কলঙ্কময় আগস্ট নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভাবনা

ঢাকা, রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ | ১০ আশ্বিন ১৪২৯

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

কলঙ্কময় আগস্ট নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভাবনা

ডেস্ক রিপোর্ট
🕐 ৬:৫৭ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৫, ২০২২

কলঙ্কময় আগস্ট নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভাবনা

জাতির কাছে কলঙ্কময় দিন ১৫ আগস্ট। শোষণ-কাঠামো থেকে বাঙালিকে মুক্ত করেছিলেন যিনি তাঁকেসহ সপরিবারকে হত্যা করা হয় এই দিনে। সারাজীবন বাঙালির স্বাধিকার ও অধিকার আদায়ে সংগ্রাম করেছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি চার হাজার ৬৮২ দিন জেলও খেটেছেন। হয়েছেন নানান নির্যাতনের শিকার। তারপরেও কথা বলেছেন বাঙালির অধিকার আদায়ে। দেশকে শত্রুমুক্ত করার জন্য দিয়েছেন স্বাধীনতার ডাক।

পেয়েছে বাঙালিরা স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র। যখন সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনি বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়। বিপথগামীরা শুধু বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেনি হত্যা করেছে একজন সোনার বাংলার কারিগর’কে। কলঙ্কময় ১৫ আগস্ট ও তরুণদের ভাবনা নিয়ে তুলে ধরেছেন সহকর্মী জয়নাল আবেদীন...

সমগ্র পৃথিবীর আদর্শের নাম বঙ্গবন্ধু

আগস্ট মাস বাঙালীর জীবনের এক কালো অধ্যায়। বাংলাদেশের ইতিহাসে যার নামটি উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো দীপ্যমান তিনি হলেন বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমান। ১৫ আগস্ট বাঙালী তাদের নক্ষত্র ও তাঁর পরিবারের সদস্যকে হারিয়ে ফেলে। বঙ্গবন্ধু শুধু বাঙালীর নয় বরং সমগ্র পৃথিবীর এক বলিষ্ঠ নেতা ও আদর্শ। কিন্তু দুঃখের বিষয় বাঙালী জাতি মুজিব আদর্শকে লালন করে না। মুজিব যে সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখেছেন সেই সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় তরুণ প্রজন্ম প্রত্যয়ী নয়। আজ ১৫ আগস্ট ইতিহাসের সেই জঘন্যতম দিন, আজকের এইদিনে তরুন প্রজন্মের কাছে প্রত্যাশা-তারা মুজিব আদর্শকে মুখে নয় অন্তরে লালন করবে। আমার বিশ্বাস তরুণ প্রজন্মই পারে আদর্শ লালনের মধ্য দিয়ে মুজিবকে ভাস্বর করে রাখতে। জাতির পিতাকে হারানোর সেই দুঃসহ স্মৃতি আমাদের মনে বেদনার সৃষ্টি করে, আমরা সেটিকে অনুপ্রেরণা হিসাবে উপলব্ধি করি। তিনি শতকোটি বাঙালির হৃদয়ে বেঁচে আছেন, চিরকাল থাকবেন।

শাহাজাদী, শিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

বঙ্গবন্ধু এক নক্ষত্রের নাম

বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নক্ষত্রের নাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর আদর্শ, অনুপ্রেরণা, বিচক্ষণতা তরুণ প্রজন্মের অনুপ্রেরণা। ছাত্রজীবন থেকে দেশ ও জাতির স্বার্থে সংগ্রাম করতে গিয়ে বারবার তিনি কারাভোগ করেছেন। তারপরও বঙ্গবন্ধুকে কেউ থামিয়ে রাখতে পারেননি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দেশের জন্য লড়াই করেছেন। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধ ঐতিহাসিক ভাষণের মধ্য দিয়ে মানুষের মনে স্বাধীনতার বীজ বপন করেছিলেন। স্বাধীনতা সংগ্রামে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রেণিত হয়ে ১৯৭১ সালে ১৬ ডিসেম্বরে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে নষ্ট করতে চেয়েছিলো কিছু কুচক্রী মানুষ। কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করতে পারলেও বঙ্গবন্ধুর যে আদর্শ সেটা তরুণ প্রজন্মের ভিতরে রয়ে গেছে। আমাদের মতো তরুণরাই বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে লালিত করে ‘বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা’ গড়বে এটাই প্রত্যাশা।

