নিরাপদ খাদ্য এবং অশুভ প্রতিযোগিতা

ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২০ | ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭

নিরাপদ খাদ্য এবং অশুভ প্রতিযোগিতা

ইকবাল সিরাজী ৯:৪২ অপরাহ্ণ, জুলাই ০৭, ২০২০

print
নিরাপদ খাদ্য এবং অশুভ প্রতিযোগিতা

# সাড়ে ৩ বছর লেগেছে দেশি গাভির নিরাপদ দুধের ব্যবস্থা করতে

# প্রায়ই আমাদের কাছে সর্ষের তেল থাকে না সম্মানিত ভোক্তাকে দেবার জন্যে

# মফস্বলে গ্রাম ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থায় থেকেও নিরাপদ শাকআনাজ খুঁজে পাই না বললেই চলে

# চরাঞ্চলে হেটে হেটে হয়রান হই, দেশি মুরগির ডিম পাই না বললেই চলে

# নিজে সরাসরি বহুবার সুন্দরবনে গিয়ে দেখেছি জেনেছি বুঝেছি, খোদ মূল জায়গাতেও মধু নিয়ে নানারকম প্রতারণা

প্রত্যেকটি ধাপে প্রচুর সময় দিয়েছি - দিচ্ছি (২০০৫ - ২০১১- ২০১৬ থেকে টানা আজকের দিন অবদি), প্রচুর পড়ছি, অর্থ শ্রাদ্ধ ঘটাচ্ছি, প্রচুর দৌড়ছি, পরিশ্রম করছি, বড় অংকের বিনিয়োগ করেছি, বিনিময়ে শুধু মানসিক শান্তি যে, ভালো কাজ করছি, এর বাইরে লাখ লাখ টাকা ভর্তুকির ব্যাপারি আছে কেবল।

কিন্ত হুট করে ইদানিংকালে দেখছি, প্রচুর লোকজন নিরাপদ খাদ্যের আয়োজন নিয়ে মাঠে নেমে গেছেন। দুদিনেই গাভির দুধ পেয়ে গেলেন, গরুর ঘানির আনলিমিটেড তেল সরবরাহ করছেন, সারাক্ষণ সুন্দরবনের মধু বিক্রি করছেন, তাও আনলিমিটেড, প্রচুর দেশি মুরগির ডিম বিক্রি করছেন। তা, আলাদিনের চেরাগের মারফতে হচ্ছে নাকি সাহেব !!

সরল ভোক্তার প্রতি অনুরোধ, টাকা আর শরীরের কথা ভেবে, নিরাপদ খাদ্য কেনার আগে, সরবরাহকারী ব্যক্তির ব্যাপারে একটু জেনে বুঝে নিন দয়া করে, এবং নিজেকেও প্রশ্ন করুন, এতো এতো নিরাপদ খাদ্যপণ্যের যোগান হলো কী করে? ব্যক্তি সৎ না হলে, পণ্য সঠিক হয় কী করে?

শরীর তো সাহেব।!! একটু বুঝে শুনে রয়ে শয়ে কেনা ভালো নয় কি?

নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাকে ধারণ করা, লালন করা, নির্লোভ হওয়া, নিজে গ্রহণ করা এবং ত্যাগী হওয়া, আর নিরাপদ খাদ্য বিক্রেতা হওয়া কিন্তু এক বিষয় নয়। স্রেফ বিক্রেতা হওয়া মানেই ব্যবসা- লাভ!! গুণ মান ভালোবাসার ব্যাপার নেই। সবাই একটু ভেবে দেখবেন কি !! নইলে সামনের দিনে নিরাপদ খাদ্যের নামে মহা বিপর্যয় আসছে।

সবাই সাবধান...... প্লিজ

নিরাপদ খাদ্যের ভোক্তা - শুভাকাঙ্ক্ষী - বিনিময়কারী - উৎপাদক - সহযোগী যোদ্ধা - ভুক্তভোগী ..... সবার পক্ষে

আপনাদের ইকবাল সিরাজী

[প্রধান নির্বাহী/ নিখাদ প্রকৃতি]

 

বাংলাদেশ সেফ ফুড এলায়েন্স

পুরানা পল্টন লেন, ঢাকা