নিরাপদ সড়ক ভাবনা

ঢাকা, শুক্রবার, ২১ জুন ২০১৯ | ৬ আষাঢ় ১৪২৬

নিরাপদ সড়ক ভাবনা

রুমান হাফিজ ১:৫৫ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ০৭, ২০১৯

print
নিরাপদ সড়ক ভাবনা

প্রতিদিন পত্রিকার পাতা খুললেই দেশের কোথাও না কোথাও মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার খবর দেখতে পাই। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে পাকিস্তানে প্রতি ১০ হাজার গাড়ির বিপরীতে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু হয় ১৯ জনের, ভারতে ২৫ জনের। অথচ বাংলাদেশে প্রতি ১০ হাজার গাড়ি ৬০ জনের মৃত্যুর কারণ হয়ে ওঠে! সড়ক দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর মিছিল ক্রমশ বাড়তে থাকবে? না! সব মহলে নিরাপদ সড়ক এখন সময়ের দাবি। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন-রুমান হাফিজ

আইনের কঠোর প্রয়োগের বিকল্প নেই

সড়কে বিশৃঙ্খলা এক দিনেই তৈরি হয়নি, এটি দীর্ঘদিনের আইনি শিথিলতার ফল। সড়কের এই নৈরাজ্যহীনতার নাগপাশ থেকে সাধারণ নাগরিক মুক্তি চায়। সড়ক ব্যবহার নিয়ে সচেতনতার অভাব, রাস্তায় অতিরিক্ত গাড়ির চাপ বিশেষ করে ব্যক্তিগত গাড়ি, চালকদের অপ্রতুল প্রশিক্ষণে অনীহা, অপ্রশস্ত রাস্তা, সাধারণ নাগরিকের অবিবেচনাপ্রসূত চলাফেরা, ট্রাফিক আইন প্রয়োগে শিথিলতা, পরিবহন মালিকদের অতিমুনাফার লোভ সর্বোপরি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতার ফল হলো সড়কের আজকের এই বেসামাল অবস্থা। সড়কের এই অসহনীয় অবস্থার জন্য একদিকে সরকার যেমন রাজস্ব হারাচ্ছে তেমনি কিছু পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
মামুন-অর রশিদ
সহকারী অধ্যাপক, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়

 

প্রতিটি সড়ক হোক নিরাপদ
সড়ক অন্যান্য পথের চাইতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি চলাচল ব্যবস্থা। বেশি দিন হয়নি আমরা দেখেছি, সড়কে ছাত্রদের আন্দোলন। কী শৃঙ্খলভাবে ওরা পথকে নিয়ন্ত্রণ করেছিল। তখন একটি আশা নিয়ে তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরে গিয়েছিল, এবার হয়তো সড়কে মৃত্যু কমবে। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে দেখতে পাচ্ছি, সড়কের দানবীয় তা-ব। ট্রাক, বাসের বেপরোয়া গতি কেড়ে নিচ্ছে তরতাজা প্রাণ। শুরু না হতেই ঝরে যাচ্ছে অনেক জীবন এ সড়কেই। পথচারী থেকে শুরু করে গাড়ির যাত্রী কেউই নিরাপদ নেই সড়কের এই দানবীয় সন্ত্রাস থেকে। সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশা-একটি কঠোর নিয়ম বেঁধে দেওয়া হোক সড়কপথের জন্য। প্রত্যেক মানুষ যেন নিরাপদে চলাচল করতে পারে।
রুনা তাসমিনা
সিনিয়র শিক্ষক মাস্টারমাইন্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, চট্টগ্রাম

 


বর্তমানে সড়ক যেন মৃত্যুফাঁদ
বর্তমানে দেশের সড়কগুলো যেন মৃত্যুফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন দেশের কোথাও না কোথাও সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছেই। এখন সড়কপথে কোথাও যেতেও ভয় লাগে। চালকদের অদক্ষতা, যানবাহনদের মধ্যে অসুস্থ প্রতিযোগিতা, ফিটনেসবিহীন গাড়ি, পথচারীদের রাস্তা পারাপারে অসাবধানতা প্রধান কারণ বলে আমি মনে করি। এগুলোর সমাধান করতে পারলে সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে যেত। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, সড়কে মৃত্যুর এই মিছিল দিন দিন শুধু দীর্ঘ হচ্ছে। কেউ এগিয়ে আসছে না বললেই চলে। দেশের বিভিন্ন স্তরের অব্যবস্থাপনা খুব হতাশ করে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে সড়কের ত্রুটিপূর্ণ অবস্থার সমাধান অত্যন্ত জরুরি।
কামরুল হাসান
শিক্ষার্থী, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

 


দুর্ঘটনায় আর কত প্রাণ ঝরবে
সড়ক দুর্ঘটনায় আর কত স্বজন হারানোর আর্তনাদ শুনবো? আর কত মেধাবী মুখ অকালে ঝরে গেলে প্রশাসন সড়ক ব্যবস্থায় কঠোর আইন বাস্তবায়নের নীতি প্রণয়নে সক্ষম হবে? প্রশ্নগুলো আজ আপামর জনসাধারণের। সড়ক দুর্ঘটনা ও যানজট বাংলাদেশের পরিবহন পরিসীমায় সীমাহীন অব্যবস্থারই প্রতিচ্ছবি। ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল, লাইসেন্সবিহীন অদক্ষ চালকের ছড়াছড়ি, অব্যবস্থাপনা ও অসচেতনতা, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, ট্রাফিক পুলিশের সংখ্যার স্বল্পতা ও দায়িত্বহীনতা, প্রতিযোগিতামূলকভাবে গাড়ি চালানো এবং ওভারটেকিং সড়ক দুর্ঘটনার জন্য সবচেয়ে বেশি দায়ী। আর সে জন্য প্রশাসনকে যথাযথ সড়ক আইন বাস্তবায়ন করাটা এখন সময়ের দাবি।
শারমিন জ্যোতি
শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়