খায়রুলের উচ্চশিক্ষার সাতকাহন

ঢাকা, বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯ | ১২ আষাঢ় ১৪২৬

খায়রুলের উচ্চশিক্ষার সাতকাহন

আলী ইউনুস হৃদয় ১:৪৩ অপরাহ্ণ, মে ২৬, ২০১৯

print
খায়রুলের উচ্চশিক্ষার সাতকাহন

স্কুলের গণ্ডি পাড়ি দেওয়া সম্ভব হবে কিনা জানতেন না। সঙ্গে ছিল আর্থিক সীমাবদ্ধতা। সে সীমাবদ্ধতার পাহাড় ডিঙিয়ে স্কুলের গণ্ডি পার করে কলেজে ভর্তি হন। এরপর কলেজের পড়াশোনা শেষে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের আকাঙ্ক্ষা। কিন্তু আর্থিক সীমাবদ্ধতা তখনো পিছু ছাড়েনি। সে প্রতিকূলতাকেও হার মানিয়ে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। তখনো জানতেন না, এই উচ্চশিক্ষার গণ্ডি কীভাবে পাড়ি দেবেন? মনে মনে স্থির করেন, ঢাকাতে গেলে একটি ব্যবস্থা হয়ে যাবে। সেই আস্থাকে পুঁজি করেই উচ্চশিক্ষা গ্রহণের স্বপ্নকে লালন করেছেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানা পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আরকানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে যোগাযোগ বিষয়ে মাস্টার অব সায়েন্স ডিগ্রি অর্জন করেন। বলছি যুক্তরাষ্ট্রের সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করার আমন্ত্রণ পাওয়া খায়রুল ইসলামের কথা।

সম্প্রতি তিনি ওয়াশিংটন ডিসির হাওয়ার্ড বিশ্ববিদ্যালয়, ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি-পুরডু ইউনিভার্সিটি ইন্ডিয়াপোলিস, জর্জিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি, উয়েনে স্টেট ইউনিভার্সিটি ইন মিশিগান, সাউদার্ন ইলিনইস ইউনিভার্সিটি ইন কারবনডেলে, বোউলিং গ্রিন স্টেট ইউনিভার্সিটি ইন ওহাইও এবং ইউনিভার্সিটি অব মেমপহিস ইন টেনিসিতে উচ্চতর ডিগ্রি পিএইচডি করার সুযোগ পেয়েছেন।

খায়রুল দীর্ঘ পথচলায় মামা মতিউর আলীর কাছ থেকে অনুপ্রাণিত হয়েছেন। শিখেছেন কীভাবে পছন্দের কাজকে ভালোবেসে সামনে এগিয়ে যাওয়া যায়। খায়রুল বললেন, মামা অভিভাবকের মতো ভূমিকা পালন করেছেন। কখনো আমার কর্মজীবনের লক্ষ্য নির্ধারণে চাপ দেননি। এছাড়া অর্থনৈতিক সহায়তার মাধ্যমে আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা করার পথকে সহজ করে দিয়েছেন।

সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আমন্ত্রণ পাওয়ার আনন্দ আমার কাছে অন্যরকম। দৃপ্ত কণ্ঠে খায়রুল বললেন, একটা সময় আমি স্কুলের গণ্ডি পেরুতে পারব কিনা সন্দেহ ছিল। এখন পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সাতটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তির আমন্ত্রণ পাওয়া সত্যিই দুর্দান্ত অনুভূতি! এই প্রাপ্তির আনন্দ শুধু আমার একার না, এটা যেমন আমার বন্ধুদের প্রাপ্তি আবার দেশের মানুষেরও প্রাপ্তি। এই আমন্ত্রণ আমার অর্জিত জ্ঞানকে আরও বিকশিত করবে। যার মাধ্যমে দেশের কল্যাণে কাজ করতে পারব।

ভবিষ্যতে জনস্বাস্থ্য বিষয়ে গবেষণার কাজে নিযুক্ত হতে চান। সে বিষয়ে খায়রুল বলেন, সারাবিশ্বে জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে। বাংলাদেশও সে ক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই। মানুষ এখন অনলাইনেও সব ধরনের সেবার ধারণা পাচ্ছে। অধিকাংশ মানুষ স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের জন্য ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে থাকেন। একই সঙ্গে কিছু মানুষ স্বাস্থ্যসেবা পেতে অনলাইনের সাহায্যও নিচ্ছেন। এই সেবার প্রক্রিয়াকে বিস্তৃত করতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বিকাশ প্রয়োজন।

খায়রুলের কাছে তরুণদের উদ্দেশে জানতে চেয়েছিলাম। তিনি বললেন, বন্ধু, কাজিনকে সঙ্গে করে বিসিএস পরীক্ষা দিতে নিয়ে গেছি। তখনো মনে হতো আমি কি করছি? সবাই তো ক্যারিয়ারের চাকরির জন্য চেষ্টা করছে। কিন্তু বরাবরই ভেবেছি আমি নিজের ভালোলাগার জায়গায় কিছু করতে চাই আর সেটাই করার চেষ্টা করছি। তাই তরুণদের বলতে চাই, অর্থ কোনো সমস্যা নয়। নিজের ইচ্ছা আর আত্মবিশ্বাসকে পুঁজি করে নিজের ভালো লাগার ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করতে হবে। এক সময় কাক্সিক্ষত সাফল্যে ধরা দেবেই।

২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগে খায়রুল ইংরেজি দৈনিক ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের আরকানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটিতে অ্যাডজানক্ট ইনস্ট্রাকটর হিসেবে যুক্ত আছেন।