বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষায় নোবিপ্রবি

ঢাকা, শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৬ আশ্বিন ১৪২৬

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষায় নোবিপ্রবি

সমৃদ্ধির আলোকবর্তিকা বিনির্মাণে কাজ করছি

জুবাইয়া হক জুবা ১:৫৭ অপরাহ্ণ, মে ২৬, ২০১৯

print
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষায় নোবিপ্রবি

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর সমাজ গঠন এবং উচ্চশিক্ষার প্রসারে ২০০১ সালের ১৫ জুলাই ‘নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০০১’ এর অধীনে প্রতিষ্ঠিত হয় নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। পরবর্তীতে ২০০৬ সালে ৪টি বিভাগ, ১৩ জন শিক্ষক এবং ১৮০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

কালের পরিক্রমায় একযুগ পেরিয়ে নোবিপ্রবির কলেবর যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে তেমনি বেড়েছে শিক্ষা ও গবেষণার গুণগত মান। এই মহাযজ্ঞ সম্পাদনের প্রত্যক্ষ নায়ক হিসেবে যিনি অবিরাম কাজ করে যাচ্ছেন তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণপুরুষ, কর্মবীর উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম অহিদুজ্জামান।

উচ্চশিক্ষায় দেশের সর্বপ্রাচীন বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের খ্যাতনামা শিক্ষক, দেশবরেণ্য শিক্ষাবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. এম অহিদুজ্জামান ২০১৫ সালের ২ জুন এ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেন। শিক্ষা ব্যবস্থার অত্যন্ত রুগ্ন পরিবেশ, শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের আবাসনগত সমস্যা, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের দ্বন্দ্ব আর যানবাহন ও নিরপত্তা সমস্যায় জর্জরিত পরিবেশে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ যখন শঙ্কার মুখে ঠিক তখনি হাতে নতুন সমৃদ্ধির আলোকবর্তিকা নিয়ে কাজ শুরু করেন তিনি।

মহান মুক্তি সংগ্রামের চেতনায় উদ্ভাসিত ড. অহিদুজ্জামান কাজ করে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ২০৪১ তথা সোনার বাংলা বিনির্মাণকে মাথায় রেখে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ড. অহিদুজ্জামান উপাচার্য হিসেবে যোগদানের পূর্বে শিক্ষক সংখ্যা ছিল মাত্র ১০২ জন যা শিক্ষার্থী বিবেচনায় অত্যন্ত অপ্রতুল, কর্মকর্তার সংখ্যা ছিল ৫৯ জন এবং কর্মচারীর সংখ্যা ছিল ২০০ জন। সফলতার এ চার বছরে ড. অহিদুজ্জামানের হাত ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন শিক্ষক সংখ্যা ৩৫১ জন, কর্মকর্তার সংখ্যা ১১৯ জন, কর্মচারীর সংখ্যা ৪৮০ জন।

বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বর্তমানে অর্ধ-শতাধিক পিএইডি ডিগ্রিধারী শিক্ষক আছেন যারা অধিকাংশই ড. অহিদুজ্জামানের হাত ধরেই বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ করে যাচ্ছেন। ১৩ জন প্রভাষক নিয়ে যাত্রা শুরু করা এ বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক, প্রভাষক আছেন যাদের অধিকাংশেরই বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকতা ও গবেষণা করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। এর পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষারত আছেন প্রায় ৭০ জন শিক্ষক। এসব অভিজ্ঞ শিক্ষক ও গবেষকদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে একঝাঁক তরুণ মেধাবী শিক্ষক যারা সমানতালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছেন।