মো. মিরান হোসেন, শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়।

শোককে শক্তিতে রুপান্তর করতে হবে

নতুন প্রজন্মের কাছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক মহানায়ক। বাংলাদেশের প্রতিটি জায়গায় তাঁর ছোয়া আজও মিশে আছে। ১৯৭১ সাল থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত তাঁর হাত ধরে ফিরে এসেছিল বাঙালির সোনালী দিন। কিন্তু সে দিন কে বেশিদিন টিকতে দেয়নি গণহত্যাকারীরা। ১৯৭৫ সালে ১৫ ই আগস্ট একটি কালো অধ্যায় বাঙালির কাছে। প্রজন্মের পর প্রজন্মের কাছে এই দিনটি শিহরিত ও মর্মান্তিক দিন হিসেবে থাকবে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নকে চিরনিদ্রায় শায়িত করেছে এদেশের দেশীয় বিপথগামী লোকেরা। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করলেও তাঁর আদর্শ ধারণ করে এ দেশের তরুণ প্রজন্ম। যদিও জাতীয় শোক দিবসটিতে প্রজন্মের মনে শোকের ছায়া নেমে আসবে। তারপরেও প্রজন্মের প্রতিটি তরুণ-তরুণী আগস্ট কালো রাতকে স্মরণ রেখে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নকে বাস্তবায়নে গড়ে তুলছে সোনার বাংলা। শোককে শক্তিতে রুপান্তর করে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

অনামিকা আক্তার, শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়।

বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশকে এগিয়ে নেবে তরুণ প্রজন্ম

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের প্রথম প্রহরে সেনাবাহিনীর উচ্ছৃঙ্খল কিছু বিপথগামী সদস্যের দ্বারা ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর সড়কের বাসভবনে সপরিবারে শহীদ হন বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এছাড়া ঘাতকের হাতে প্রাণ বিসর্জন দেয় তার পরিবারের অন্য সদস্যরাও। ওই সময় দেশে না থাকায় প্রাণে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানা। তবে বাংলাদেশকে সোনারবাংলা গড়ার যে স্বপ্নদ্রোষ্টতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হারিয়ে বাংলাদেশ পরিণত হয়েছিলো মেরুদন্ডহীন রাষ্ট্রে। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশকে স্বাধীন করতে বাঙালিকে ঐক্যবদ্ধ করতে সাহায্য করেছিলেন। ঘাতকরা বঙ্গবন্ধুর দেহকে হত্যা করলেও তাঁর চেতনা, আদর্শ ও সাহসিকতাকে হত্যা করতে পারিনি। প্রজন্মের হতে প্রজন্ম এগিয়ে নিয়ে যাবে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশকে।

শুভব্রত মন্ডল শুভ, শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়।

বঙ্গবন্ধুর আদর্শই হোক জীবন গড়ার মূলমন্ত্র

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যার নেতৃত্বে ১৯৭১ সালের ১৬ ই ডিসেম্বর পৃথিবীর বুকে জন্ম হয়েছিলো ‘বাংলাদেশ’ নামক স্বাধীন রাষ্ট্রটি’র। বাংলাদেশ আর বাঙালি জাতির অধিকার আদায়ের সংগ্রাম করতে করতেই যার জীবনের অর্ধেকের বেশি সময় কেটে গেছে সেই বাঙালিদের হাতেই ১৯৭৫ সালের ১৫ ই আগস্ট তাঁকে সপরিবারে নির্মমভাবে খুন হতে হয়েছিলো। সেদিন সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী অফিসারদের হাতে বঙ্গবন্ধুসহ তাঁর পরিবারের মোট ১৮ জন সদস্য খুন হন। ইতিহাসের সেই কালো অধ্যায়কে স্মরণীয় করে রাখতে প্রতিবছর ১৫ ই আগস্টকে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালন করা হয়। তাই, বঙ্গবন্ধুর জীবনাদর্শকে দেশের বর্তমান তরুণ প্রজন্মের কাছে ছড়িয়ে দিতে পারলেই গড়ে তোলা সম্ভব ক্ষুধা, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, সন্ত্রাসমুক্ত বাংলাদেশ।

আয়শা সিদ্দিকা উর্র্মি, শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়।

 
Electronic Paper