তারুণ্যের আগামী

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৯ মার্চ ২০১৯ | ৫ চৈত্র ১৪২৫

তারুণ্যের আগামী

রুমান হাফিজ ১:৪৭ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ০৬, ২০১৯

print
তারুণ্যের আগামী

স্বাধীনতার ৪৭ বছর পূর্ণ করেছে বাংলাদেশ। ইতোমধ্যে উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতিও পেয়েছে। আগামীর বাংলাদেশ নিয়ে কি ভাবছে আমাদের তারুণ্য, কেমন বাংলাদেশ তারা চায়? লিখেছেন- রুমান হাফিজ

সমৃদ্ধ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে উঠুক
১৯৭১ সালে দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর স্বাধীনতার সূর্য উদিত হয়েছিল বাংলার আকাশে। নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে ইতোমধ্যে স্বাধীনতার ৪৭ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। গত বছর জাতিসংঘ বাংলাদেশকে এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে পদার্পণের ঘোষণা দিয়েছে। নিঃসন্দেহে এটি আমাদের সেরা অর্জনসমূহের একটি। অনুন্নত দেশ হিসেবে আমরা বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছ থেকে সুযোগ-সুবিধা পেতাম ২০২৪ সালের পর সেগুলো আর পাব না। এ জন্য আমাদের বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। আর এ চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবেলায় তরুণরাই রাখতে পারে সবচেয়ে বড় ভূমিকা। তাই তরুণদের উপযুক্ত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিশ্বমানের নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। আগামী দিনে উন্নত, সমৃদ্ধ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে উঠুক।

 

সন্ত্রাস এবং জঙ্গিবাদমুক্ত দেশ চাই
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথা ধরে বলতে চাই, বিজয়ের মাসে বাংলাদেশের মানুষ তাদের সুচিন্তিত মতামতের মাধ্যমে আবারও বিজয় অর্জন করেছে। এটা আমাদের জন্য বড় সৌভাগ্যের। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে অবস্থান করছে। উন্নয়নের ছোঁয়া দেশের সর্বত্র বিদ্যমান। জাতির জনকের সুযোগ্য কন্যার হাত ধরেই বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে রোল মডেল হিসেবে উপস্থাপন করতে চলছে। তবে বড় কষ্ট লাগে, দুর্নীতি, মাদক, সন্ত্রাস এবং একাত্তরের পরাজিত শক্তিরা এখনো আমাদের মাঝে ঘাপটি মেরে আছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালনকারী মহাজোট সরকারের হাত ধরেই বাংলাদেশ সন্ত্রাস এবং জঙ্গিবাদমুক্ত হবে।

 

বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি চাই
বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে লেগেছে উন্নয়নের ছোঁয়া। তবে আমাদের কিছু সমস্যাও রয়েছে যা আমলে নিয়ে নবনির্বাচিত সরকারকে যত দ্রুত সম্ভব এসব সমস্যার সমাধান করা দরকার বলে আমি মনে করি। লাখো তরুণ পড়াশুনা শেষ করে বেকারত্বের অভিশাপ মাথায় নিয়ে বসে আছেন। এসব তরুণদের কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তার জন্য যেন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। যারা প্রশ্নফাঁসের মতো ঘৃণিত অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তিসহ প্রশ্নফাঁস সমূলে নির্মূল করতে মাদক থেকে তরুণ সমাজকে বাঁচাতে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে।

 

বাংলাদেশ হোক তারুণ্যের
আগামীর বাংলাদেশ হবে কর্মশক্তিপূর্ণ তরুণ সমাজের। যেখানে তাদের নতুন চিন্তাধারার মাধ্যমে প্রকৃত পরিবর্তনের আগমন ঘটাবে। তরুণরা সমাজের দ্বারা ভীত কিংবা সমালোচিত না হয়েই তাদের মতামত স্বাধীনভাবে প্রকাশ করতে পারবে। যা দেশকে একমুখী চিন্তাধারা হতে মুক্তি দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তরুণদের গণতন্ত্রের অনুশীলন করাবে কেননা আগামী দিনে দেশের হাল তাদেরই ধরতে হবে। দেশের গুপ্তধন বলতে আমি বাংলাদেশের পরিবর্তনশীল তরুণ সমাজকেই দেখি যারা প্রতিনিয়ত তাদের নতুন চিন্তাধারার মাধ্যমে ক্রমশ নতুন নতুন আবিষ্কারের এবং পরিবর্তনের প্রভাবক হবে। এ জন্য আগামীর কর্ণধার তথা তরুণদের তাদের দক্ষতা ও যোগ্যতার সাপেক্ষে দেশের সেবার সুযোগ দেওয়া উচিত।

 


শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বাজেট দরকার
আমি এমন একটা বাংলাদেশ চাই। যেখানে শিক্ষা ব্যবস্থায় একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষার্থী না হয়ে শিক্ষার্থী হবেন। একজন শিক্ষক চাকরীজীবী না হয়ে একজন প্রকৃত শিক্ষক হবেন। শিক্ষার্থীদের আদর্শ হবেন। শিক্ষা ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বাজেট থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার জন্য আলাদাভাবে অর্থ বরাদ্দ হবে। প্রত্যেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা থাকবে। মানুষের বাকস্বাধীনতা পূর্ণভাবে থাকবে। দেশের প্রত্যেকটি মানুষ নিজের জায়গায় সৎ ও সচেতন থেকে যথাযথ দায়িত্ব পালন করবেন। আমার এ দেশটি সত্যি সত্যি এক দিন বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।

 

নিরাপদ বাংলাদেশ চাই
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় এসেছে। এটা যেমন আমাদের জন্য সুখবর, তেমনিভাবে এই সরকারের কাছে আমাদের প্রত্যাশার জায়গাটাও বৃদ্ধি পেল। দুঃখজনক হলেও সত্য, স্বাধীনতার সাতচল্লিশ বছর পরও আমরা পুরোপুরি নিরাপদ হতে পারিনি। এখনো মা তার সন্তানকে বাইরে পাঠিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়, আমার সন্তানটা ঠিকঠাক মতো ফিরে আসতে পারবে তো? বিশেষ করে নারী এবং শিশুদের কথিত নরপিশাচদের লালসার স্বীকার হতে হয়। যত দ্রুত সম্ভব এসব অমানুষদের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করে সত্যিকারের নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।