লিখিত পরীক্ষার পরামর্শ

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর ২০১৯ | ২৯ আশ্বিন ১৪২৬

৪০তম বিসিএস

লিখিত পরীক্ষার পরামর্শ

আতিকুর রহমান নাহিয়ান ৬:০২ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৮, ২০১৯

print
লিখিত পরীক্ষার পরামর্শ

বাংলা পরীক্ষায় ভালো করতে প্রথমেই প্রয়োজন ভাষাগত দক্ষতা। আপনি যদি সাহিত্য মানের ভাষায় উত্তর করতে পারেন তবে অন্যদের থেকে বেশি নম্বর পাওয়া সম্ভব।

দ্বিতীয়, বিষয়টি হলো উপস্থাপনা। আপনি একটা প্রশ্নের উত্তর সঠিক দিচ্ছেন কিন্তু উপস্থাপনা সুন্দর না তাহলে অন্যদের থেকে পিছিয়ে পড়বেন। আমি খাতাটি নান্দনিক করার জন্য কোটেশান এবং টাইটেল লেখার ক্ষেত্রে কালোর পাশাপাশি নীলকালি ব্যবহার করেছিলাম।

তৃতীয়ত, হাতের লেখা সুন্দর হতে হবে এমন নয়, তবে অবশ্যই পঠন যোগ্য অর্থ্যাৎ পরিষ্কার হতে হবে।

আপনি শেষ দিকে তাড়াহুড়ো করে কয়েক পাতা লিখলেন, অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিলেন কিন্তু পরীক্ষক পড়তে গিয়ে যদি পড়তে না পেরে বিরক্ত হয় তাহলে আপনার এত লেখার মূল্য কী!!

চতুর্থত, প্রথমেই ভালো ইম্প্রেশন তৈরি করুন। যে অংশ ভালো পারেন সেটি দিয়ে শুরু করুন। প্রতিটা উত্তর সাহিত্য গুণসম্পন্ন একটা লাইন বা প্রাসঙ্গিক উক্তি দিয়ে এমন ভাবে শুরু করবেন যাতে পরীক্ষক মুগ্ধ হন। পঞ্চমত, প্রতিটা প্রশ্নের জন্য টাইম নির্দিষ্ট করে যাবেন এবং ঐ সময়ের মধ্যেই শেষ করবেন। একটা প্রশ্ন ভালো লিখতে গিয়ে অন্যটি খারাপ না লিখে গড়ে সব অংশে ভালো নাম্বার তোলার টার্গেট রাখুন।

বাংলা প্রথমপত্রের ব্যাকরণ অংশে সহজেই প্রায় সম্পূর্ণ নম্বর পাওয়া সম্ভব। নবম-দশমের বাংলা ব্যাকরণ বইটি পড়বেন। বানান নিয়ে
কনফিউশান তৈরি হলে বাংলা একাডেমির ডিকশনারি অনুসরণ করুন। ভাবসম্প্রসারণ বা সারাংশ পড়ে কমন ফেলানোর চেষ্টা করাটা বোকামি। ভাষাজ্ঞান আর কমনসেন্স ব্যবহার করেই এই দুই পার্টে ভালো করা সম্ভব। বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক উক্তি এবং বিখ্যাত ব্যক্তিদের জীবন থেকে উদাহরণ দিতে পারেন।

ভাবসম্প্রসারণ লেখার ক্ষেত্রে অনেকেই একই লাইনের রিপিটেশন করেন, এই দিকে সতর্কতা অবলম্বন করুন। পদ্যাংশ বা গদ্যাংশটুকু বারবার পড়ে নিজের মাথায় সম্পূর্ণ লেখাটি সাজিয়ে তার পর খাতায় উত্তর করুন।

বাংলা ২য় পত্রে প্রথমেই আছে অনুবাদ। তবে আক্ষরিক অনুবাদ করবেন না, ভাবানুবাদ করুন। এই খানে আপনার ভাষাগত দক্ষতা প্রকাশ করার সুযোগ কাজে লাগান। সংলাপ এর ক্ষেত্রে আমি স্ক্রিপ্ট রাইটিং এর টেকনিক ফলো করে সময়, স্থান উল্লেখ করেছি। সংলাপ এর জন্য সাম্প্রতিক ইস্যু নিয়ে পরিষ্কার ধারণা থাকা উচিত। এজন্য পত্রিকার সম্পাদকীয় পড়া আর টিভির টকশো দেখা যেতে পারে।

হাতে সময় থাকলে রচনা নোট করে পড়ুন। না পারলে অন্তত প্রতিটা রচনার- পয়েন্ট, উদ্ধৃতি, কবিতা, চার্ট, ডাটা, রেফারেন্স, ইত্যাদি বিষয়গুলো একটা আলাদা খাতায় নোট রাখুন। শিল্পবিষয়ক, সরকারের অগ্রগতি বা উন্নয়ন কর্মকা-বিষয়ক রচনার ক্ষেত্রে অবশ্যই সর্বশেষ অর্থনৈতিক সমীক্ষা থেকে ডাটা দিন। যে কোন ক্ষেত্রে ডাটা বা পাইচার্ট দেবার সময় অবশ্যই সোর্স উল্লেখ করবেন। সাম্প্রতিক ইস্যু নিয়ে লিখলে পত্রিকায় এই বিষয়ক কলাম থেকে রেফারেন্সসহ উদ্ধৃতি দিন।

সর্বশেষ কথা, কোনো অবস্থায় প্রশ্ন ছেড়ে আসা যাবে না। প্রশ্ন কমন না পড়লেও বানিয়ে লেখার দক্ষতা অর্জন করুন। সবাইকে শুভকামনা।