ক্যাম্পাসে নবীনদের পদচারণা

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯ | ৬ ভাদ্র ১৪২৬

ক্যাম্পাসে নবীনদের পদচারণা

হাবিবুর রনি ৩:৫৬ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১০, ২০১৯

print
ক্যাম্পাসে নবীনদের পদচারণা

‘ওরে নবীন, ওরে আমার কাঁচা; ওরে সবুজ, ওরে অবুজ, আধমরাদের ঘা মেরে তুই বাঁচা।’ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতার মতোই বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন শিক্ষার্থীরা। বছরের শেষে যখন সবাই ক্লাস, পরীক্ষা, ল্যাব আর অ্যাসাইনমেন্টের চাপে আধমরা হয়ে পড়ে, ক্যাম্পাসের চারদিক যখন জনশূন্যতা দেখা দেয় ঠিক তখনই একঝাঁক তরুণ শিক্ষার্থী আবিভূত হয় সেই আধমরাদের বাঁচাতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস যেন ফিরে পায় তার প্রাণ। এই কচি-কাঁচাদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে ক্যাম্পাসের প্রতিটি স্থান।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ৬টি অনুষদের স্নাতক ১ম বর্ষের ক্লাস একযোগে শুরু হয়েছে। প্রতিবছর বিরাট এক ভর্তিযুদ্ধ পাড়ি দিয়ে ১২ হাজার শিক্ষার্থী থেকে মাত্র ১২৩০ শিক্ষার্থী পড়ার সুযোগ পায় এ বিশ্ববিদ্যালয়ে। এ বছরও ওরিয়েন্টেশন ক্লাসের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে নবীন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের পথচলা। সবুজ ঘাসের চাদরে মোড়ানো প্রকৃতিকন্যা খ্যাত সাড়ে ১২০০ একরের বিশাল এক ক্যাম্পাস। বসন্ত আগমনের সঙ্গে সঙ্গে ক্যাম্পাসে নবীনদের আগমনে বাকৃবি সেজেছে এক অপরূপ সাজে। ছবির মতো সুদৃশ্য ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়, দেশি-বিদেশি নানা গাছে পূর্ণ অনিন্দ্যসুন্দর বোটানিক্যাল গার্ডেন, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত বিজয় ৭১ ভাস্কর্য, আমবাগান, বকুলতলা, জব্বারের মোড়, কেআর মার্কেট, হতাশার মোড়, মরনসাগর সর্বত্র নবীনদের জয়জয়কার। প্রত্যেক বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বত্র তাদের সরব উপস্থিতি বুঝতে পারা যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় ৭১ ভাস্কর্যের সামনে যেতেই দেখা মিলল এক দল নবীন শিক্ষার্থীর। কেউ একসঙ্গে সেলফি তুলছে, কেউবা একসঙ্গে বসে আড্ডা দিচ্ছে। সবার চোখে-মুখে যেন এক অন্যরকম প্রাপ্তির আনন্দ। স্বপ্নের ক্যাম্পাসে তারা এসেছে। এ জন্য সবার মধ্যে যেন এক ধরনের বাড়তি উত্তেজনা কাজ করছে।

বিশ্ববিদ্যায়ের কৃষি অনুষদে ভর্তি হয়েছেন আদনান সাঈদ অনিক। বাকৃবিতে ভর্তি হতে পেরে কেমন লাগছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্কুলজীবন থেকেই আমার স্বপ্ন ছিল দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে ভর্তি হওয়ার। যেদিন এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে প্রথম ভর্তি পরীক্ষা দিতে এসেছিলাম সেদিনই এ ক্যাম্পাসের প্রতি আমার ভালোলাগা জন্মে। এ ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য আমাকে বিমোহিত করে তুলেছে। সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে সেই সঙ্গে আমার কঠোর অধ্যাবসায়ের ফলে স্বপ্নের ক্যাম্পাসে ভর্তি হতে পেরে আমি গর্বিত। এখন ইচ্ছা ভালোভাবে লেখাপড়া করে ভবিষ্যতে একজন দক্ষ কৃষিবিদ হয়ে ওঠার মাধ্যমে দেশের কৃষিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

কৃষি অনুষদের নবীন আরেক শিক্ষার্থী সানজিদা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে নিজেকে বন্ধনহীন পাখির মতো উন্মুক্ত মনে হচ্ছে। আগে কখনো একা বাড়ির বাইরে থাকিনি। প্রথম প্রথম একটু খারাপ লাগত কিন্তু বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে মিশে খারাপ লাগাটা কেটে গেছে। হলের বড় আপুরা এখানে অনেক আন্তরিক। এককথায় বলতে গেলে জীবনের সবচেয়ে অন্যতম একটি অভিজ্ঞতা হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের হল জীবন।

অনিক, সানজিদাদের মতো নবীনরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিচিত্র ধরনের স্বপ্ন নিয়ে এ বিশ^বিদ্যালয়ে পড়তে এসেছে। এভাবেই অনেক নবীন শিক্ষার্থীর স্বপ্নপূরণের ক্ষেত্র হয়ে উঠছে এ ক্যাম্পাস। নতুনদের জন্য সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও মাদকমুক্ত একটি ক্যাম্পাস উপহার দিতে পারলে তাদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবন আনন্দে পরিপূর্ণ হবে। এরা নবীন, এরা তরুণ, এরাই তো আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। এদের স্বপ্নগুলো বাস্তবে পরিণত হলে দেশের কৃষি সেক্টর আরও সমৃদ্ধ হবে এবং দেশ একদিন খাদ্যে তথা কৃষিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে।