সায়ন্তনের শেষবেলা

ঢাকা, সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৯ | ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

সায়ন্তনের শেষবেলা

মুহাম্মদ আশরাফুল আলম ১:২৫ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৩, ২০১৯

print
সায়ন্তনের শেষবেলা

‘আয় আয় বন্ধুরা ফিরে আয়- শৈশব কৈশোরের ঠিকানায় আর একটা দিন কাটুক না হয় সব ভুলে।’ বন্ধুদের ফিরে আসার এই আহ্বান খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) শিক্ষাসমাপনী ব্যাচ-১৬ এর। খুবির এই শিক্ষাসমাপনী ব্যাচের সামগ্রিক নাম ‘সায়ন্তন’। ‘সহস্র প্রাণের প্রত্যয়ে, স্মৃতির উল্লাসে’ সায়ন্তনের শেষবেলার সমাপ্তি ঘটেছে রঙিন স্মৃতিতে।

২৬টি ডিসিপ্লিনের প্রায় আট শতাধিক শিক্ষার্থীর শেষবেলা রঙিন করতে থাকে তিনব্যাপী আয়োজন। মূলত শেষের বার্তা জানান দিতেই সায়ন্তনদের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু ‘ফ্ল্যাশ মবের’ মাধ্যমে।

আরবোভাইরাসের ‘স্কুল’ গানের মতো সায়ন্তনদেরও আহ্বান করা হয়। সব ভুলে আর একটা দিন কাটানোর। সায়ন্তনদের এই আহ্বানে সাড়া দিতেই সেদিন ক্যাম্পাসের হাদি চত্বরে ফ্ল্যাশ মবে হাজির হন সহস্রাধিক শিক্ষার্থী।

মুহূর্তেই এই আহ্বানে সাড়া দেন সায়ন্তনেরা। জড়ো হন শহরের শিববাড়ি মোড়ে। সায়ন্তনের ফ্ল্যাশ মব শিববাড়ি মোড়ে। একঝাঁক শিক্ষার্থীর গানের সঙ্গে নাচের নৈপুণ্য মুহূর্তেই দর্শকের ভিড়। ভিড় করা দর্শকের বুঝতে বাকি থাকে না ফ্ল্যাশ মবটি খুবির এবারের র‌্যাগের প্রচারণা।

তিন দিনব্যাপী আয়োজনের প্রথম দিনটার শুরু র‌্যালি দিয়ে। র‌্যালিটির শুরু ক্যাম্পাসের হাদী চত্বর থেকে। আয়োজকরা জানান, র‌্যাগ-১৯ শিক্ষাসমাপনী ব্যাচ-১৬ শুধু আয়োজকের ভূমিকায় থাকেন।

বিদায়ী ব্যাচের অর্থনীতি ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী শেখ সাইফ বিপ্লব বলেন, মাত্র একটা শব্দ সায়ন্তন। আট শতাধিক শিক্ষার্থীর সামগ্রিক নাম ‘সায়ন্তন’। জমিয়ে রাখা ভালোবাসা আর সহস্র স্মৃতির আয়নায় ‘সায়ন্তন’। শেষবেলার চাপাকান্নায় বুকভেজা প্রতি ফোঁটা চোখের অশ্রুতে সায়ন্তনের সমাপ্তি হয়। চোখের প্রতি ফোঁটা অশ্রু প্রমাণ করে চার বছরের তিল তিল করে জমানো স্মৃতি। হৃদপি- ভরা ভালোবাসাগুলো কত খাঁটি! কত নিবিড়! কত বিশুদ্ধ ছিল!

শিক্ষাসমাপনীর শেষদিনের কনসার্টে শিক্ষার্থীরা আর্কের হাসান ও অর্ণবের সুরে মাতেন। এ সময় পুরো ক্যাম্পাস রঙিন আলোকসজ্জা ‘সায়ন্তন’দের শেষবেলা রঙিন করে।