপথে চলার দিকনির্দেশনা প্রদান করে।

স্কাউট আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা রবার্ট স্টিফেনশন স্মিথ লর্ড ব্যাডেন পাওয়েল কর্মজীবনে সেনা কর্মকর্তা ছিলেন। ১৮৯৯ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার ক্ষুদ্র সীমান্ত শহর ম্যাফ্যেকিংয়ে তিনি ২১৭ দিন বুয়রদের দ্বারা অবরুদ্ধ ছিলেন।

এ সময় তিনি ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের দলে দলে বিভক্ত করে শত্রুপক্ষের দুর্গে দুর্গে সংবাদ আদান-প্রদানের কাজে ব্যবহার করেন এবং অত্যন্ত সফলতার সাথে সে কাজ সম্পন্ন করতে পেরেছিল। তখন ব্যাডেন পাওয়েল পরিকল্পনা করলেন এই সব ছেলে মেয়েদের সংঘবদ্ধ করতে পারলে বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমেও তারা সফলভাবে অংশগ্রহণ করতে পারবে। এ চিন্তা থেকে ১৯০৭ সালে ইংল্যান্ডের ব্রাউন্সি দ্বীপে ব্যাডেন পাওয়েল মাত্র ২০ জন বালক নিয়ে স্কাউট আন্দোলন শুরু করেন।

কালক্রমে তা সামাজিক আন্দোলনে রূপ নিয়ে ইংল্যান্ড ও আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে। ১৯৭২ সালের ৯ এপ্রিল গঠিত হয় বাংলাদেশ বয় স্কাউট সমিতি। সে বছরেরই ৯ সেপ্টেম্বর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতির ১১১ নং অধ্যাদেশ বলে বাংলাদেশ বয় স্কাউট সমিতিকে স্বীকৃতি প্রদান করেন। বাংলাদেশে স্কাউট আন্দোলনের বিস্তৃতিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকা ছিল চিরস্মরণীয়।

গত ২৩ থেকে ২৫ অক্টোবর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় রোভার স্কাউট গ্রুপের তিন দিনব্যাপী বার্ষিক তাঁবুবাস ও দীক্ষানুষ্ঠান সমাপ্ত হয়। দীক্ষা গ্রহণের পূর্বরাতে মহাতাঁবু জলসায় অগ্নি প্রজ্বলনের মাধ্যমে বিভিন্ন শিক্ষামূলকগান, নৃত্য, অভিনয়, কৌতুক,নাটক প্রভৃতি প্রদর্শনের মাধ্যমে আমরা প্রত্যেকে নিজেদের সুপ্তপ্রতিভা বিকশিত করার চেষ্টা করি। কিশোর ও যুবসমাজের নৈতিকঅধঃপতন রোধ, দেশের প্রতি আনুগত্য এবং ব্যক্তি পর্যায়ে আত্ম-নির্ভরশীলতার তৈরি করতে স্কাউটিং কার্যক্রমকে আরো গ্রাম পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে হবে।