কৃষ্ণচূড়ার মায়াবী ক্যানভাস

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৯ | ৩০ কার্তিক ১৪২৬

কৃষ্ণচূড়ার মায়াবী ক্যানভাস

আমজাদ হোসেন হৃদয় ২:২১ অপরাহ্ণ, জুন ৩০, ২০১৯

print
কৃষ্ণচূড়ার মায়াবী ক্যানভাস

কৃষ্ণচূড়া, যা কে কারো হৃদয়েই জাগায় শিহরিত প্রেম। আবহমান কাল ধরেই বাংলার মানুষের কাছে এই ফুলটি যেন ভালোবাসার অনন্য প্রতীক হয়েই রয়েছে। গ্রাম বাংলার বিভিন্ন প্রান্তরে এই কৃষ্ণচূড়া যেন ভালোবাসা পৌঁছে দেয়, মানুষের আবেগকে নাড়া দিয়ে ওঠে। এই কৃষ্ণচূড়াকে নিয়েই কত কবির কবিতা, কত শত গান, কত গল্প। বাদ নেই দেশের বিদ্যাপীঠগুলোতেও। এই দেশের সব প্রেক্ষাপটে যে বিদ্যার প্রান্তর, সবার আগে মাথা তুলে দাঁড়ায়, সেখানে কৃষ্ণচূড়ার লাল যেন সৃষ্টি করে সংগ্রামী প্রতীক। সেই সঙ্গে ভালোবাসার পরশে ভরিয়ে দিয়ে যায় সবার মন।

বেশ অনেকটা জায়গাজুড়ে শাখা-প্রশাখার বিস্তার ঘটিয়ে উদাস হাওয়ায় নড়বড়ে অস্তিত্ব নিয়ে উজ্জ্বল রক্তিম বর্ণের যে ফুলগুলো প্রতিনিয়তই আমাদের হৃদয় হরণ করে, সে আর অন্য কেউ নয়- কৃষ্ণচূড়া। গ্রীষ্মের তাপদাহে ক্লান্ত নয়নে প্রশান্তির বার্তাবাহক এই কৃষ্ণচূড়া। উঁচু আসনে, লাল বসনে রানীর বেশধারী কৃষ্ণচূড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক অনন্য মাত্রা যোগ করে যেন। ডালে ডালে চোখ-ধাঁধানো রঙের ঔজ্জ্বল্য ছড়ায় রক্তলাল কৃষ্ণচূড়া। দীর্ঘ, প্রসারিত গাছে ফুলের প্রাচুর্যে লাল হয়ে ওঠে আকাশ-বাতাস। এ যেন লাল রঙের এক মায়াবী ক্যানভাস, যে কারো চোখে এনে দেয় শিল্পের দ্যোতনা। শামসুর রাহমান লিখেছেন- আবার ফুটেছে দ্যাখো কৃষ্ণচূড়া থরে থরে শহরের পথে/ কেমন নিবিড় হয়ে।

ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য যেন এই কৃষ্ণচূড়া। ঢাবির প্রায় প্রতিটি রাস্তার পাশে রয়েছে কৃষ্ণচূড়া গাছের সারি। ঢাবির শিক্ষার্থীদের মন রাঙিয়ে দিতে কৃষ্ণচূড়ার আগুন রাঙা রূপের বহিঃপ্রকাশ ঘটে এপ্রিল থেকেই, চলে জুন পর্যন্ত। বিশেষ করে ঢাবির ‘মল চত্বর’ হালকা বাতাস ও বৃষ্টিতে হয়ে ওঠে সৌন্দর্যের মূর্ত প্রতীক। যেন সব প্রেম-ভালোবাসা ফুটে ওঠে এই চত্বরে।

কৃষ্ণচূড়া এক ধরনের বৃক্ষ জাতীয় উদ্ভিদ যার ইংরেজি নাম ফ্লেম ট্রি (ঋষধসব ঞৎবব) এবং বৈজ্ঞানিক নাম ডেলোনিক্স রেজিয়া (উবষড়হরী জবমরধ)। এই গাছ চমৎকার পত্র-পল্লব এবং আগুনলাল কৃষ্ণচূড়া ফুলের জন্য প্রসিদ্ধ। এটি ফাবাসিয়ি পরিবারের অন্তর্গত একটি বৃক্ষ। কৃষ্ণচূড়ার ফুল ফোটার আগে কলি দেখতে মোহরের মতো দেখায় তাই হিন্দিতে এই ফুলকে বলা হয় গুলমোহর।

প্রতিবারের মতো এ বছরও কিছুদিন আগে বৃষ্টিস্নাত মল চত্বর যেন যৌবন ফিরে পেয়েছিল এই কৃষ্ণচূড়ায়। ভাইরাল হয়েছিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। যা দেখেছিল দেশের সব মানুষ। আর ঢাবির শিক্ষার্থীরাও যেন হয়েছিল কৃষ্ণচূড়ার প্রেমে অন্ধ, হয়েছিল প্রেমময় কবি। শুধু মল চত্বর নয় অবিনাশী সংগ্রামের প্রতীক রাজু ভাস্কর্যসহ পুরো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যেন হয়েছিল কৃষ্ণচূড়ার গন্ধে মাতাল।

মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আসাদুজ্জামান বলেন, মল চত্বরে সকালবেলা আমার কৃষ্ণচূড়া ফুল দেখতে খুব ভালো লাগে। আমি মাঝে মাঝে সকালবেলা মল চত্বরে কৃষ্ণচূড়া দেখতে চলে যাই, মনটা খুব ফ্রেশ হয়ে যায়। সকালটা শুরু করার জন্য এর চেয়ে ভালো রঙিন দৃশ্য আর হতে পারে না।

সদ্য মাস্টার্স শেষ করা শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষার্থী নাসরিন জেবিন বলেন, শীতে গাছের সব পাতা ঝরে গিয়ে বসন্তে যখন নতুন ফুল ফোটে, এই পত্র ঝরা বৃক্ষের তখন উদিত যৌবন। বড় চারটি পাপড়ি যুক্ত ফুলগুলো কেমন যেন মায়া নিয়ে তাকিয়ে থাকে। গ্রামীণ কিংবা শহুরে নয়ন, কাউকেই মুগ্ধ করতে ব্যর্থ হয় না এই কৃষ্ণচূড়া। এছাড়া অনেক শিক্ষার্থী তাদের ভালোলাগা ও ভালোবাসার কথা ব্যক্ত করেছেন।

কৃষ্ণচূড়া বদলে দেয় আমাদের হৃদয়ের আঙিনা। যে আঙিনায় থরে বিথরে থেকে যায় সাজানো স্বপ্ন আর আগামীর সম্ভাবনায় ভরপুর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যেন অদম্য স্বপ্ন দেখাতেই প্রস্তুত, প্রকৃতির এই অপরূপ লালে সজ্জ্বিত কৃষ্ণচূড়া।