নিম্ন ও মধ্যবিত্তের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

ঢাকা, রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

নিম্ন ও মধ্যবিত্তের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

অনিক আহমেদ ১:০৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ২১, ২০১৯

print
নিম্ন ও মধ্যবিত্তের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

উচ্চমাধ্যমিক উত্তীর্ণ হওয়ার পর দেশের হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন নিভে যাওয়ার শঙ্কা থাকে শুধু আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে। এদের কথা বিবেচনা করে রাজধানীর অদূরে সাভারে ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় গণ বিশ্ববিদ্যালয়। গত ১৪ জুলাই ছিল এই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।

প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই সমাজের নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা যেন শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রেখে কাজ করে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। তারই অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে অত্যন্ত কম, যা দেশের অন্যান্য প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তুলনা করলেই বুঝা যায়। টিউশন ফি কম হলেও শিক্ষার্থীরা তাদের প্রাপ্য কোনো সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে না। বর্তমানে এখানে ৪টি অনুষদের আওতাধীন ১৭টি বিভাগ চালু রয়েছে। এছাড়া বেশ কয়েকটি মাস্টার্স কোর্সও চালু আছে। শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার ক্ষেত্রে সহায়তার জন্য যাবতীয় সকল প্রয়োজনীয়তা পূরণ করা হয়েছে এবং বাকিগুলো পূরণের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধির জন্য বিষয়ভিত্তিক হাজারো বইসমৃদ্ধ সুবিশাল গ্রন্থাগার, আধুনিক উপকরণ সমৃদ্ধ ল্যাবরেটরি, এজলাস, ভেটেরিনারি হাসপাতাল, ফ্রি ওয়াইফাই সুবিধা ইত্যাদি সবই রয়েছে প্রতিষ্ঠানটিতে।

সর্বশেষ চালু হওয়া ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিমেল সায়েন্সেস বিভাগ। ২০১৬ সালের মে মাসে চালু হওয়া বিভাগটি বর্তমানে দেশের প্রথম ও একমাত্র প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গণ বিশ্ববিদ্যালয়েই পড়ানো হয়। অন্যান্য বিভাগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে গবেষণার ক্ষেত্রেও দারুণ গতিতে এগিয়ে চলেছে নব্য প্রতিষ্ঠিত এই বিভাগটি। ভেটেরিনারি শিক্ষার জন্য যেসব সুবিধাদি প্রয়োজন তার সিংহভাগই প্রদান করতে সক্ষম হয়েছে কর্তৃপক্ষ।

প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই অসাম্প্রদায়িক, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানটির রয়েছে বেশ কিছু ব্যতিক্রমধর্মী পরিচয়। সমাজের অবহেলিত, নির্যাতিত, লাঞ্ছিত তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ তথা হিজড়াদের বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে কাজের যোগ করে দিয়েছে প্রশাসন।

ব্যতিক্রমধর্মীতার আরেক পরিচয় ‘গণ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ’ তথা গাকসুর উপস্থিতি। দেশের প্রথম ও একমাত্র বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে শুধুমাত্র গণ বিশ্ববিদ্যালয়েই রয়েছে ছাত্রসংসদ। দুই বছর পরপর ছাত্রসংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে অত্যন্ত সুষ্ঠু পরিবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভোটে প্রতিনিধি নির্বাচন হয়। এছাড়া দেশের প্রথম ও একমাত্র বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ২০১৩ সালে যাত্রা শুরু করে গণ বিশ^বিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (গবিসাস)।

গৌরবময় অর্জন তথা সাফল্যের ক্ষেত্রে খেলাধুলার ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে। ক্রীড়াক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে। শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার সুযোগ সুবিধাকে অগ্রাধিকার দিতে রয়েছে কেন্দ্রীয় ফুটবল ও ক্রিকেট মাঠ, বাস্কেটবল, ভলিবল, ব্যাডমিন্টন ও টেনিস কোর্ট।

ধারাবাহিকভাবে খেলাধুলাকে আলাদাভাবে গুরুত্ব দেওয়ার পুরস্কারও পেতে শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। সম্প্রতি দেশের সরকারি-বেসরকারি ৬৫ টি বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় বঙ্গবন্ধু আন্ত:বিশ্ববিদ্যালয় স্পোর্টস চ্যাম্প’ ১৯। এতে মোট দশটি ইভেন্টের সাতটিতে অংশগ্রহণ করে চারটিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে গণ বিশ^বিদ্যালয়। জাতীয় পর্যায়ে ক্রীড়াক্ষেত্রেও অবদান রাখছে এখানকার খেলোয়াড়েরা।

বাংলাদেশ জাতীয় প্রমীলা ফুটবল দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন, জাতীয় প্রমীলা হ্যান্ডবল দলের তারকা খেলোয়াড় ছন্দা রানী সরকার গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের আবিষ্কার। এছাড়াও আরো বেশ কিছু খেলোয়াড় রয়েছে, যাদের ক্রীড়া নৈপুণ্য গর্ব করার মত।