শরতের কাশফুলে মেতেছে ক্যাম্পাস

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৯ | ৮ কার্তিক ১৪২৬

শরতের কাশফুলে মেতেছে ক্যাম্পাস

ধীরা ঢালী ১১:৩৮ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৯

print
শরতের কাশফুলে মেতেছে ক্যাম্পাস

এই শরৎ-আলোর কমল-বনে
বাহির হয়ে বিহার করে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতার এই চরণগুলোর হাত ধরেই প্রকৃতির বুকে নেমে আসে শরতের আভা। শরৎ আসে সৌন্দর্য নিয়ে আর সেই সৌন্দর্যকে পূর্ণতা দান করে কাশফুল। শরৎ আর কাশফুলের যেন এক নীরব প্রেম। এ প্রেমের সবচেয়ে বড় সাক্ষী প্রকৃতি। উন্মুক্ত বিশাল আকাশ। তাতে নীলের ভেলায় ভাসছে সাদা মেঘ। আর নিচে সৌন্দর্যের মায়ায় উপছে পড়ছে উদার ভূমি। এর প্রায় সমস্তটা জুড়ে কাশফুল। এলোমেলো বাতাসে দুলছে। যেন এক উদাসী কিশোরীর এলো চুলের গোছা। সাদা এই কাশের সঙ্গে লুটোপুটি খেলতে কার না মন চায়। পুরো শরৎজুড়েই এমন দৃশ্যের দেখা মেলে সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। শহর আর মিশেলে গড়ে ওঠা ক্যাম্পাস যেন যান্ত্রিক নগরে এক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি।

শরতের অন্যতম অনুষঙ্গ কাশফুলে ছেয়ে গেছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। বিশাল এক মাঠজুড়ে সবুজের বুকে ফুটেছে কাশফুল। শরতের এই সঙ্গীকে সঙ্গ দিচ্ছেন ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থী ছাড়াও বহিরাগত সৌন্দর্য-পিপাসু মানুষ। এ যেন এক চিরন্তন দায় কাউকে নিরাশ করা সাজে না। বিশাল আকাশজুড়ে সাদা মেঘের ভেলা। তারই মধ্যদিয়ে কাশবনে ছড়িয়ে পড়ছিল চকচকে রোদ। আর এই চকচকে রোদ গায়ে মাখামাখি করে প্রকৃতি দেখার নতুন অভিজ্ঞতাও হলো শিক্ষার্থীদের। মাঝেমাঝে কোমল হাওয়া রবীন্দ্রনাথের গানের লাইনগুলোকেও যেন হার মানিয়ে যায়। এ হাওয়ায় মন ছোঁয়াতে বাদ রইল না গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ১ম বর্ষের ২য় সেমিস্টারের ছাত্র সজল সিংহ। তিনি বলেন, শরতে এক ধরনের অদ্ভুত প্রশান্তি আছে। শরৎই আমার শৈশবের সঙ্গী। শরতের এই কাশফুল আমার শৈশবের স্মৃতিগুলোকে বারবার স্মরণ করিয়ে দেয়। গণ বিশ^বিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র আশরাফুল ইসলাম লিংকন আঁকাবাঁকা পথের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে বলেন, কাশফুল বড় চমৎকার। এর নিজস্ব কোনো গন্ধ নেই। তবুও বিস্ময়কর এক অনুভূতিতে যন্ত্রের মতো কাছে টানে। যেটা উপেক্ষা করার সামর্থ্য থাকে না। কাশফুলের সৌন্দর্যের কাছে হার মেনে থাকতেই যেন স্বাচ্ছন্দ্যবোধ হয়। শরতের কাশফুল মানেই যেন অপু-দুর্গার সেই শৈশবের খুনসুটি। প্রকৃতির সঙ্গে এই দুই কিশোরের শৈশবের অমলিন স্মৃতিগুলো আজও যে অনুষঙ্গটি বাঁচিয়ে রেখেছে সেটা হলো কাশফুল। কথা বলতে বলতে আমরাও কয়েক মুহূর্তের জন্য মনের অজান্তেই যেন শৈশবের দিনগুলোতে ফিরে গেলাম।

বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. কৃষ্ণা ভদ্র বলেন, ‘শরৎ মানেই কাশফুল, নীল আকাশ আর দিগন্তজোড়া সবুজের সমারোহ। আর কাশফুল হলো শরৎ, প্রকৃতি এবং বাংলার মানুষের এক চিরন্তন সঙ্গী। এটা কাউকে বিমর্ষ করে না। কাশফুলের সৌন্দর্য আমাদের মনের সৌন্দর্যকে সমৃদ্ধ করে।’

ক্যাম্পাসের শরৎ উপভোগ করতে করতে কখন যে প্রকৃতির আকাশে সন্ধ্যার আভা নেমে আসে বুঝতেই পারা যায় না। কাশবনেও যেন নেমে আসে বেলা শেষের স্তব্ধতা। এই স্তব্ধতার সুযোগে প্রতিদিন সূর্য মামাও বিদায় জানাতে পিছপা হয় না।