বন্ধুত্বের রঙ যেন রঙধনু

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

বন্ধুত্বের রঙ যেন রঙধনু

ছাফওয়ান উল্লাহ ১:০৪ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০৩, ২০১৯

print
বন্ধুত্বের রঙ যেন রঙধনু

বন্ধুত্বের মানে কী? এর কি কোনো সংজ্ঞা আছে? ক্যাম্পাস বন্ধুত্ব কি অন্য সম্পর্কের চেয়ে ভিন্ন? রুচি, গোত্র, ধর্ম, বয়স বা বন্ধুত্বের নির্দিষ্ট কোনো সময় কি আছে? স্বভাবতই একেকজন প্রশ্নগুলোর উত্তর একেকভাবে দিবে। বলা হয়ে থাকে পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী সম্পর্ক হচ্ছে বন্ধুত্ব। উইলিয়াম শেকসপিয়ারের একটা বিখ্যাত উক্তি রয়েছে এই বিষয়ে, ‘কাউকে সারাজীবন কাছে পেতে চাও? তাহলে প্রেম দিয়ে নয়, বন্ধুত্ব দিয়ে আগলে রাখ। কারণ প্রেম একদিন হারিয়ে যাবে কিন্তু বন্ধুত্ব কোনোদিন হারায় না।’

জীবনের বিভিন্ন স্তরে বন্ধুত্বের ধরন ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। স্কুল-কলেজের বন্ধুত্ব আর বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুত্ব একইরকম হয় না। যেনতেনভাবেই স্কুল-কলেজের বন্ধুত্ব হয়ে যায়। দিনের পর দিন চলে গেলেও ভাবতে হয় না কিছুই। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুত্বটা আকস্মিকতার মতোই। কারণ বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে নতুন মোড় নিয়ে আসে, নতুনভাবে জীবন শুরু হয়। বন্ধুত্ব সাধারণত একই মানসিকতার ব্যক্তির মধ্যে হলেও ক্যম্পাসে এর ব্যতিক্রম দেখা যায়। কয়েকজন বন্ধু একসঙ্গে চলাফেরা করলেও তাদের মাঝে ভিন্নতা চোখে পড়ার মতো। আর ক্যাম্পাস জীবনের বন্ধুত্বের সৌন্দর্যটাই এখানে। ভিন্নতাগুলোই বন্ধুত্বকে গভীর করে। এখানে বন্ধুত্বের রঙটা রঙধনুর মতো। বিশ^বিদ্যালয়ের বন্ধুত্বে স্বার্থের সার্থকতা ফুটে ওঠে, এমন কথা প্রায়ই শোনা যায়। আবার ছেলে-মেয়ে বন্ধুত্ব নিয়েও নানান কথার ছড়াছড়ি হয়। বন্ধুত্বের মতো অনন্য এই সম্পর্কের ক্ষেত্রেও শিক্ষার্থীদের ভাবতে হয় সত্যিকার বন্ধুত্বটা নিয়ে। ক্যাম্পাসের প্রথমবর্ষ থেকে সায়মা, ঝিনুক, আর সজীব বন্ধুত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে পড়ে। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে বন্ধুত্বের রকম কেমন হয় বা কেমন হওয়া উচিত, এটা নিয়ে এদের সঙ্গে কথা বলে বিভিন্ন মতামত পাওয়া যায়। নোবিপ্রবি অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী ঝিনুক বলেন, পারিবারিক বন্ধনের বাইরে আরেকটা সম্পর্কের নাম হলো বন্ধুত্ব। যার একটা বড় অংশ জুড়ে রয়েছে এই ক্যাম্পাস লাইফ। লোকমুখে শোনা যায়, ক্যাম্পাস লাইফের বন্ধুত্ব নাকি শুধুই স্বার্থপরতা। আসলেই কি তাই? পরিবার ছেড়ে যখন প্রথম ক্যাম্পাস নামক এই অপরিচিত জায়গায় আসি, তখন ভীতু এই আমি আপন করে পাশে পেয়েছিলাম বন্ধুদের। চত্বরে বসে আড্ডা, সবাই মিলে ক্যাম্পাস ঘোরাঘুরি, সামান্য জ্বরে কেউ মাথায় পানি ঢালছে তো কেউ ওষুধ নিয়ে দৌড়াদৌড়ি করছে, রান্না নেই তো আজ আমার সাথে খাবি চল..! সর্বোপরি ক্যাম্পাস বন্ধুত্ব ভোলার নয়।

সজীব বলেন, স্থানভেদে বন্ধুত্বের সংজ্ঞাগুলোর রকমফের হয়। স্কুল জীবনেই মানুষ সবচেয়ে বেশি সময় কাটায়, তাই স্কুলের বন্ধুত্বগুলোর আবেদন অনেক বেশি। কলেজ জীবন কেটে যায় কিছু বুঝতে না বুঝতেই। তারপর আসে বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবন। অনেকেই বলে এ সময় বন্ধুত্বের মুখোশের আড়ালে থাকে অন্য চিত্র। এ সময় নাকি স্বার্থই সব। আমি ঠিক এ ব্যাপারটার সঙ্গে একমত নই। স্বার্থান্বেষীরা সহপাঠী হতে পারে ঠিকই; কিন্তু বন্ধু নয়।

সায়মা বলেন, স্কুল-জীবনের মতো বিশ্ববিদ্যালয়েও অনেক বছর কাটে। বন্ধুদের বয়স বাড়ে অভিজ্ঞ হয়। বন্ধু বা বন্ধু নয় এমন মানুষের তফাত করতে পারে। নিজের মত, নিজের আবদারগুলো রাখার মতো, নিজের অত্যাচারগুলো সহ্য করার মতো, হুটহাট বিপদে কাছে পাওয়ার মতো যাদের পাওয়া যায় তারাই বন্ধু। এক্ষেত্রে বয়সের ধরাবাধা কোনো মাপকাঠি নেই। বড় ছোট যেকেউ বন্ধু হতে পারে।

মানুষ মাত্রই ভুল, একথার স্বার্থকথা রক্ষার্থে অনেকেই বন্ধু নির্বাচনেও ভুল করে ফেলে। মাশুলটাও বেশ বড়। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের গণ্ডিতে এসে খারাপ বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে অনেকেই নিজেকে হারিয়ে ফেলে নেশার বৃত্তে বা অপরাজনৈতিক কাজে বা কাম্য নয় এমন যেকোনো কাজে। এতে অনেক সোনালি ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যায়। তাই বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ভালো বন্ধুগুলোকে সময় নিয়ে খুঁজে বের করে তাদের সঙ্ঘ লাভ করা আর সাপের মত ছোবল দেওয়া মানুষগুলো থেকে দূরে থাকাই কাম্য।
ক্যাম্পাস জীবন শেষ হয়ে যায়। বন্ধুত্বগুলো জমা হয় স্মৃতির খাতায়। তবুও বন্ধুত্বের আবেদনটা থেকে যায় চিরকালই। বন্ধুত্বটা যে মেকি নয়! ক্ষণিকের এই ক্যাম্পাস বন্ধুত্ব বেঁচে থাকুক আজীবন।