বিদেশি শিক্ষার্থীদের গল্প

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৯ | ৮ কার্তিক ১৪২৬

গণ বিশ্ববিদ্যালয়

বিদেশি শিক্ষার্থীদের গল্প

রোকনুজ্জামান মনি ১:১২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৯

print
বিদেশি শিক্ষার্থীদের গল্প

নয় বছর আগে জাপানের এক বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচয় হয়েছিল বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাজমার সঙ্গে। একই বিশ্ববিদ্যালয়ে একই সঙ্গে পড়ায় বেশ সখ্যও হয়েছিল তাদের মধ্যে। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাড়তে থাকে তাদের আড্ডা আর মেলামেশা। উভয়ে হয়ে ওঠে ভালো বন্ধু।

নাজমার সঙ্গে চলতে চলতেই ভালো লাগা শুরু হয় বাংলা ভাষার প্রতি। আগ্রহ নিয়ে নাজমার কাছে থেকেই শুরু হয় বাংলা ভাষা শিখার প্রক্রিয়া। নাজমার মুখেই প্রথম শোনা ভাষার জন্য বাঙালির জীবন দেওয়ার ইতিহাস। মনের মধ্যে গেঁথে যায় ভাষার প্রতি বাঙালির আবেগ, অনুভূতি আর ভালোবাসার দৃষ্টান্ত। এরপর শুরু হয় বাংলা ভাষা নিয়ে জানাশোনা। এভাবে বেশ কিছু বছর কেটে গেলে, এক সময় সিদ্ধান্ত হয়, বাংলাদেশে এসেই পড়বেন বাংলা ভাষায়, জানবেন এদেশের ভাষার ইতিহাস। কথামতোই পড়তে আসলেন বাংলাদেশে, ভর্তি হলেন ভাষাবিদ অধ্যাপক মনসুর মুসার বাংলা বিভাগে। বলছি সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের দুই জাপানি শিক্ষার্থী সাছি আর হিতমির কথা।

তারা দুজনেই এখন থাকেন ঢাকার অদূরে অবস্থিত সাভারে। এদেশে পড়তে আসা আর দশজন বিদেশির থেকে তাদের চিন্তা ভাবনাগুলো একটু ব্যতিক্রম।

বাংলা ভাষা নিয়ে তাদের ভাবনার কথা বলতে গিয়ে হিতমি বলেন, ‘বাংলা ভাষার প্রতি ভালো লাগা থেকেই এদেশে আসা। এখানে আসার পর থেকে বলতে গেলে ভালোবাসাটা আরো বেড়ে গেছে, তাই বাংলা ভাষা নিয়ে কিছু কাজও করছি। ছোট্ট একটি দেশে এতগুলো আঞ্চলিক ভাষা, এক জায়গার ভাষা অন্য জায়গার ভাষা থেকে বেশ আলাদা। ভাষার এই বৈচিত্র্য আমাকে সব সময় আকৃষ্ট করে। তাই এদেশের আঞ্চলিক ভাষা নিয়ে বিস্তর গবেষণা করতে চাই।’

এখানেই শেষ নয় বাংলাদেশ নাকি এখন তাদের কাছে নিজের দেশ মনে হয়, তাই কাজ করতে চান বাংলাদেশের অসহায় পথশিশুদের নিয়ে। বিদেশি হয়েও বাংলাদেশকে নিয়ে দেখেন অনেক বড় স্বপ্ন। বাংলাদেশকে নিয়ে এমন অনেক স্বপ্নের কথা বলেন প্রবাসী জাপানি শিক্ষার্থী সাছি। তিনি বলেন, আমি জাপান থেকে বাংলাদেশ সম্পর্কে যা জেনে এসেছি, তার অনেকটাই পরিবর্তন হয়েছে এদেশে এসে।

ঢাকা শহরকে নিয়ে অনেক নেতিবাচক ভাবনা ছিল আমার মনের মাঝে, ভাবতাম এত বিশাল যানজট নিয়ে এতটুকু শহরে এত মানুষ থাকে কীভাবে? কিন্তু এখন এদেশে এসে মানুষের সঙ্গে মিশে সবকিছু সহজ হয়ে গেছে আমার কাছে। এদেশের শিশুদের একটা বড় অংশ অসহায় পথশিশু, যারা স্কুলে যেতে পারে না, শিক্ষার আলোয় নিজেকে আলোকিত করতে পারে না। তারা যদি শিক্ষিত না হয় তবে সারা পৃথিবীই তাদের ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাবে।