সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা

ঢাকা, রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা

রুমান হাফিজ ১:২৭ অপরাহ্ণ, জুলাই ২১, ২০১৯

print
সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা

এইচএসসি পাস করা শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন ভালো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি। এ ক্ষেত্রে বেশির ভাগেরই পছন্দ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কিংবা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রতি। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা সমন্বিত হলেও পাবলিক আর ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এই পদ্ধতি অনুসরণ করছে না। ফলে প্রতিবছর শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের পোহাতে হয় সীমাহীন দুর্ভোগ। ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে তাদের ভাবনা জানাচ্ছেন - রুমান হাফিজ

মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেন
সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার জন্য কাউকে না কাউকে উদ্যোগ নিতে হবে। ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যদি সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া যেত, তাহলে এই কোচিং সেন্টারগুলোর ব্যবসা রাতারাতি বন্ধ করে দেওয়া যেত। এ দেশের অসংখ্য মধ্যবিত্ত-নিম্নমধ্যবিত্ত সন্তানদের সময় বাঁচত, টাকা বাঁচত। সেই সময় এবং টাকা দিয়ে তারা অন্য কিছু করতে পারত, যেটি দিয়ে তাদের জীবনটা আরো একটু আনন্দময় করা যেত!

অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধ হোক
ইসরাত প্রীতি
রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা

এইচএসসি পরীক্ষা শেষ হবার পরদিন থেকেই পরীক্ষার্থীদের মুখে এত্তো বড় একটা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া হয় তাও আবার পরিবার পরিজনদের বিশাল আবেগ অথবা চাহিদার মিশ্রণ ঘটিয়ে। তোকে ডাক্তার হতেই হবে, তোকে বুয়েটে পড়তেই হবে, পাবলিক ইউনিভার্সিটিতে না হলে তোকে দিয়ে কিচ্ছু হবেনা! মেডিকেল ভর্তি প্রস্তুতির বেলায় আমি অন্তত কিছুটা শান্তি পাই, প্রিপারেশন নিয়ে একটা দিন সকলের এক্সাম হচ্ছে সেভাবেই মেডিকেলগুলোতে শিক্ষার্থীরা ভর্তি হচ্ছে। কিন্তু পাবলিক ইউনিভার্সিটি আর ইঞ্জিনিয়ারিং ভার্সিটিগুলোর কথা ভাবলেই ভয় লাগে। একেকটা পাবলিক ভার্সিটিতে এক্সাম দিতে হবে ভিন্ন ভিন্ন দিন, প্রিপারেশন একই হলেও পরীক্ষা দিতে হবে আলাদা আলাদা সময়ে, স্থানে। এর ফলে দেখা যাচ্ছে আজকে রাজশাহী তো আগামীকাল সিলেট আবার পরশু ঢাকা। এরকম করতে করতেই একজন ভালো প্রিপারেশন নেয়া শিক্ষার্থীও বেশ বিড়ম্বনায় পড়ে যায়, এতে করে একদিকে শারীরিকভাবে দুর্বলতা কাজ করে ঠিক অন্যদিকে মানসিকভাবেও প্রস্তুতি অনুযায়ী অনেকেই পরীক্ষায় ফলাফল করতে পারেনা। সমন্বিত ভর্তিপরীক্ষা পদ্ধতি চালু করা হলে ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় ফর্ম তোলার ঝামেলা, যাতায়াত, সময় অপচয় সবকিছুর থেকে বেরিয়ে আসা যেত।

শুভ চিন্তার বাস্তবায়ন জরুরি
আরেফিন আলভি
জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট স্কুল এন্ড কলেজ, সিলেট

বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষার্থীরা এক অর্থে শোষিত গিনিপিগ। হাজারটা নিয়ম ও উদ্ভট পরিকল্পনা শিক্ষার মানকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এর চেয়েও ভয়ানক ব্যপার হলো এই শিক্ষাব্যবস্থা একটি সুবিধাভোগী শ্রেণি তৈরি করছে। মেধাবী ও দরিদ্র শিক্ষার্থী নিয়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কোনো সুষ্ঠু পদক্ষেপ নেই। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা ও ইদানীং হাস্যরসের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। খোদ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন হয়ে দাড়িয়েছে দুর্নীতির মানদণ্ড। ভর্তি পরীক্ষায় একীভূত ব্যবস্থা নিঃসন্দেহে একটি শুভ উদ্যোগ।

ভর্তিযুদ্ধ সহজ চাই
সুপ্তি মালাকার
মতিঝিল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা

আর কিছুদিন পরেই শুরু হয়ে যাবে ভর্তিযুদ্ধ। আমার মতো অনেকেই সেই যুদ্ধে অংশ নিবে। এই যুদ্ধটাকে জীবনের টার্নিং পয়েন্টও বলা যায়। রেজাল্টের কিছুদিন পর থেকেই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ইচ্ছুক যোদ্ধারা ভর্তি ফরম ফিলআপ শুরু করে দেবে। একেক বিশ্ববিদ্যালয়ের আলাদা আলাদা ফরম তোলা, জায়গায় জায়গায় গিয়ে পরীক্ষা দেয়াটা আমাদের জন্য এক কথায় অনেক কষ্টকর। প্রতিটা ফর্ম তোলায় অনেক টাকা ব্যয় হয় যা অনেক পরিবারের জন্য কষ্টকর হয়ে পরে। অন্যদিকে সকল সরকারি বেসরকারি মেডিকেলের পরীক্ষা একসাথে হওয়ার ফলে এখন আর এমন কোনো সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় না। সকল কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়েও একসাথে পরীক্ষা নেওয়া হবে এবছর থেকে। আমরা চাই সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একসঙ্গে হোক।

ঝরে পড়া রোধ হবে
জাফরুল হাসান
ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজ, চট্টগ্রাম

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা সমন্বিত পদ্ধতিতে হওয়া উচিত। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে অনেক শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন জেলায় গিয়ে পরীক্ষা দিতে পারে না এবং এভাবে অনেকেই ঝড়ে পড়ে। সমন্বিত পরীক্ষা পদ্ধতি বাস্তবায়িত হলে একজন গ্রামের ভর্তি পরীক্ষার্থীও দেশের সরকারী বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর জন্য নিজ জেলায় অবস্থান করে পরীক্ষা দিতে পারবে। সর্বোপরি, সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষারই উপকারিতা বেশি।