তরুণদের দক্ষতা অর্জনে কাজ করতে হবে

ঢাকা, রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২০ | ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭

তরুণদের দক্ষতা অর্জনে কাজ করতে হবে

ওয়ালিয়ার রহমান ২:১৯ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৪, ২০১৯

print
তরুণদের দক্ষতা অর্জনে কাজ করতে হবে

ব্যারিস্টার হাফিজুর রহমান খান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে এলএলবি (অনার্স) ও মাস্টার্স শেষ করে লন্ডনের নরদামবিরিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে এলএলবি এবং ওই একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বার এফেশনাস কোর্স সম্পন্ন করে বার-অ্যাট-ল ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি বার-অ্যাট-ল পড়াশোনা, অভিজ্ঞতা, আইন বিষয়ে ক্যারিয়ার বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন- ওয়ালিয়ার রহমান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২৬তম ব্যাচের মেধাবী ছাত্র ছিলেন এবং বর্তমান ব্যারিস্টার অনুভূতি কী?
অনুভূতিটি একেবারেই অন্যরকম। মা-বাবার স্বপ্নপূরণের পাশাপাশি নিজের স্বপ্নপূরণ। এই অনুভূতি থেকেই এ পেশায় আসা। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জন্য কিছু করার জন্য সবসময় একটি দায়বদ্ধতা কাজ করে।

দেশ-বিদেশে ব্যারিস্টার পড়াশোনার সুযোগ-সুবিধা কেমন?
বিদেশের ব্যারিস্টার পড়াশোনার সুযোগ অনেক ভালো। এদেশের ছাত্ররা দেশে L L.B শেষ করে বিদেশে গিয়ে ব্যারিস্টার পড়তে বার-অ্যাট-ল করতে পারেন। কিন্তু দেশের পড়াশোনার ব্যবস্থা আরেকটু উন্নত করলে ছাত্রদের জন্য সুবিধা হয়, এই প্রোগ্রাম এদেশ থেকে করলে ছাত্রদের জন্য বার-অ্যাট-ল করা আরও সহজ হয়।

বার-অ্যাট-ল ডিগ্রি অর্জন করতে কী কী যোগ্যতা লাগে?
ব্যারিস্টারি পড়াশোনার জন্য প্রথমে ব্রিটিশ এল. এল. বি পাস করে B S B,Bar-এর মাধ্যমে ব্রিটেনের বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে বার প্রফেশনাল ট্রেনিং কোর্স Complte করার পর বিভিন্ন Inr থেকে Bar-at-Law Degree প্রদান করা হয়।

বিদেশে ব্যারিস্টার ডিগ্রি নিতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য কোন বৃত্তির ব্যবস্থা আছে?
আমার জানা মতে, এই দেশের ছাত্রদের জন্য কোনো বৃত্তির ব্যবস্থা নেই। কিন্তু আমি দেখেছি বিদেশি অনেক ছাত্রকে তাদের নিজ দেশে থেকে স্পন্সর করা হয় বারের জন্য। আমার মতে, এদেশের সরকারেরও উচিত এরকম একটি উদ্যোগ নেওয়া মেধাবী উৎসুক শিক্ষার্থীদের জন্য।

আপনি কোন বিষয়ে আইনি পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান করেন?
আমি কোম্পানি, শ্রম আইনে এবং জমি-সংক্রান্ত বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করতে স্বাচ্ছন্দ্য পাই। কিন্তু আইনজীবী হিসেবে আইনের সব বিষয়ে কিছু প্রাথমিক ধারণা রাখতে হয়।

পেশাগত জীবনে আপনার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে কিছু বলুন?
প্রতিশ্রুতি ও অধ্যবসায়- এই পেশার মূলমন্ত্র। একজন ব্যারিস্টারের জীবন তার ক্লায়েন্টদের কেন্দ্র করে ঘোরে। এই পেশায় আসতে আগ্রহীদের মাথায় রাখতে হবে, আপনাকে সবসময়ই কাজ করতে হবে এবং আপনার ক্লায়েন্টদের কথা চিন্তা করতে হবে। আর এ অধ্যবসায় আসে পেশার প্রতি ভালোবাসা থেকে। আমি আমার এই ব্যস্ত জীবনই উপভোগ করি কারণ পেশার প্রতি আমার আবেগ কাজ করে।

শিক্ষার্থীদের জন্য আপনার কোনো পরামর্শ-
আইন যারা পড়তে ইচ্ছুক তাদের প্রায়ই নিরস করা হয় যে, উকিলদের পেশা হলো মিথ্যা কথা বলা। যেটা একদমই সত্যি নয়। আমি বিশ্বাস করি, এই পেশার মূলমন্ত্র হলো সৎ থাকা এবং ক্লায়েন্টদের আইনগতভাবে সহায়তা করা। তাই আমার পরামর্শ হলো আইন পড়তে সততা এবং অধ্যবসায়কে মূলমন্ত্র করে দায়বদ্ধতার প্রতি মানসিকভাবে প্রস্তুত করতে হবে।

পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে কিছু বলুন।
পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য অবশ্যই একজন আইনের ছাত্রকে প্রকৃত আদালতের পরিবেশ রক্ষা করতে হবে। তত্ত্বীয় জ্ঞানকে ব্যবহারিক জ্ঞানে রূপান্তর করতে হবে। আমাদের দেশের সবাই চাকরির ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা চায়, অথচ নতুনদের সুযোগ দিতে চায় না। এভাবে অভিজ্ঞ অর্জন হবে কীভাবে? L L.B-এর পর অবশ্যই একজন ছাত্রকে কাজ করতে হবে তার পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য। ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি কখনোই কিছু ভাবতে চাই না, বর্তমানে বেশি বিশ্বাস করি। তবে আমার ইচ্ছা আছে, দারিদ্র্য, অসহায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো, দাতব্য চিকিৎসালয়ের মতো দাতব্য আইন সহায়তা কেন্দ্র তৈরি করার।