এসব কিছুর প্রধান কারিগর হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন অধ্যাপক ড. এম অহিদুজ্জামান। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণের লক্ষ্যে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সব বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য বাধ্যতামূলক কোর্স ‘স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস’ চালু করা হয়েছে তারই ঐকান্তিক প্রচেষ্টায়। যা আজকের তরুণ প্রজন্মকে দেশপ্রেমী মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে। এখানে প্রথমবারের মতো দেশে চালু করা হয়েছে ‘বাংলাদেশ অ্যান্ড লিবারেশন ওয়ার স্টাডিজ বিভাগ’। এ বিভাগে বাংলাদেশের সমাজ, সভ্যতা, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, রাজনীতি ও ইতিহাস, সর্বোপরি মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সমন্বয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। তৈরি হয়েছে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল’ এবং ‘বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হল’ নামের দুটি নতুন হল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন সমস্যা সমাধানকল্পে ড. অহিদুজ্জামান শিক্ষার্থীদের জন্য বিআরটিসি থেকে চারটি ডাবল ডেকার বাস যেমন সংগ্রহ করেন ঠিক তেমনি ৬০ আসনবিশিষ্ট ৭টি নতুন বাস ক্রয় করেন, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের জন্য ৩টি সিভিলিয়ান, ৩টি মাইক্রোবাস, ডিপিডি দফতরের জন্য পিকআপ এবং মেডিকেলের জন্য সব আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন একটি অ্যাম্বুলেন্স ক্রয় করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করে এই বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন উপাচার্য ড. এম অহিদুজ্জামান।

আধুনিক বিজ্ঞানের নানা বিষয়ের সঙ্গে মেটারিয়াল সায়েন্সের জন্য বিশ্বমানের গবেষণাগার প্রতিষ্ঠা করা হবে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন উপাচার্য ড. এম অহিদুজ্জামান। যেখানে মেকাট্রনিক্স, রোবটিক্স, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, ন্যানো টেকনোলজি, থার্মাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পাঠদান ও গবেষণা করা হবে। আইসিটি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ে ১টি মোবাইল অ্যাপস অ্যান্ড গেইম ডেভেলপমেন্ট ল্যাব এবং ১টি নেটওয়ার্কিং ল্যাব তৈরি হয়েছে তারই হাত ধরে। অচিরেই আইসিটি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠা হতে যাচ্ছে বিজনেস ইনকিউবেটর সমৃদ্ধ পূর্ণাঙ্গ হাইটেক পার্ক।

দেশরত্ন শেখ হাসিনার উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণের সারথী ড. এম অহিদুজ্জামান উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্নকে বিবেচনায় রেখে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে এখানে চালু করেছেন জ্ঞানের নতুন নতুন ক্ষেত্রে নতুন বিষয়াবলি।

জাপানের Kzushu University এর সঙ্গে যৌথভাবে নোবিপ্রবি তৈরি করবে স্যাটেলাইট রিসার্চ স্টেশন। বৈশ্বিক পরিবর্তনের কথা বিবেচনায় নিয়ে ২১০০ সাল নাগাদ বাস্তবায়নযোগ্য ‘ডেলটা প্ল্যান’ (Delta plan) এ দেশের সম্পদ ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগাবার জন্য উপকূলীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অদূরে অবস্থিত উপকূলের ৭৭৮ একর জমির ওপর ‘দেশরত্ন শেখ হাসিনা সমুদ্র বিজ্ঞান ও সমুদ্র সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অধ্যাপক অহিদুজ্জামান কাজ করে চলেছেন - যেখানে ডেল্টা ফরমেশন, সমুদ্র বিজ্ঞান, স্পেস রিসার্চ, ইকো ট্যুরিজম, ম্যানগ্রোভ বনসহ বিভিন্ন বিষয়ে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন গবেষণা সম্ভব হবে। তার জন্য থাকবে বিশ্বমানের গবেষণা জাহাজ।

সম্প্রতি ড. অহিদুজ্জামান জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ১০০টি শিক্ষাবৃত্তি ঘোষণা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণাকে বেগবান করার জন্য রিসার্চ সেলকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি প্রতিবছর শিক্ষক শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাবৃত্তি চালু করেন এ উপাচার্য। স্বপ্নবাজ এ অধ্যাপক সর্বদা আশা রাখেন- নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হবে ‘উন্নত বাংলাদেশের ইউনিক বিশ্ববিদ্যালয়।’