ভেটেরিনারি সায়েন্সে উচ্চশিক্ষা

ঢাকা, শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৬ আশ্বিন ১৪২৬

ভেটেরিনারি সায়েন্সে উচ্চশিক্ষা

অনিক আহমেদ ৩:০২ অপরাহ্ণ, জুন ০২, ২০১৯

print
ভেটেরিনারি সায়েন্সে উচ্চশিক্ষা

কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে ৮০ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কৃষি খাত ব্যাপকভাবে প্রাণিসম্পদের ওপর নির্ভরশীল। প্রাণিসম্পদের উন্নয়ন ছাড়া কৃষিকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। আর প্রাণিসম্পদের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন দক্ষ ভেটেরিনারিয়ান বা ভেট। ভেটেরিনারি হলো মূলত পশুপালন বিদ্যা ও পশু চিকিৎসা বিদ্যার একত্রিত রূপ।

আধুনিক উপায়ে পশুপালন, প্রজনন, চিকিৎসা প্রভৃতি বিষয়ে একজন ভেটেরিনারিয়ানকে জ্ঞান অর্জন করতে হয়। ভেটেরিনারিয়ান বা ভেট মূলত তাদেরই বলা হয় যারা সব ধরনের প্রাণিসম্পদ ও পোল্ট্রির চিকিৎসা করে থাকে। সুতরাং, প্রাণিসম্পদের সার্বিক উন্নয়ন এবং এ খাতের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিতকরণে একজন ভেটেরিনারিয়ানের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। বর্তমানে বাংলাদেশে নিবন্ধনকৃত ভেটেরিনারিয়ানের সংখ্যা ছয় সহস্রাধিক।

বাংলাদেশে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ১৯৬১ সালে ময়মনসিংহের বাকৃবিতে (বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়) ভেটেরিনারি অনুষদ চালুর মাধ্যমে এই শিক্ষার সূচনা হয়। এরপর ভেটেরিনারি শিক্ষার জন্য একে একে গড়ে উঠেছে ১১টি প্রতিষ্ঠান। এগুলো হলো- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি), শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি), চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় (সিভাসু), বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বশেমুরকৃবি), হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি), পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি), সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (সিকৃবি), ঝিনাইদহ সরকারি ভেটেরিনারি কলেজ (ঝিসভেক), গণবিশ্ববিদ্যালয় (গবি) ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বশেমুরবিপ্রবি)।

এদের মধ্যে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যন্ড এনিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশে ভেটেরিনারি শিক্ষার জন্য একমাত্র বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়। এছাড়া, সম্প্রতি সিরাজগঞ্জে একটি ভেটেরিনারি কলেজের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে এবং সেখানে আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানা গেছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিশেষ করে ইউরোপসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মতো বাংলাদেশেও প্রাণিসম্পদের গুরুত্ব বাড়ছে। অ্যানথ্রাক্স, বার্ড ফ্লু প্রভৃতির মতো ভয়াবহ রোগের প্রাদুর্ভাবের ফলে ভেটেরিনারিয়ানদের গুরুত্ব বেড়েছে। সরকার প্রাণিসম্পদের গুরুত্ব বিবেচনা করে এ খাতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ায় ছেলেমেয়ে সবাই ব্যাপক হারে ভেটেরিনারি শিক্ষার দিকে ঝুঁকছে।

ভেটেরিনারিয়ান হিসেবে ক্যারিয়ার এখন তাই অনেক আশাপ্রদ এবং সম্ভাবনাময়। ভেটেরিনারিয়ান হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে হলে ৬ মাস/১ বছর বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপসহ ৫ বছর মেয়াদি ডিভিএম/ভেট সায়েন্স অ্যান্ড এএইচ কোর্স সম্পন্ন করতে হয়। পড়ালেখা শেষ করে এই বিভাগের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ রয়েছে। FAO, WHO, UNICEF, UNESCO, UN, DFID এর মতো বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় উচ্চ বেতনে চাকরির সুযোগ যেমন রয়েছে, তেমনি চাকরির সুবাদে বিদেশ ভ্রমণের সুযোগও পাবে তারা। এছাড়া ICDDRB, BLRI, LRI, FRI এর গবেষণা প্রতিষ্ঠানেও বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক ওষুধ কোম্পানিতে ভেটদের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক পদ রয়েছে। শুধু তাই নয়, বিসিএসেও ভেটেরিনারিয়ানদের জন্য রয়েছে বিশেষ সংরক্ষিত কোটা।