ডাকসু নির্বাচন ও প্রত্যাশা

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০১৯ | ৫ বৈশাখ ১৪২৬

ডাকসু নির্বাচন ও প্রত্যাশা

রুমান হাফিজ ৪:৩১ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১৯

print
ডাকসু নির্বাচন ও প্রত্যাশা

দীর্ঘ ২৮ বছর পর ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন। রাজনৈতিক অঙ্গন ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরাজ করছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন-রুমান হাফিজ

নারীর প্রতিনিধিত্ব তৈরি হোক
প্রায় তিন দশক পর আগামী ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহু কাক্সিক্ষত ডাকসু নির্বাচন। ডাকসুর পূর্ণ রূপের মধ্যেই রয়েছে এর দায়িত্ব ও কর্তব্যের সারকথা। ডাকসুর গঠনতন্ত্রেও বিষয়টি রয়েছে- ‘to act as the voice for students’ অর্থাৎ এ সংগঠন ও নেতারা শিক্ষার্থীদের অধিকার ও প্রত্যাশা নিয়ে কাজ করবে। বিশ্ববিদ্যালয় সিনেটে ছাত্র প্রতিনিধিত্ব অনুপস্থিত ছিল বছরের পর বছর-এটি কাম্য নয়। তাই অনেক পরে হলেও এ নির্বাচন ইতিবাচক। তবে নেতিবাচক ভাবনাটিও মাথায় আসে যে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কি না! সে ক্ষেত্রে সব দলের নির্ভয়ে অংশগ্রহণ ও শিক্ষার্থীদের ভোটে নির্বাচিতদের দায়িত্ব গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। ডাকসু নির্বাচনের মাধ্যমে নারী প্রতিনিধিত্ব তৈরি হোক। এ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব আসবে।

অধিকার আদায়ের প্ল্যাটফর্ম
শুধু আন্দোলন সংগ্রামে নয়, একাডেমিক কার্যক্রমের প্রধান কেন্দ্র হিসেবেও ডাকসু সুদীর্ঘ সময় নানা ভূমিকা রেখেছে, তৈরি করেছে নতুন নেতৃত্ব ও চেতনা। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ডাকসু নির্বাচন না হওয়ায় সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের ন্যায্য অধিকার রক্ষায় কোনো যোগ্য প্রতিনিধিত্ব গড়ে উঠতে পারছে না। ডাকসুর মতো শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম অকার্যকর থাকায় আবাসিক হলগুলোতে সীমাহীন দুর্নীতি ও অনিয়ম বিরাজ করলেও সাধারণ ছাত্রদের প্রতিবাদের কোনো উপায় নেই। ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। সুতরাং আমাদের সবার প্রত্যাশা সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ পরিবেশে ডাকসু নির্বাচন হোক, তৈরি হোক নতুন নেতৃত্ব। যারা আগামী দিনে কাজ করবে দেশ, মা, মাটি এবং মানুষের জন্য।

প্রয়োজন সঠিক প্রতিনিধি বাছাই
ক্যাম্পাসে বের হলে আজকাল নতুন একটা রেশ পাই। ডাকসু নির্বাচনের রেশ। হয়তো টিএসসিতে বসে আছি, ভাইয়ারা লিফলেট ধরিয়ে দিলেন। সেখানে লেখা আমার অধিকারের কথা, ডাকসু নির্বাচনের কথা। তবে সবচেয়ে বড় কথা, আঠাশ বছর পর যে নির্বাচনটা হচ্ছে তার ব্যাপারে আমরা কতটুকু জানি? সত্যি কথা হচ্ছে, খুব কম শিক্ষার্থীই ডাকসু নির্বাচনের ব্যাপারে স্পষ্ট ধারণা রাখে। এখন যেসব বর্তমান শিক্ষার্থী আছেন, সংগত কারণে এর আগে তারা কেউই ডাকসু নির্বাচনের সাক্ষী হননি। এদিক দিয়ে বলা যায় আমরা এর অংশ হতে পেরে ভাগ্যবান। তবে ডাকসু কীভাবে কাজ করে, এর গুরুত্ব কতটুকু, নির্বাচনের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে কী কী পরিবর্তন ও উন্নয়ন হতে পারে-এগুলো সব শিক্ষার্থীকে জানানো অত্যন্ত জরুরি।

মেধাবী ও যোগ্য নেতৃত্ব চাই
সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ডাকসু নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করায় ঢাবি শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরাজ করছে এক উৎসবমুখর পরিবেশ। ডাকসু নির্বাচনের প্রহর গুনছে ঢাবির ৩৮ হাজার শিক্ষার্থী।

দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে ছাত্র প্রতিনিধি না থাকায় শিক্ষার্থীরা তাদের নানা অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। দলীয় লেজুড়বৃত্তিতায় আটকে পড়া শিক্ষার্থীরা হারিয়ে ফেলেছিল তাদের সোনালি স্বপ্ন।

ছাত্র ও জাতীয় রাজনীতিতে যখন মেধাবী ও যোগ্য নেতৃত্বের চরম সংকট, এমতাবস্থায় ডাকসু নির্বাচনের তোড়জোড় আশার আলো হিসেবে দেখছেন অনেকেই।
বহুল কাঙ্ক্ষিত ডাকসু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা ফিরে পাক তাদের অধিকার, বেঁচে থাকুক তাদের শত স্বপ্ন।