বিদায় বেলায় সমুদ্র বিলাস

ঢাকা, বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

বিদায় বেলায় সমুদ্র বিলাস

শাকিম ও আবুল হাসান ১১:০২ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ০২, ২০১৮

print
বিদায় বেলায় সমুদ্র বিলাস

মনটা যেন আজ পাখির ডানা, হারিয়ে যেতে তাই নেই তো মানা। হ্যাঁ সদ্য স্নাতকের পাঠ চুকিয়ে আমরা নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি বিভাগের দ্বিতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থীরা হারিয়ে গিয়েছিলাম সমুদ্রে। কথিত আছে প্রকৃতিতে ছড়িয়ে থাকা দুঃখ ভুলানোর অন্যতম স্থান হলো সমুদ্র। যেহেতু পরবর্তী সময়ে আমাদের সবাই একসঙ্গে হওয়ার সম্ভাবনা কম সে জন্য শেষ বেলায় দুঃখগুলো বিসর্জন দিয়ে হাসি আনন্দে মেতে উঠতে গিয়েছিলাম নীল পানি ঘেরা দ্বীপ সেন্টমার্টিনে।

সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর থেকে টেকনাফের উদ্দেশে আমাদের বাস ছাড়ে। টেকনাফ পৌঁছে হালকা নাশতা করেই আমরা জাহাজে করে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে রওনা হই।

একদিকে আরাকান পাহাড় ঘেরা মিয়ানমার আর অন্যদিকে সবুজের সমারোহে আচ্ছন্ন প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ। সাদা রঙের সি-গাল পাখিগুলো পদপ্রদর্শকের মতো ছুটে চলছে আমাদের জাহাজের সঙ্গে তাল মিলিয়ে। তাদের কলতানে সবার মন জুড়ালো। আমাদের ছুড়ে দেওয়া চিপস-বিস্কুট মুহূর্তেই লুফে নিচ্ছে সি-গাল পাখিগুলো। আর পাখিদের সেসব ধরে খাওয়ার দৃশ্য ছিল মনোমুগ্ধকর। এ যেন এক অপূর্ব দৃশ্য।

নাফ নদীর পানিতে সূর্যের আলোর ঝিকিমিকি আর অসংখ্য সি-গালের আনন্দ কোলাহল দেখতে দেখতে এগিয়ে চললাম। আকাশের নীল আর সমুদ্রের নীল মিশে যাওয়া, তীরে বাঁধা নৌকা, নান্দনিক নারিকেল বৃক্ষের সারি আর ঢেউয়ের ছন্দে মৃদু পবনের কোমল স্পর্শ উপভোগ করতে করতেই আমরা দুপুর প্রায় ১২টায় দিকে সেন্টমার্টিন পৌঁছে যাই। হোটেলে পৌঁছেই দুপুরের খাওয়া এবং খানিকক্ষণ বিশ্রাম শেষে আমরা চলে যাই সমুদ্রসৈকতে।

সৈকতে পৌঁছাতে না পৌঁছাতেই নীল জলের সফেদ ফেনার ঢেউ একে একে আছড়ে পড়ল আমাদের পায়ের কাছে। স্বচ্ছ নীল জল দেখে কোনোমতেই গা ভেজানোর লোভ সামলাতে পারছিলাম না।