শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৯ | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

১৪ বছরে কুবি

শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা

শাহাদাত বিপ্লব ১২:২২ অপরাহ্ণ, জুন ১৬, ২০১৯

print
শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা

যতদূর চোখ যায় ছোট-বড় পাহাড়ের হাতছানি। তার মাঝে সবুজ গাছগাছালি যেন পাহাড়ের সেই সৌন্দর্যকে শতগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। চারদিকে পাখির কিচিরমিচির শব্দ হৃদয় ছুঁয়ে যাবে। লালমাই পাহাড়ের পাদদেশ ঘিরেই মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে মধ্য-পূর্বাঞ্চলের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। চলতি বছরের ২৮ মে ১৪ বছরে পা দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে নিজেদের চিন্তা-ভাবনা এবং প্রত্যাশা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। লিখেছেন শাহাদাত বিপ্লব।

আদনান কবীর সৈকত
সিএসই বিভাগ

বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া একজন প্রাক্তন কিংবা বর্তমান শিক্ষার্থীর কাছে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপনের আনন্দ অনেকটা নববর্ষ উদযাপনের মতোই। যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম একজন শিক্ষার্থীর নিজের নামের পরপরই তার সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়, সুতরাং বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে প্রতিটি শিক্ষার্থীরই থাকে সীমাহীন স্বপ্ন ও প্রত্যাশা।

কিছু সংকটের পরও আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সামনের দিনগুলোতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রত্যাশিত পরিবর্তন আনা সম্ভব। বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য যে মেগা প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে, সেটির সঠিক বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় একটি আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।

শাহরীমা আলম শশী
অ্যাকাউন্টিং বিভাগ

কোথায় যেন পড়েছিলাম‘ মানুষ বাঁচে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত’। মনে হয়, কথাটা শতভাগ সত্য। আমাদের রঙিন সময়গুলোই কাটে ক্যাম্পাসের স্বল্প এই জীবনে।
এত বন্ধু, এত আড্ডা, এত করে গল্প! শেষ বিকালে পশ্চিম দিগন্তের ও পাড়ে সূর্য ডুবার মনোমুগ্ধকর রক্তিম দৃশ্য দেখার সানসেট ভ্যালি, শহীদ মিনারের পাদদেশে লাল ইটের উঠান, পহাড়ের উঁচুতে খেজুরতলার লালন চত্বর, নয়তো কোনো চায়ের টং, এ যেন শোরগোল আর আড্ডায় মেতে ওঠা নতুন এক স্বপ্নপূরী। জ্ঞান অর্জনেরও স্বর্ণসময় জীবনের পর্ব বিশ্ববিদ্যালয়।

কিন্তু তার জন্য প্রয়োজন বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে গবেষণায় সমৃদ্ধি। তবে তা থেকে অনেকটা বঞ্চিত আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

সাইয়েদ মাখদুম উল্লাহ
আইসিটি বিভাগ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়েছিল দেশের ২৬তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে। বর্তমানে শুধু মধ্য-পূর্বাঞ্চলেরই নয় বরং সমগ্র বাংলাদেশ ছাড়িয়ে, নেপালসহ দেশের বাইরে জ্ঞান পিপাসুরা ভিড় জমাচ্ছেন লাল পাহাড়ের পাদদেশের এই অনিন্দ্য সুদর বিদ্যাপীঠে।

পুরোদমে চলছে অবকাঠামো উন্নয়ন, এরই মধ্যে ১৬৫০ কোটির আধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প এসেছে। এর বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয় পূর্ণ বিশ্বমানে উন্নত হবে ইনশা আল্লাহ।
শিক্ষা, সম্প্রীতি, নৈতিকতা ও সাফল্যের মাত্রা প্রতিনিয়ত বাড়িয়ে নিচ্ছেন মেধাবী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। পাহাড়ে পাহাড়ে প্রাণচঞ্চল ঐতিহাসিক শালবনবিহার কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা এ বিদ্যাপীঠের এখন শুধুই এগিয়ে যাওয়ার সময়।


প্রজ্ঞা পারমিতা
লোকপ্রশাসন বিভাগ

বিশ্ববিদ্যালয় শব্দটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে এক গভীর অনুভূতি। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেই জগৎ ও জীবন সম্পর্কে আরও বিস্তৃত ধারণা পাই আমরা। এখান থেকেই বুঝতে পারি আমাদের এগিয়ে যাওয়ার মূলমন্ত্র কী!

আজ থেকে তিন বছর আগে এসেছিলাম এই নবীন ক্যাম্পাসে। অনেকটা স্বচক্ষেই দেখেছি ছোট্ট এই ক্যাম্পাসটার চড়াই উতরাই। আমাদের ৫০ একরের এই ছোট্ট ক্যাম্পাসটা ১৪ বছরে পা দিয়েছে। প্রকৃতির অকৃত্রিম মায়া দিয়ে সাজানো ভালোবাসার এই ক্যাম্পাসটা এখনো পুরোপুরি গোছানো হয়ে ওঠেনি। প্রকৃতির এই দানকে আমরা এখনো নিজেদের হাতে সাজিয়ে তুলতে পারিনি ভালোভাবে।

এতে প্রয়োজন প্রশাসনের যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত। এখানে নানা সংকট রয়েছে। রয়েছে শিক্ষাসামগ্রীর অভাব।