পথ চলার ৬১ বছর

ঢাকা, সোমবার, ৩ অক্টোবর ২০২২ | ১৮ আশ্বিন ১৪২৯

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

পথ চলার ৬১ বছর

তানিউল করিম জীম
🕐 ২:১০ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ০৭, ২০২২

পথ চলার ৬১ বছর

দেশের কৃষিশিক্ষা ও গবেষণার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)। এটি ময়মনসিংহ শহরে অবস্থিত। কৃষিবিজ্ঞানের সকল শাখা এর আওতাভূক্ত। মানসম্পন্ন উচ্চতর কৃষিশিক্ষা ব্যবস্থার নিশ্চয়তা বিধানের মাধ্যমে দেশে কৃষি উন্নয়নের গুরুদায়িত্ব বহনে সক্ষম তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক জ্ঞানসম্পন্ন দক্ষ কৃষিবিদ, প্রাণিবিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদ ও কৃষি প্রকৌশলী তৈরির লক্ষে ১৯৬১ সালের ১৮ আগস্ট প্রতিষ্ঠিত হয় এ বিশ্ববিদ্যালয়।

 

প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দেশের কৃষির উন্নয়নে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে কাজ করে চলেছে এখানকার গ্র্যাজুয়েটরা। আজ বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে বেড়েছে কয়েকগুণ বেশি খাদ্য শস্য উৎপাদন। যেটি সম্ভব হয়েছে কৃষিবিদদের অবদানে (কৃষি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে যারা স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন তাদের কৃষিবিদ বলা হয়)। বাকৃবির হাজার হাজার কৃষি গ্র্যাজুয়েট দেশের বিভিন্ন কৃষি সেক্টরে নিজেদের সম্পৃক্ত করে দেশের কৃষিকে সমৃদ্ধ করে চলেছেন।

১৮ আগস্ট প্রতিষ্ঠানটি ৬১ বছর পেরিয়ে ৬২ বছরে পদার্পণ করবে। এই ৬১ বছরের পথ চলায় দেশের কৃষিতে এসেছে অনেক সাফল্য। ধান, সরিষা, কুল, সয়াবিন, আলু, আম, লিচু, মুখিকচুস বেশ কিছু ফসলের কয়েকটি করে উন্নত জাত উদ্ভাবন করেছে এই বিশ্ববিদ্যালয়। প্রায় সাড়ে ১১ হাজার ফলদ, ভেষজ প্রজাতির বৃক্ষসমৃদ্ধ এখানকার জার্মপ্লাজম সেন্টারটি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এবং দেশে প্রথম। গাঙ মাগুর, কই, বাটা মাছ, তারাবাইন, গুচিবাইন, বড় বাইন, কুঁচিয়াসহ বিভিন্ন মাছের কৃত্রিম প্রজনন পদ্ধতিও উদ্ভাবন করেছেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা ও গবেষণাকে বেগবান করার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বেশকিছু বিশেষায়িত গবেষণাগার।

বিশ্ববিদ্যালয়টির গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য ১৯৮৪ সালের ৩০ আগস্ট বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সিস্টেম প্রতিষ্ঠা করা হয়। বাউরেস উদ্ভাবিত উন্নত কৃষি প্রযুক্তিগুলো সম্প্রসারণের জন্য ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রসারণ কেন্দ্র। এ সম্প্রসারণ কেন্দ্রের মাধ্যমে বিভিন্ন উন্নত প্রযুক্তি মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া হয়। গত বছর বাউরেসের অধীনে ৩৪৭৬ গবেষণাটি সম্পন্ন হয়েছে।

ময়মনসিংহ শহর থেকে চার কিলোমিটার দক্ষিণে পুরোনো ব্রহ্মপুত্র নদের পশ্চিম তীরে এক হাজার ২০০ একর জায়গায় অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়টিতে মোট ছয়টি অনুষদে ৪৩টি বিভাগ রয়েছে। এখান থেকে বর্তমানে ৮ টি বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রী প্রদান করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে এ পর্যন্ত ৫০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি দিয়েছে। বর্তমানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী সাত হাজার ৯২৩ জন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ৫৬৩ জন।

বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ছেলেদের জন্য ৯টি ও মেয়েদের জন্য ৫টি আবাসিক হল (সর্বশেষ শেখ হাসিনা হল) রয়েছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দিক দিয়ে এটি প্রকৃতকন্যা নামে পরিচিত। সবুজ গাছ-গাছালিতে ভরা ১২০০ একরের এই ক্যাম্পাস সবাইকে আকৃষ্ট করে। তাই বার বার দর্শণার্থীরা ছুটে আসে এই সবুজ চত্ত্বরে।

 
Electronic Paper