পছন্দের বিষয় আইন

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০১৯ | ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

উচ্চশিক্ষা

পছন্দের বিষয় আইন

রায়হান মাহবুব ১:২৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৭, ২০১৯

print
পছন্দের বিষয় আইন

ছোটবেলায় জজ-ব্যারিস্টার আর নামকরা উকিলদের নাম শুনলে বড় শিক্ষিত-সমাদৃত মানুষ বলে মনে হতো। এ পদবীগুলো শুনতে যতটা না মধুর, অর্জনটা তত কষ্টের। বলা হয়, ‘বুদ্ধিমানের কাজ নয় সেই শহরে বসবাস, যেখানে না কোনো আইনজীবীর দেখা মেলে’। পৃথিবীর সব থেকে অভিজাত পেশার মধ্যে অন্যতম আইন পেশা।

আর এ পেশাতে যারা মনস্থির করতে চায়, তারা নিশ্চয় আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা লাভকে তালিকার শীর্ষে রাখবে এটাই স্বাভাবিক। আর এ সেক্টরে মেধাবীদের দখল বরাবরই বেশি। বর্তমানে এ বিষয়ে উচ্চশিক্ষা লাভ করে ডিগ্রিধারীরা বিজেএস-বিসিএস প্রস্তুতি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, নিম্ন-উচ্চ আদালত, হাইকোর্ট-আপিল বিভাগ ও করপোরেট আইনজীবী হিসেবে প্রাকটিস, ল’কলেজে শিক্ষকতা, ব্যাংক, মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিসহ আন্তর্জাতিক-মানবাধিকার সংস্থা, বিভিন্ন দেশের দূতাবাস ও এনজিওতে আইন কর্মকর্তা হিসেবে চাকরির সুযোগ পাচ্ছে। এ ছাড়া দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশের মাটিতেও সাইবার ক্রাইম, ইমিগ্রেশন, স্পোর্টস ও মিডিয়ার আইনজীবী হিসেবে কাজের সুযোগ রয়েছে।

জ্ঞানপিপাসু শিক্ষার্থীরা এ বিষয়ে উচ্চশিক্ষা লাভের সুযোগ পাবে কোথায়? বাংলাদেশে হাতেগোনা কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা লাভের সুযোগ আছে। এছাড়া প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সুযোগ থাকলেও তা খুবই ব্যয়বহুল। স্বাধীনতাত্তোর দেশের প্রথম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা লাভের সুবর্ণ সুযোগ। একমাত্র এ বিশ্ববিদ্যালয়েই আইন অনুষদভুক্ত ৩টি বিভাগ চালু রয়েছে। ১৯৮৭-৮৮ শিক্ষাবর্ষে ‘আল কানুন ওয়াশ শরিয়াহ’ নামে এখানে চালু হয় আইন বিভাগ।

যার বর্তমান নাম ‘আইন বিভাগ’। বিচারপতি হাফিজুর রহমান, ডেপুটি অ্যার্টনি জেনারেল মাসুদ রুমী, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক এ বিভাগেরই শিক্ষার্থী। জাতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের ফাহিমা খাতুন, মেসিখ্যাত জাতীয় পর্যায়ের অ্যাথলেটস, ফুটবলার এ বিভাগেই বর্তমানে অধ্যয়নরত। ক্রীড়াঙ্গন, সাংস্কৃতি, রাজনীতি, ডিবেটিংসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে জাতীয় পর্যায়ে কৃতীত্বের স্বাক্ষর রেখে চলেছে বিভাগটি। এখানে রয়েছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ডিজিটাল সেমিনার লাইব্রেরি, ওয়াইফাই সুবিধা সমৃদ্ধ ডিজিটাল ল্যাব, মুট কোর্ট প্রশিক্ষণের জন্য গ্যালারি, জ্যুরিস্টিক ক্লিনিক, সিসিটিভি ক্যামেরা নিয়ন্ত্রিত-মাল্টিপ্রজেক্টর সমৃদ্ধ শ্রেণিকক্ষগুলো। দেশে প্রথমবারের মতো কোনো আইন বিভাগে কোর্স ক্যারিক্যুলাম প্রণীত হয়েছে এখানেই। যা বিভাগকে উচ্চতর আসনে অধিষ্ঠিত করেছে। চালু হয়েছে ইন্টার্নশিপ ও থিসিস ব্যবস্থা। বর্তমানে এ বিভাগে ১৩ জন পিএইচডি ডিগ্রিধারীসহ ১৮ জন দক্ষ শিক্ষক জ্ঞানের মশাল জ্বালিয়ে যাচ্ছেন। ২০০৩-০৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে ‘আল-ফিকহ্’ নামে আরেকটি বিভাগের কার্যক্রম শুরু হয়। বিভাগটির বর্তমান নাম ‘আল ফিকহ্ অ্যান্ড লিগ্যাল স্টাডিজ বিভাগ’। ইসলামিক ও সাধারণ আইন জ্ঞানার্জনের সমান সুযোগ এ বিভাগে রয়েছে।
এখানকার শিক্ষার্থীরা এলএলবি ও এলএলএম’র সমান ডিগ্রি পেয়ে থাকে। বিসিএস, বিজেএসসহ প্রতিযোগিতার প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখে চলেছে এ বিভাগের শিক্ষার্থীরাও। বর্তমানে ৫ জন পিএইচডি ডিগ্রিধারীসহ মোট ৮ জন শিক্ষক পাঠদান করে যাচ্ছেন। সর্বশেষ ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে এ অনুষদের অধীন ‘আইন ও ভূমি ব্যবস্থাপনা বিভাগ’ নামে আরেকটি বিভাগ চালু হয়। বর্তমানে এ বিভাগের সভাপতির দায়িত্বে আছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. সেলিম তোহা।

এ ছাড়া রয়েছে ৪ জন সুদক্ষ শিক্ষক। এ বিভাগের শিক্ষার্থীরা আইনের পাশাপাশি ভূমি মন্ত্রণালয় ও ভূমি সম্পর্কিত যেকোনো চাকরিতে অগ্রাধিকার পাবেন। দেশে মানসম্মত ভূমি স্পেশালিস্ট জজ, ম্যাজিস্ট্রেট আইনজীবীর বড়ই অভাব।

এ বিভাগ থেকে ডিগ্রি অর্জন করে এসব অভাব পূরণ সম্ভব। অনুষদটির আয়োজনে জাতীয়-আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সভা-সেমিনারের আয়োজন করা হয়। এছাড়া অনুষদভুক্ত বিভাগের শিক্ষকদের নিয়ে নিয়মিত চলে ওয়ার্কশপ-ট্রেনিংয়ের মতো কার্যক্রম। অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. রেবা মণ্ডল বলেন, ‘এ অনুষদভুক্ত বিভাগগুলো একেকটি রয়েল বিভাগ। এখান থেকে বের হয়ে শিক্ষার্থীদের চাকরির জন্য অপেক্ষা করতে হয় না। অধ্যয়নরত অবস্থাও শিক্ষার্থীরা শিক্ষানবিস আইনজীবী হিসেবে কাজ করতে পারেন। আমাদের ছেলেমেয়েরা সুপ্রিম কোর্ট-হাইকোর্টসহ নিম্ন-উচ্চ আদালতে বিচারকের আসনে ও বিজ্ঞ আইনজীবী হিসেবে নিয়োজিত আছেন।