পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে মন্তব্য বনাম উত্তর

ঢাকা, শনিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে মন্তব্য বনাম উত্তর

ফাহমিদুল হক ৯:৩৫ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১১, ২০১৯

print
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে মন্তব্য বনাম উত্তর

মন্তব্য : ‘নিজেদের বেতন নিজেরা দেবে এবং নিজেদের খরচ নিজেরাই চালাবে, সরকার সব টাকা বন্ধ করে দেবে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। সরকার কেন টাকা খরচ করবে? সেটাও তাদের চিন্তা করতে হবে, তারা কোনটা করবে।’

উত্তর : তত্ত্ব ও চর্চা অনুযায়ী স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের ব্যয় সরকারই বহন করে। নিজে নিজে খরচ বহন করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলো প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, পরিচালনা নীতি নিজে নিজে ঠিক করে। সরকার সেখানে হস্তক্ষেপ করে না। স্বায়ত্তশাসিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজেদের খরচ নিজেদের চালানোর কথা নয়, সরকারেরই এটা দেওয়ার কথা। সরকারের টাকা পাবলিকের টাকা।

একটি দেশের নিজের প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালনার জন্য কিছু মানবসম্পদ লাগে, সরকার সেখানে নিজের প্রয়োজনে বিনিয়োগ করবে, প্রায় ফ্রিতে পড়ে মানবসম্পদ রাষ্ট্রের সেবার জন্য উপযুক্ত হয়ে গড়ে উঠবে। বিজ্ঞানী, হিসাবরক্ষক, অর্থনীতিবিদ, কেরানি-আমলা, ব্যবস্থাপক দরকার রাষ্ট্রের, সরকার তার স্বার্থেই বিশ্ববিদ্যালয়ে টাকা ঢালবে। এখানে দয়া-দাক্ষিণ্যের কিছু নেই। পাবলিকের করের টাকায় যে সরকার চলে সে সরকার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বেতনকড়ি ও অন্যান্য খরচ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিতে পারে না।

মন্তব্য : ‘বিশ্বের আর কোথাও বাংলাদেশের মতো এত স্বল্প খরচে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ নেই।’

উত্তর : কথাটি সঠিক নয়। জার্মানি, সুইডেন, ফিনল্যান্ড, নরওয়ে, ফ্রান্স, স্লোভেনিয়া এরকম বেশ কিছু দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে কোনো ফি লাগে না। আমেরিকায় ইউনিভার্সিটিতে পড়তে প্রচুর টাকা লাগে, কিন্তু হাইস্কুল অবধি (এইচএসসি) ফ্রি। প্রথম দেশগুলো ওয়েলফেয়ার নীতিতে চলে, আমেরিকা পুরাই পুঁজিবাদী। সবই উন্নত দেশ। ঠিক আছে, আমাদের মতো প্রান্তিক পুঁজিবাদী দেশ শ্রীলঙ্কার কথা বলি।

শ্রীলঙ্কায় স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পুরোই ফ্রি। একটি দেশ যখন অনুন্নত থেকে উন্নত হতে চায়, সে সমাজতান্ত্রিক আর পুঁজিবাদী যাই হোক না কেন, শিক্ষায় প্রচুর বিনিয়োগ করতে হয়। তা কেবল দালানকোঠায় বিনিয়োগ নয়। আবার দালানকোঠা নির্মাণও প্রয়োজন, তবে তাতে ঐতিহ্যমুখিতা ও প্রতিবেশবান্ধব স্থাপত্যরীতি, নান্দনিক বোধ থাকতে হবে। দুর্নীতির অভিযোগ তো থাকাই যাবে না।

ফাহমিদুল হক
অধ্যাপক